ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

মেশিনারিজের আড়ালে রেডিমেড এসি আমদানির অভিযোগ হায়ার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

মেশিনারিজের আড়ালে রেডিমেড এসি আমদানির অভিযোগ হায়ার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে এসি, ফ্রিজ ও গৃহস্থালি পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে সরকার যে রেয়াতি শুল্ককর সুবিধা দিয়ে আসছে, তা অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে চীনা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় উৎপাদনের শর্তে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সম্পূর্ণ তৈরি এসি, ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিন আমদানি করছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ভিআরএফ (ভেরিয়েবল রেফ্রিজারেন্ট ফ্লো) এসি ক্যাপিটাল মেশিনারিজ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি ও খালাস করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এর ফলে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে এসি, ফ্রিজ ও গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।

এ কারণে হায়ার বাংলাদেশের আমদানি নথি, উৎপাদন সক্ষমতা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইম্পোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আইআরসি), কমার্শিয়াল আইআরসি এবং রেয়াতি শুল্ককর সুবিধা গ্রহণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় উৎপাদনের শর্তেই রেয়াতি সুবিধা

দেশে এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যের শিল্প গড়ে তুলতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করে আসছে। এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক ও ভ্যাটে বিভিন্ন ধরনের রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়।

নীতিগতভাবে এসব সুবিধার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি, যন্ত্রাংশ ও কম্পোনেন্ট উৎপাদন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসি উৎপাদনে রেয়াতি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কম্পোনেন্টের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে ইনডোর ইউনিট, আউটডোর ইউনিট, কনডেনসর, এভাপোরেটর এবং সাকশন অ্যান্ড ডিসচার্জ পাইপ উল্লেখযোগ্য। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী এসব গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টের অন্তত তিনটি দেশে উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ শুধু দেশে পণ্য সংযোজন বা উৎপাদনের ঘোষণা দিলেই সুবিধা পাওয়ার কথা নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, উৎপাদন লাইন, অবকাঠামো এবং বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতা থাকার বিষয়টিও বিবেচ্য।

তৈরি পণ্য আমদানির অভিযোগ

শিল্পসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্থানীয় উৎপাদনের শর্তে রেয়াতি সুবিধা নেওয়ার পরও হায়ার বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পূর্ণ তৈরি পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করছে।

তাদের প্রশ্ন, কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানীয় উৎপাদনের জন্য দেওয়া শুল্ক সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি একই ধরনের সম্পূর্ণ তৈরি পণ্য আমদানি করে বাজারজাত করলে সেটি সংশ্লিষ্ট রেয়াতি সুবিধার শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

তাদের মতে, এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হায়ার বাংলাদেশের বিল অব এন্ট্রি, আমদানি চালান, পণ্যের এইচএস কোড, শুল্কহার, আইআরসি, উৎপাদন রেকর্ড এবং কারখানার বাস্তব সক্ষমতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

একই ঠিকানায় দুই ধরনের আইআরসি ব্যবহারের অভিযোগ

হায়ার বাংলাদেশের আমদানি-সংক্রান্ত নথি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রের আরও দাবি, একই ই-টিআইএন ও ঠিকানার অধীনে প্রতিষ্ঠানটির নামে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইম্পোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আইআরসি) এবং কমার্শিয়াল আইআরসি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একই প্রতিষ্ঠান স্থানীয় উৎপাদনকারী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসির আওতায় সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি কমার্শিয়াল আইআরসি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ তৈরি পণ্য আমদানি করলে এর আইনগত ও শুল্কগত অবস্থান কী।

তাদের দাবি, কোন পণ্য কোন আইআরসির আওতায় আমদানি হয়েছে, কোন বিল অব এন্ট্রিতে কী ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এসব আমদানিতে কী পরিমাণ শুল্ককর পরিশোধ করা হয়েছে—এসব তথ্য কাস্টমসের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

ক্যাপিটাল মেশিনারিজে ৯৮টি রেডিমেড এসি

হায়ার বাংলাদেশের আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চীন থেকে প্রতিষ্ঠানটি ৩ লাখ বিটিইউ ক্ষমতার সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম আমদানি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পণ্যের মধ্যে ভিআরএফ প্রযুক্তির এসিও রয়েছে। ওই সময়ে মোট ৯৮টি রেডিমেড সেন্ট্রাল এসি আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের মূল বিষয় হচ্ছে, এসব সম্পূর্ণ প্রস্তুত এসিকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে খালাস করা হয়েছে কি না।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ সুবিধার উদ্দেশ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিকে উৎসাহিত করা। কোনো সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সরাসরি বিক্রয়যোগ্য পণ্য যদি উৎপাদন যন্ত্রপাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি শুল্ক আইনের দৃষ্টিতে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

ফ্রিজ ও এসি কম্প্রেসারও আমদানি

এসি ছাড়াও হায়ার বাংলাদেশ ৩৬৯ লিটার ধারণক্ষমতার ১৪৮টি রেডিমেড চেস্ট ফ্রিজার আমদানি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

