ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি আড়াই হাজার প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি আড়াই হাজার প্রার্থী

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেছে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অন্য একটি হিসাবে এ সংখ্যা দুই হাজার ২০০-এর বেশি বলে জানা গেছে।

নিয়োগপত্র না পাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কেন অনেকের নিয়োগ আটকে গেছে, যাচাই-বাছাইয়ে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ কী—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।

যেসব কারণে নিয়োগ আটকে যাওয়ার তথ্য

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগের আগে সম্পন্ন করা ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাইয়ে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া, ডোপ টেস্টে সমস্যা, স্বাস্থ্য সনদের ঘাটতি এবং শিক্ষাগত সনদে অসংগতি পাওয়ার কারণে কিছু প্রার্থীর নিয়োগ আটকে থাকতে পারে।

এর মধ্যে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য পাওয়ার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি প্রার্থীর নিয়োগ আটকে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। তবে কোন প্রার্থীর ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তালিকা বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ফলে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একটি অংশ নিজেদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের দাবি, কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হয়ে থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে এবং প্রত্যেক প্রার্থীর নথি পৃথকভাবে পুনঃযাচাই করতে হবে।

বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ মন্ত্রীর

নিয়োগপত্র না পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিয়োগপত্র নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর পর্যন্ত কেউ নিয়োগপত্র না পেলেও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এর আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেন তিনি। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া, যাচাই-বাছাই এবং নিয়োগপত্র প্রদানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাঁচ দফা দাবি চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের

এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’।

সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিয়োগ থেকে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষভাবে পুনঃযাচাই করা, তথ্যগত ভুল থাকলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া, প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করা, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।

প্রার্থীদের ভাষ্য, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর তারা নিয়োগের আশায় ছিলেন। কিন্তু নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের অনেকেই চাকরি হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাই যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল স্বচ্ছভাবে প্রকাশের পাশাপাশি যাদের বিষয়ে আপত্তি রয়েছে, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

পরবর্তী সময়ে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভেরিফিকেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের পরিকল্পনা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীদের ১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের কথা রয়েছে। এরপর ৪ অক্টোবর পদায়নের আদেশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশ পাওয়ার পরও যাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে—এ বিষয়ে প্রার্থীরা স্পষ্ট নির্দেশনা চান।

ব্যাখ্যা চান প্রার্থীরা

নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মূল প্রশ্ন হলো—চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কেন তাদের নিয়োগ আটকে গেল এবং যাচাই-বাছাইয়ে তাদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে?

প্রার্থীদের দাবি, যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে জানানো এবং প্রয়োজন হলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রশাসনিক বা তথ্যগত ভুলের কারণে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধনের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের নিয়োগপত্র এখনো দেওয়া হয়নি, তাদের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের এই জটিলতার দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান হলে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!