দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৩৫ জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ও হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে সাতজনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত সাতজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) বাসিন্দা। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে—দুই সিটি করপোরেশনসহ—মৃত্যু হয়েছে ১৬১ জনের।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, এ সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২ জন, বরিশাল বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুর বিভাগে ছয়জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৭২ ডেঙ্গু রোগী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ৩৪২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) বিভিন্ন হাসপাতালে ৩১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬০ জন, খুলনা বিভাগে ২৩৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৭ জন, রংপুর বিভাগে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
নতুন রোগী ভর্তির এ চিত্রে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর চাপের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও সংক্রমণের উপস্থিতি স্পষ্ট হয়েছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩৪২
চলতি বছরের শুরু থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। তবে শুধু মৃত্যুর সংখ্যা নয়, প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হারও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হামে এক দিনে আরও তিনজনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৯ জনে।
এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৮৫ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯০ জনে।
একই সময়ে নতুন করে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৭ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৫২ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৮ জন।
সন্দেহভাজন সংক্রমণ, নিশ্চিত রোগী এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সন্দেহভাজন রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়; অন্যদিকে নিশ্চিত সংক্রমণ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। তাই হাম পরিস্থিতি মূল্যায়নে এই দুই ধরনের তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও চিকিৎসাসেবা
ডেঙ্গু ও হাম—দুই রোগের ক্ষেত্রেই দ্রুত উপসর্গ শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন বুঝতে সহায়তা করে। তবে রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুসরণ করা জরুরি।

