বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা ৮০ কাউন্টের বিপুল পরিমাণ সুতা খোলা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহনের অভিযোগে নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সুতা আটকের ঘটনায় দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দেওয়া শুল্ক-কর সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল যদি অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে স্থানীয় বাজারে চলে আসে, তাহলে তা শুধু বন্ড ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহারই নয়, বরং বৈধভাবে শুল্ক-কর পরিশোধ করে কাঁচামাল আমদানি করা দেশীয় শিল্পের জন্য অসম প্রতিযোগিতার ঝুঁকিও তৈরি করে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও নরসিংদীর মাধবদীর বিভিন্ন গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ সুতা আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব পণ্য আটকের ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে শিল্প খাতে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আটক করা সুতার কার্টনে ‘CHINA ORIGIN’ এবং ‘CM80S/1’-এর মতো পণ্যের পরিচিতি দেখা গেছে। ঘটনাসংক্রান্ত ভিডিওচিত্রেও বিপুল পরিমাণ সুতা গোডাউনে মজুত অবস্থায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

তবে আটক পণ্যের প্রকৃত আমদানিকারক, কোন প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্সের আওতায় এগুলো আমদানি করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাজারে যাওয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
বন্ড সুবিধার পণ্য স্থানীয় বাজারে গেলে ক্ষতি কোথায়?
বন্ড সুবিধার মূল উদ্দেশ্য হলো রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্ক ও করের বিশেষ সুবিধায় আমদানির সুযোগ দেওয়া। এর ফলে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে পারে।
কিন্তু এই সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার না করে যদি স্থানীয় বাজারে বিক্রি বা সরবরাহ করা হয়, তাহলে সুবিধাটির উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
কারণ, একই ধরনের কাঁচামাল দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সাধারণ আমদানি প্রক্রিয়ায় শুল্ক-কর পরিশোধ করে সংগ্রহ করতে হয়। ফলে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য যদি কর-শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই স্থানীয় বাজারে প্রবেশ করে, তাহলে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবেশ সমান থাকে না।

শিল্পোদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নরসিংদী-নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় তদন্ত চান উদ্যোক্তারা
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আটক হওয়া সুতার বিষয়ে শুধু পণ্য জব্দ করলেই তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। বরং পণ্যটির আমদানি থেকে শুরু করে পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং সম্ভাব্য গন্তব্য—পুরো সরবরাহ চেইন অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে তদন্তে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাওয়ার কথা বলছেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে—সুতা কোন প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে, কোন বন্ড লাইসেন্সের আওতায় পণ্যটি খালাস হয়েছে, আমদানির উদ্দেশ্য কী ছিল, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা কতটুকু, পণ্যটি কোন গোডাউনে কীভাবে পৌঁছেছে এবং আটক সুতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বন্ড হিসাবের কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না।
একই সঙ্গে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও রপ্তানি তথ্যের সঙ্গে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণ মিলিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।
বিটিএমএ: পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত প্রয়োজন
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি বলেন, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আটক সুতার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে বন্ড ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহারের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
তিনি বলেন, শুধু পণ্য আটক করাই যথেষ্ট নয়। পণ্যটি কার নামে আমদানি হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্সের আওতায় এসেছে, কীভাবে সংশ্লিষ্ট গোডাউনে পৌঁছেছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় যাওয়ার কথা ছিল—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

