ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৮১৭ জনকে ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৮১৭ জনকে ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ

ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জনকে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের বিষয়েও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জনকে নিয়ে কাজ চলছে

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৮১৭ জন প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন। তাদের নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তিনি জানান, ১ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়োগসংক্রান্ত ভেরিফিকেশন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলবে। এর মধ্যে যাদের সব যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে, তাদের নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ নিয়োগ না পেলে তাদের বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যাবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী। তাদের ক্ষেত্রেও পরবর্তী সময়ে কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার পরীক্ষার্থী

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুষ্ঠিত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। নিয়োগপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করে।

বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মধ্য থেকে নিয়োগের জন্য বাছাই ও যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ভেরিফিকেশন-সংক্রান্ত বিষয় সামনে এসেছে বলে জানান তিনি।

ঠিকানা পরিবর্তনে ভেরিফিকেশনে জটিলতা

নিয়োগপ্রক্রিয়ার ভেরিফিকেশনের সময় কিছু প্রার্থীর ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের সময় আগের ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানার মধ্যে পরিবর্তন পাওয়া গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নতুন ঠিকানার তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হচ্ছে এবং যেসব ঠিকানা বা তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি, সেগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো রিভিউ করা হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

নিয়োগপত্র দিতে ডিপিও ইস্যু

নিয়োগপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডিপিও ইস্যু করে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ডিপিও ইস্যু করা হচ্ছে এবং এরপর প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন কারণে কিছু প্রার্থীর নিয়োগপ্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাদের তথ্য পর্যায়ক্রমে যাচাই করে নিয়োগের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে যাচাই-বাছাই

মন্ত্রী জানান, যেসব প্রার্থীর ভেরিফিকেশন এখনো শেষ হয়নি কিংবা ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হচ্ছে, তাদের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে।

১ অক্টোবর পর্যন্ত ভেরিফিকেশন, ঠিকানা যাচাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম চলবে। এই সময়ের মধ্যে নিয়োগযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

এরপরও যদি কোনো প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েন, তাদের বিষয়টি পরবর্তী পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

নিয়োগপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার অবসান কবে?

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেওয়ায় চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই একটি বড় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঠিকানা পরিবর্তন, ভেরিফিকেশন সম্পন্ন না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো কিছু প্রার্থীর নিয়োগ বিলম্বিত করছে বলে মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

এ অবস্থায় বর্তমানে নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ প্রার্থীর জন্য ১ অক্টোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে সামনে এসেছে। ওই সময়ের মধ্যে তাদের নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শেষ করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তবে মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবরের পরও যদি কোনো প্রার্থী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত থাকেন, তাদের বিষয়েও পরবর্তী সময়ে কাজ করা হবে। ফলে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের বিষয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও ভেরিফিকেশন কার্যক্রমের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নজর

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেশের অন্যতম বড় সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া। বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এতে অংশ নেওয়ায় চূড়ান্ত নিয়োগের আগে যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য হলো নিয়োগপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং যেসব প্রার্থীর ভেরিফিকেশন বা তথ্যগত জটিলতা রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

এখন ৮১৭ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীর মধ্যে কতজনের ভেরিফিকেশন ১ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং কতজন নিয়োগপত্র পান—সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তাদের পরিবারের।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!