ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল: সর্বোচ্চ ১৪২%, সর্বনিম্ন ১০০% বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০১:১১ পিএম

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল: সর্বোচ্চ ১৪২%, সর্বনিম্ন ১০০% বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব

ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠছে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর এ প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা রয়েছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হার ও বাস্তবায়নের অন্যান্য বিষয়কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন কাঠামোর বিস্তারিত বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে।

চূড়ান্ত পর্যায়ে নতুন বেতন কাঠামো

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবের প্রায় সব বিষয়ই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা।

প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বেতন বৃদ্ধির হার এবং সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার অন্যতম বিষয় হচ্ছে সময়োপযোগী বেতন কাঠামো। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি করে আসছেন সরকারি কর্মচারীরা।

১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ১৪২ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন বেতন বৃদ্ধির হার প্রস্তাব করা হয়েছে ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বিভিন্ন গ্রেডে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। তবে কোন গ্রেডে কত টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে, তা মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও পরবর্তী প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত জানা যাবে।

বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের সম্ভাবনা

মন্ত্রিসভা নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন করলে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

প্রজ্ঞাপন জারির পরই নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর তারিখ, গ্রেডভিত্তিক বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যাবে।

এর আগে কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব?

নতুন পে স্কেল নিয়ে এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এটি ঘোষণা হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

তার ওই বক্তব্যের পর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে স্কেল নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর গ্রেড ও বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

জুলাইয়ে পে স্কেল নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য

এর আগে গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি বলেছিলেন, কাজ শেষ হলে তা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হবে।

এর ধারাবাহিকতায় এখন নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ নতুন পে স্কেল?

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়ই নয়, সরকারি ব্যয়ের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা বাড়লে সরকারের পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য ও আবাসন ব্যয়, চিকিৎসা ও শিক্ষা খরচসহ দৈনন্দিন ব্যয় বেড়েছে। ফলে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে অনেকের জীবনযাত্রা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়লে সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বাজারে ভোগব্যয়ও বাড়তে পারে। তবে এর প্রভাব মূল্যস্ফীতি ও সরকারের সামগ্রিক বাজেট ব্যয়ের ওপর কীভাবে পড়বে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

সব মিলিয়ে নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এখন শেষ হওয়ার পথে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত কাঠামোর অংশ—মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই গ্রেডভিত্তিক বেতন ও অন্যান্য সুবিধার সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!