ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেওয়ায় যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলোর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য তাদের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব দেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর পর ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রচেষ্টার ফল পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর বিধিনিষেধ
বেসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও ওমান তাদের দেশে ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করেছে বলেও দাবি করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।
এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ধন্যবাদ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় স্কট বেসেন্ট যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তেহরান যাতে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য আমাদের আরও কাজ বাকি রয়েছে এবং আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।’
বেসেন্টের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি এবং দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও আর্থিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে বলে বেসেন্ট জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিমান যোগাযোগে প্রভাব
ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত হলে দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পরিধি কী—তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারের ঘোষিত নীতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করে আসছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে ইরান অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে এবং ওয়াশিংটনের নীতিকে একতরফা অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সর্বশেষ পদক্ষেপে যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকার প্রশংসা করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

