ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

আড়াইহাজারে ভ্যাট চালান ছাড়াই ৩ কোটি টাকার সুতা জব্দ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

আড়াইহাজারে ভ্যাট চালান ছাড়াই ৩ কোটি টাকার সুতা জব্দ

ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ভ্যাট চালানপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে মজুত করে রাখা প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সুতা জব্দ করেছে জেলা কাস্টমস, আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট (সিইভিসি)। শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলার পুরিন্দা বাজারে অবস্থিত অনিক ট্রেডার্সের চারটি গুদামে অভিযান চালিয়ে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা মোট ৭২ হাজার ৯৪৪ কেজি সুতা জব্দ করেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। জব্দ করা সুতার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ভ্যাট ফাঁকি রোধ, অবৈধভাবে পণ্য মজুতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অনিক ট্রেডার্সের চারটি অনিবন্ধিত গুদামে তল্লাশি চালিয়ে প্রয়োজনীয় কর চালানপত্রবিহীন বিভিন্ন ধরনের সুতা উদ্ধার করা হয়।

চারটি গুদামে মিলেছে বিপুল পরিমাণ সুতা

ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা জানান, আড়াইহাজারের পুরিন্দা বাজারে অবস্থিত অনিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাজী মোবারক মোল্লার চারটি গুদামে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় গুদামগুলোতে মেটালিক ইয়ার্ন, পলিয়েস্টার ইয়ার্ন ও নাইলন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের সুতা মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়।

উদ্ধার করা সুতাগুলোর উৎপত্তিস্থল চীন ও ভারত। অভিযানে মোট ৭২ হাজার ৯৪৪ কেজি সুতা জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সুতার বিপরীতে প্রয়োজনীয় ভ্যাট চালানপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে পণ্যগুলোর বৈধতা, আমদানি-পরবর্তী সরবরাহ এবং প্রযোজ্য রাজস্ব পরিশোধের বিষয়টি যাচাইয়ের গুরুত্ব সামনে এসেছে।

ভ্যাট চালানপত্র না থাকায় রাজস্ব ফাঁকির সন্দেহ

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চালানপত্র সংরক্ষণ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ। এসব নথির মাধ্যমে পণ্যের উৎস, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা যায়।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ সুতা প্রয়োজনীয় কর চালানপত্র ছাড়া মজুত অবস্থায় পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংরক্ষণ ও লেনদেনের নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে শুধু চালানপত্র না পাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ বা দায় নির্ধারণ করা যায় না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আমদানি নথি, ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব, ভ্যাট রিটার্ন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে আমদানি করা সুতার ক্ষেত্রে আমদানি-সংক্রান্ত নথি, শুল্ক-কর পরিশোধের তথ্য এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহের হিসাব পর্যালোচনা করলে পণ্যগুলোর বৈধতা ও রাজস্ব-সংক্রান্ত অসংগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেট জানিয়েছে, ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় এবং সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কী পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ধরনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জব্দ করা পণ্যের পরবর্তী অবস্থা কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজস্ব ফাঁকি রোধে নজরদারির গুরুত্ব

বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পের সরবরাহব্যবস্থায় সুতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এ খাতে আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর এবং ভ্যাটসংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।

পণ্য মজুত ও সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকলে রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে নিয়মিত তদারকি, আমদানি ও সরবরাহসংক্রান্ত নথি যাচাই এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া রাজস্ব সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আড়াইহাজারের পুরিন্দা বাজারে অনিক ট্রেডার্সের চারটি গুদামে অভিযান এবং প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের সুতা জব্দের ঘটনা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। এখন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যগুলোর বৈধতা এবং রাজস্ব-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদের মূল তথ্য:

অভিযানের স্থান: পুরিন্দা বাজার, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ।
প্রতিষ্ঠান: অনিক ট্রেডার্স।
জব্দ করা পণ্যের পরিমাণ: ৭২ হাজার ৯৪৪ কেজি সুতা।
আনুমানিক বাজারমূল্য: ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
পণ্যের ধরন: মেটালিক ইয়ার্ন, পলিয়েস্টার ইয়ার্ন ও নাইলন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের সুতা।
পণ্যের উৎপত্তিস্থল: চীন ও ভারত।
অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা: জেলা কাস্টমস, আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!