পাশাপাশি ৪৪৮টি এসি কম্প্রেসার এবং ৪৪৮টি এসি মোটর আমদানির তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এসব আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের প্রকৃতি, এইচএস কোড, আমদানির উদ্দেশ্য, শুল্কহার এবং স্থানীয় উৎপাদন সুবিধার সঙ্গে এর সম্পর্ক পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কয়েক বছরে ৪৫ হাজারের বেশি ওয়াশিং মেশিন

হায়ার বাংলাদেশের আমদানি তালিকায় ওয়াশিং মেশিনের বড় চালানের তথ্যও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৭ থেকে ১৪ কেজি ধারণক্ষমতার বিভিন্ন মডেলের মোট ৪৫ হাজার ৬৪টি ওয়াশিং মেশিন আমদানি করা হয়েছে।

এর মধ্যে ২০২০ সালের হিসাব হিসেবে ১০ হাজার ৮১৭টি, ২০২৪ সালে ৭ হাজার ৫২২টি, ২০২৫ সালে ২০ হাজার ৪৬১টি এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৬ হাজার ২৬৪টি ওয়াশিং মেশিন আমদানির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে ২০২৫ সালে।

তবে এখানে উল্লেখিত বছর ও পরিমাণের তথ্য কাস্টমসের মূল বিল অব এন্ট্রি ও আমদানি ডেটার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয় উৎপাদনকারীদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতার শঙ্কা

স্থানীয় এসি, ফ্রিজ ও গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনকারী হিসেবে রেয়াতি শুল্ক সুবিধা নিয়ে একই সময়ে সম্পূর্ণ তৈরি পণ্য আমদানি করে বাজারজাত করলে স্থানীয়ভাবে প্রকৃত উৎপাদনে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।

তাদের ভাষ্য, স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কারখানা, উৎপাদন লাইন, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও জনবল তৈরিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে। ফলে তাদের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ার স্বাভাবিক কারণ রয়েছে।

অন্যদিকে, একই ধরনের পণ্য যদি রেয়াতি সুবিধার আওতায় কম শুল্কে আমদানি করা হয়, তাহলে বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদনকারীরা পিছিয়ে পড়তে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

তাদের দাবি, বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা, সরকারের রাজস্ব এবং শিল্পনীতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রশ্নও জড়িত।

নথি যাচাইয়ের দাবি

শিল্পসংশ্লিষ্টরা হায়ার বাংলাদেশের—

বিল অব এন্ট্রি ও আমদানি চালান;
শিল্প ও কমার্শিয়াল আইআরসি;
বিআইএন ও টিআইএন;
কারখানার উৎপাদন লাইন;
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কম্পোনেন্টের পরিমাণ;
উৎপাদন সক্ষমতা;
আমদানি করা পণ্যের এইচএস কোড;
পরিশোধ করা শুল্ক ও ভ্যাট;
এবং সংশ্লিষ্ট এসআরওর আওতায় নেওয়া সুবিধা

পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, নথি ও বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করা হলে স্থানীয় উৎপাদনের শর্ত এবং আমদানির ঘোষণার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।

অর্থনীতিবিদদের মত

অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া নীতি-সুবিধা যদি কোনোভাবে সম্পূর্ণ তৈরি পণ্য আমদানিতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সরকারের শিল্পনীতির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি নথি, আমদানি তথ্য, উৎপাদন রেকর্ড এবং কারখানার বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অভিযোগ সত্য হলে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকৃত শ্রেণিবিন্যাস এবং রেয়াতি সুবিধা গ্রহণের শর্ত যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা দরকার।

হায়ার বাংলাদেশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে হায়ার বাংলাদেশের বক্তব্য জানতে রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরের কনকর্ড টাওয়ারের নবম তলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়।

প্রতিবেদককে সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য দেননি। কার্যালয়ের একজন কর্মী প্রতিবেদককে বলেন, “স্যাররা লাঞ্চে গেছেন। আপনি চলে যেতে পারেন। চাইলে বসতেও পারেন।”

এরপরও দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করা হলেও হায়ার বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেননি। ফলে প্রতিবেদনের প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনবিআরের বক্তব্য

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে শিল্প গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার এসি, ফ্রিজ ও গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনে রেয়াতি সুবিধা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এ সুবিধার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো স্থানীয়ভাবে ফিনিশড গুডস উৎপাদন। কোনো প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট এসআরওর শর্ত ভঙ্গ করে কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতির নামে ফিনিশড গুডস আমদানি করে সুবিধা নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হায়ার বাংলাদেশ এমন কোনো সুবিধা নিয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফিনিশড গুডসকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই। কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

ফলে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—হায়ার বাংলাদেশ স্থানীয় উৎপাদনের জন্য পাওয়া রেয়াতি সুবিধার শর্ত যথাযথভাবে পালন করেছে কি না এবং আমদানি করা সম্পূর্ণ তৈরি পণ্যগুলো কোন শ্রেণিতে ও কী ধরনের শুল্ক সুবিধায় খালাস করা হয়েছে। এ বিষয়ে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিভিত্তিক যাচাইয়ের ফলই অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!