ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

menu

সাঘাটায় তিন সপ্তাহ ধরে ইউএনও নেই, প্রশাসনিক সেবায় ভোগান্তি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: খ ম মিজানুর রহমান রাঙ্গা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

সাঘাটায় তিন সপ্তাহ ধরে ইউএনও নেই, প্রশাসনিক সেবায় ভোগান্তি

ছবিঃ সংগৃহীত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ ইউএনও মো. আশরাফুল কবীর বদলি হয়ে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো কর্মকর্তা ওই পদে যোগদান করেননি। ফলে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর বদলি হয়ে ময়মনসিংহ জেলার একটি উপজেলায় যোগদানের উদ্দেশ্যে সাঘাটা থেকে বিদায় নেন। এরপর থেকেই ইউএনওর পদটি শূন্য রয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দুই উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে তিনি নিয়মিত সাঘাটা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এতে কিছু প্রশাসনিক কাজে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা নাগরিকরা।

সপ্তাহে দুই-এক দিন অফিস, অপেক্ষায় নাগরিকরা

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও সপ্তাহে সাধারণত দুই-এক দিন সাঘাটা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিস করছেন। ফলে ইউএনওর সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন এমন কোনো প্রশাসনিক কাজে নাগরিকদের নির্দিষ্ট দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে ইউএনও কার্যালয়ে না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে কাজ না করেই ফিরে যেতে হচ্ছে। পরে আবার উপজেলা সদরে এসে প্রয়োজনীয় সেবা নেওয়ার জন্য সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন সংশোধন, প্রশাসনিক অনুমোদন, বিভিন্ন প্রত্যয়ন ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজনীয় কাজে এই ভোগান্তি বেশি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

জন্মনিবন্ধনের কাজে এসে ফিরে গেলেন নাগরিক

ভরতখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, ছোট ভাইয়ের জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিন ইউএনও অফিসে নেই। ফলে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন না করেই তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উপজেলা সদরে আসতে যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই লাগে। কাজ না হলে আবার অন্যদিন আসতে হয়। দ্রুত একজন পূর্ণকালীন ইউএনও নিয়োগ দেওয়া হলে এ ধরনের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি মনে করেন।

জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তি

ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, ইউএনও বদলি হওয়ার পর জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ কিছু প্রশাসনিক কাজে নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও কার্যক্রম শুরু করায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।

তবে তাঁর মতে, দুটি উপজেলার দায়িত্ব একজন কর্মকর্তার ওপর থাকায় সাঘাটার সব প্রশাসনিক কাজে নিয়মিত সময় দেওয়া কঠিন। এজন্য দ্রুত সাঘাটায় একজন নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়ন করা প্রয়োজন।

একাধিক নাগরিকের একই অভিযোগ

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা নিতে আসা আরও কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনও সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিন সাঘাটায় অফিস করায় জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কেউ কেউ নির্দিষ্ট কাজের জন্য একাধিকবার উপজেলা সদরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়ও হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সাঘাটার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় পূর্ণকালীন ইউএনও না থাকায় প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমে সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতি তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত শূন্য পদে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের মধ্যেও উদ্বেগ

ইউএনও পদ দীর্ঘ সময় শূন্য থাকায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন সাংবাদিক সাঘাটায় দ্রুত একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

তাঁদের বক্তব্য, উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভ্রাম্যমাণ আদালত, সরকারি প্রকল্পের তদারকি এবং নাগরিক সেবায় ইউএনওর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দীর্ঘ সময় পদটি শূন্য থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও যা বললেন

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে হচ্ছে। এ কারণে সাময়িক কিছু সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “অতি দ্রুতই এখানে নতুন অফিসার যোগদান করুন। সাময়িক সমস্যা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাঘাটা উপজেলায় দ্রুত একজন পূর্ণকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভোগান্তিও কমবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!