ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

menu

হাসপাতালে ভর্তি ১,০০৩

একদিনে হামে আরও ৮ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১২২

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

একদিনে হামে আরও ৮ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১২২

ছবিঃ সংগৃহীত

সারাদেশে শিশুদের মধ্যে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৪৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ১০৯ শিশুর মধ্যে হাম উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ৩ শিশু।

শনিবার (৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাম সন্দেহে সারাদেশে মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মিলিয়ে পরীক্ষায় ২১ হাজার ৬৬৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন।

একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম নিশ্চিত হওয়া এবং হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২ জনে।

এর মধ্যে হাম নিশ্চিত হয়ে ১০২ জন এবং হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২০ জন মারা গেছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলমান সংক্রমণের মধ্যে শিশুদের মৃত্যু বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সময়ে একদিনে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একদিনে নতুন করে হাম শনাক্ত ৪৩ শিশুর

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরও ১ হাজার ১০৯ শিশুর মধ্যে।

এ ছাড়া হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালগুলোতে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ঢাকায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত

বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শিশুদের মধ্যে হাম শনাক্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে ৪০৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।

এরপর রয়েছে—

চট্টগ্রাম বিভাগে: ২২৪ শিশু
সিলেট বিভাগে: ১৫৮ শিশু
বরিশাল বিভাগে: ১৩৮ শিশু
ময়মনসিংহ বিভাগে: ৪৯ শিশু
খুলনা বিভাগে: ৭৩ শিশু
রংপুর বিভাগে: ৩৩ শিশু
রাজশাহী বিভাগে: ২৭ শিশু

অর্থাৎ দেশের প্রায় সব বিভাগেই শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণের উপস্থিতি রয়েছে। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।

চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি

হাম নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে কিছুটা স্বস্তির তথ্যও রয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি, নতুন করে হাম শনাক্ত এবং হাম উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

আগেও একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর তথ্য

চলতি হাম পরিস্থিতিতে এর আগেও একদিনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ৪ ও ২৫ মে হাম ও হাম উপসর্গে একদিনে ১৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল বলে জানানো হয়। এর আগে ২৪ মে একদিনে ১৬ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

সর্বশেষ ২৩ সেপ্টেম্বর একদিনে ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর আবার গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য সামনে এলো।

শিশুদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম শনাক্তের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিশুর মধ্যে হামসদৃশ উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এ কারণে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিক পরিস্থিতিতে শিশুদের হাম সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রবণতা কমাতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!