জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা পুরাতনপাড়া গ্রামে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছর বয়সী ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এ সময় তাঁকে গলায় জুতার মালা পরানো এবং তাঁর বসতঘরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নান্দিনা পুরাতনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছানোয়ার হোসেন ওই গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি নান্দিনা ছিঁড়া মার্কেটে জুতার ব্যবসা করেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ছানোয়ার হোসেনকে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘুমন্ত শিশুকে জড়িয়ে ধরার অভিযোগ
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার ভোরে ছানোয়ার হোসেন প্রতিবেশী খোকন মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে ঘুমন্ত শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান। এরপর ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে এলাকাবাসী ছানোয়ার হোসেনকে আটক করেন। পরে তাঁকে তাঁর নিজ ঘরে আটকে রাখা হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধ কয়েকজন তাঁকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। একই সময়ে তাঁর বসতঘরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
পরে খবর পেয়ে জামালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযুক্ত ছানোয়ার হোসেনকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
থানায় মামলা, কারাগারে অভিযুক্ত
জামালপুর থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর ছানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, আদালতের নির্দেশে শুক্রবারই তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এ ধরনের ঘটনায় শিশুর নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কোনো শিশুর সঙ্গে যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে অভিযোগের বিচার আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া এবং তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসাও গুরুত্বপূর্ণ।
আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান
অভিযোগের পর স্থানীয়দের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দেখা দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের পর গলায় জুতার মালা পরানো এবং তাঁর বসতঘরে ভাঙচুরের ঘটনা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছে।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করাই নিয়ম। জনতার হাতে শাস্তি বা সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে।