বিটিএমএ সভাপতির মতে, প্রকৃত আমদানিকারক, সরবরাহকারী ও পরিবহন চেইনের সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ আরও এলাকায়
শিল্পসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শুধু নরসিংদী বা নারায়ণগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা সুতা ও অন্যান্য কাঁচামালের অননুমোদিত মজুত কিংবা বাজারজাতকরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের গতিপথ, গুদাম ও ব্যবহার যাচাই আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাদের দায়ী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমদানি ও বন্ড হিসাব মিলিয়ে দেখার দাবি
শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, কোনো বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট পরিমাণ সুতা বা অন্য কাঁচামাল আমদানি করলে তার বিপরীতে কী পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে এবং কতটুকু পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে—সেসব তথ্য পর্যালোচনা করা জরুরি।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বন্ড রেজিস্টার, আমদানি নথি, বিল অব এন্ট্রি, সংশ্লিষ্ট চালান, গুদাম হিসাব, উৎপাদন রেকর্ড এবং রপ্তানি নথি পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে তা শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষ করে আটক সুতার পরিমাণ যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে এর উৎস ও গন্তব্য নিয়ে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।
বন্ড সুবিধা বাতিল নয়, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার দাবি
দেশীয় টেক্সটাইল মিল মালিকদের একটি অংশ বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানালেও রপ্তানিমুখী শিল্পের স্বার্থে বৈধ বন্ড সুবিধা বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন।
তাদের মতে, বন্ড সুবিধা বাতিল করা হলে প্রকৃত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্ক-করসহ আমদানি করতে হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে।
তাই বন্ড সুবিধা বাতিলের পরিবর্তে ব্যবস্থাটিকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারির প্রস্তাব
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের গতিপথ আমদানি থেকে ব্যবহার পর্যন্ত ডিজিটালভাবে অনুসরণ করা গেলে অপব্যবহারের সুযোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এ জন্য আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, গুদামজাতকরণ, ব্যবহার ও রপ্তানি—প্রতিটি ধাপের তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।
একই সঙ্গে ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি, নিয়মিত গোডাউন পরিদর্শন এবং আকস্মিক যাচাই জোরদার করারও দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
তাদের মতে, সব প্রতিষ্ঠানকে একইভাবে হয়রানি না করে যেসব প্রতিষ্ঠানের আমদানি, উৎপাদন ও রপ্তানি তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করা হলে প্রশাসনিক দক্ষতাও বাড়বে।
বিটিএমএ’র নজরদারি
বিটিএমএ-এর পক্ষ থেকে নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আটক সুতার ঘটনা তদারকি করার কথা জানানো হয়েছে। সংগঠনটি আটক পণ্যের প্রকৃত আমদানিকারক শনাক্তকরণ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বন্ড হিসাব যাচাই এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য সম্ভাব্য বন্ড গুদাম এবং বাজারজাতকরণ চ্যানেলের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পে অসম প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
বাংলাদেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সুতা ও কাপড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহ করে। ফলে এই খাতে উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা রপ্তানি শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পোদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল যদি অনুমোদিত ব্যবহার থেকে বিচ্যুত হয়ে স্থানীয় বাজারে প্রবেশ করে, তাহলে শুল্ক-কর পরিশোধ করে উৎপাদনকারী দেশীয় মিলগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
এর প্রভাব শুধু টেক্সটাইল মিলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্থানীয় কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
উৎস থেকে গন্তব্য—পুরো চেইন তদন্তের দাবি
নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আটকের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে পুরো সরবরাহব্যবস্থা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।
তাদের মতে, তদন্তে শুধু গোডাউনে পাওয়া সুতার হিসাব করলেই হবে না। পণ্যটি কোথা থেকে এসেছে, কার নামে আমদানি হয়েছে, কোন বন্ড লাইসেন্সের আওতায় খালাস হয়েছে, কোন পরিবহন ব্যবস্থায় কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্রেতা বা গন্তব্য কী ছিল—এসব তথ্যও যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বন্ড হিসাব, উৎপাদন ও রপ্তানি তথ্যের সঙ্গে আটক পণ্যের পরিমাণ মিলিয়ে দেখলে কোনো অনিয়ম বা অসামঞ্জস্য থাকলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
রাজস্ব সুরক্ষা ও শিল্পের স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা চান উদ্যোক্তারা
শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, বন্ড সুবিধা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রণোদনা। তাই এই সুবিধার অপব্যবহার হলে একদিকে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।
তাই নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আটক সুতার ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা, বন্ড হিসাব যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে বন্ড ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, গোডাউনভিত্তিক নজরদারি এবং আমদানি-উৎপাদন-রপ্তানি তথ্যের সমন্বিত যাচাই নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
তাদের ভাষ্য, প্রকৃত রপ্তানিমুখী শিল্প যাতে নির্বিঘ্নে বন্ড সুবিধা পায় এবং একই সুবিধার অপব্যবহার করে কেউ যাতে স্থানীয় বাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিতে না পারে—এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

