ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

ছবিঃ সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক এক কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে জামায়াত ও বিএনপির আট নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, নাশকতা মামলায় আটক কৃষক লীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিষেধ করার পরও কয়েকজন ব্যক্তি থানায় এসে বারবার তদবির ও চাপ প্রয়োগ করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং উভয় পক্ষের নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নাশকতা মামলায় কৃষক লীগ নেতা আটক

মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে একটি নাশকতা মামলায় আটক করা হয়।

আটকের পর তাকে মিরপুর থানায় নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় আসেন।

পুলিশের ভাষ্য, তারা হাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের এমন তৎপরতা থেকে বিরত থাকতে বললেও তারা বারবার একই দাবি জানাতে থাকেন।

থানায় তদবির করতে গিয়ে আটজন আটক

পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও তদবির অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে থানায় আসা আটজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।

পুলিশের দাবি, তারা সবাই নাশকতা মামলায় আটক হাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য থানায় এসেছিলেন।

পুলিশের বক্তব্য

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদের নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধ করার পরও তারা বারবার তদবির করতে থাকেন।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়

পুলিশ জানায়, আটক আটজনকে পরে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর উভয় দলের নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে হাফিজুর রহমান হাফিজের বিরুদ্ধে যে নাশকতা মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে, সেই মামলার বিস্তারিত তথ্য এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

ঘটনার পর চিথলিয়া এলাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে থানায় গিয়ে আসামি ছাড়ানোর জন্য তদবিরের ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতা মামলায় আটক ব্যক্তির বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!