ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের অঙ্গীকার, প্রত্যাশা ও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ অধিবেশনের বিভিন্ন সভা ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি একটি ভাষণ দেন। পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের সাতটি সভায় বক্তব্য রাখেন এবং ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বৈঠক ও মতবিনিময় করেন বলে জানান হুমায়ুন কবির।

বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক

অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

এ ছাড়া কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন।

এ ছাড়া মিয়ানমার সংক্রান্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়।

ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করেন বলে জানান হুমায়ুন কবির। তার মতে, এসব বৈঠক বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া গেছে। ফলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা ও বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ, প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও সক্রিয় ও বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সফর ছিল না; বরং নতুন সরকারের অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!