রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এ যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন তিনি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে উদ্বোধনী অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এবার পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনে বিশ্বের শতাধিক দেশের অংশগ্রহণ রয়েছে। এতে প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মিলনমেলা
বিওবিসি ২০২৬-এ বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা ও মতবিনিময়ের আয়োজন রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর এশিয়া ও বিশ্বের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে।
যে বিষয়গুলোতে আলোচনা হবে
তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে সমসাময়িক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসবে। এর মধ্যে রয়েছে—
ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন
বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগ
জলবায়ু পরিবর্তন
মানব নিরাপত্তা
গণতন্ত্র ও সুশাসন
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা
পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা
বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও যোগাযোগগত গুরুত্বও সম্মেলনের আলোচনায় স্থান পাবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলনস্থলে উপস্থিতির পর আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে মতবিনিময়ের আয়োজন রয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সহযোগিতার গুরুত্ব
বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি, বাণিজ্য, নৌ-যোগাযোগ, জ্বালানি, জলবায়ু ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বঙ্গোপসাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিসর হিসেবে উঠে আসছে।
বিওবিসির মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে এসব বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
তিন দিনের আয়োজনে গুরুত্ব পাবে বৈশ্বিক পরিবর্তন
তিন দিনের সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে চলমান পরিবর্তন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মানব নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষ করে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এশিয়া ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ, বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনাগুলো সম্মেলনের অন্যতম বিষয় হিসেবে থাকছে।
বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছে।

