ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

"একটি চাকরির বিপরীতে ৫-৬ লাখ আবেদন, দেশে শিক্ষিত বেকার প্রায় চার কোটি: কর্মসংস্থানে নতুন পরিকল্পনা সরকারের"

দৈনিক আজ ও আগামীকাল ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় চার কোটি শিক্ষিত বেকার রয়েছে। অন্যদিকে একটি চাকরির পদের বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়ছে। অথচ সেই তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।

রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা এতটাই বেড়েছে যে, অফিস সহকারী বা নিম্নপদস্থ চাকরির ক্ষেত্রেও হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে। ফলে শুধু সনদ অর্জন করলেই চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। এ বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের প্রচলিত চাকরির চিন্তার বাইরে এসে দক্ষতা অর্জন ও নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ (সৃজনশীল অর্থনীতি) গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত চাকরির বাইরে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী, শিল্পী, ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাজকে আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করে আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদেশের শ্রমবাজারেও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েও সরকার কাজ করছে।

কৃষি খাতে সরকারের নানা উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যাতে তারা সহজে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

নবীনদের উদ্দেশে সফলতার বার্তা

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাই ভবিষ্যতের সাফল্য নির্ধারণ করবে। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবদুল লতিফ।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ আবুল বাশার, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইসলাম এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের কৃষি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বেশি সম্পৃক্ত হয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!