ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

বিয়েতে যাওয়ার পথে মেঘনায় ট্রলারডুবি, একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার; নিখোঁজ বাবা

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

বিয়েতে যাওয়ার পথে মেঘনায় ট্রলারডুবি, একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার; নিখোঁজ বাবা

ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুদিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের কর্তা হেলাল উদ্দিন (৫৫)।

নিহতরা হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) এবং পাঁচ বছর বয়সী ছেলে সামিন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে তাদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো শনাক্ত করেন।

বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিতে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামের উদ্দেশে ট্রলারে রওনা দেন হেলাল উদ্দিনের পরিবারসহ অন্যরা।

ট্রলারটিতে গরু-ছাগলসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। বৈদ্যেরবাজারের দিকে যাওয়ার পথে বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। প্রবল বাতাস ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতিতে ট্রলারটি উল্টে মেঘনা নদীতে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর ট্রলারে থাকা আটজন কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়।

এ সময় রায়েসা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিখোঁজ ছিলেন একই পরিবারের চারজন

ট্রলারডুবির পর হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজীব, মেয়ে সামিয়া ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলে সামিন নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় প্রথম দিনের অভিযান স্থগিত করা হয়।

পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে টানা উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। দীর্ঘ সময় ধরে নদীতে তল্লাশি চালানো হলেও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারটি এবং নদীতে থাকা গরু-ছাগল উদ্ধার করা হয়।

শনিবার সকালে একে একে তিন মরদেহ উদ্ধার

দুই দিনের উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার সকালে আবারও মেঘনা নদীতে তল্লাশি শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

ভোরে নদীতে সামিয়া (১৭)-এর মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে ডুবুরি দল নদীতে অভিযান চালিয়ে সজীব (২৪) ও পাঁচ বছর বয়সী সামিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদী থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা তাদের মরদেহ শনাক্ত করেন।

মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লার হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

এখনো নিখোঁজ হেলাল উদ্দিন

দুর্ঘটনার পর থেকে হেলাল উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে শনিবারও মেঘনা নদীতে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল অভিযান চালাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো হেলাল উদ্দিন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

স্বজনদের আহ্বান

সামিয়ার মামা হায়াত মিয়া বলেন, শনিবার ভোরে মেঘনা নদীতে সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সজীব ও শিশু সামিনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

স্বজনরা মরদেহগুলো শনাক্ত করার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলসহ স্থানীয় সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

ট্রলারডুবির পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা মেঘনা নদীতে ধারাবাহিকভাবে তল্লাশি চালিয়ে আসছেন। নদীর স্রোত ও আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি উদ্ধার কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এখন নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে জীবিত বা তার মরদেহ উদ্ধারের জন্য নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!