পাবনার ঈশ্বরদীতে বাসের চাপায় আনোয়ার হোসেন (৪৬) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কর্মী ছিলেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মুনশিদপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় ব্র্যাকের কার্যালয়ে প্রোগ্রামার পদে কর্মরত ছিলেন।
কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আনোয়ার হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজের উদ্দেশ্যে বের হন। পাবনার দিক থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ঈশ্বরদীর দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।
পথে মুনশিদপুর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি বাস তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে বাসের নিচে চাপা পড়েন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর বাসটি তাকে বেশ কিছুদূর টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাকশী হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।
পাকশী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকালে আনোয়ার হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে মাঠপর্যায়ের কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। পাবনার দিক থেকে ঈশ্বরদীর দিকে যাওয়ার সময় মুনশিদপুর এলাকায় একটি বাস পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি বাসের নিচে চাপা পড়েন এবং বাসটি তাকে কিছুদূর টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
এসআই আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সড়কে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয়দের মধ্যে ভিড় তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
প্রাথমিকভাবে বাসের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও সংশ্লিষ্ট যানবাহন সম্পর্কে তদন্তের পর আরও তথ্য জানা যাবে।
কর্মস্থলে আর ফেরা হলো না আনোয়ারের
কর্মজীবনের প্রয়োজনে প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে মাঠপর্যায়ে বের হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার প্রাণহানি ঘটে।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

