ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

বাকৃবির গেস্ট হাউসে পুলিশের অভিযান, ইয়াবাসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:১৫ এএম

বাকৃবির গেস্ট হাউসে পুলিশের অভিযান, ইয়াবাসহ আটক ৪

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিবিদ গেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটক চারজনের মধ্যে তিনজন বহিরাগত।

মঙ্গলবার (গতকাল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ। অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আটক বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীর নাম লাবিব হাসান মিথুন। তিনি বাকৃবির কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। আটক অন্য তিনজন হলেন সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ব্যক্তি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সন্দেহজনক চলাফেরায় নজরে আসে কক্ষটি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষটি লাবিব হাসান মিথুনের নামে বুকিং করা হয়েছিল। ওই কক্ষে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও সন্দেহজনক চলাফেরা লক্ষ্য করেন গেস্ট হাউসের কর্মীরা।

বিষয়টি গেস্ট হাউসের কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে কক্ষটিতে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের অফিসার ইন-চার্জ ড. অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, কক্ষটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই কর্মচারীর নামে বুকিং করা ছিল। সেখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের চলাচল ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখে স্টাফরা বিষয়টি তাঁকে জানান। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টরিয়াল বডিকে অবহিত করেন।

তল্লাশির আগে ইয়াবা ফ্লাশ করার চেষ্টা

অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভাষ্য, পুলিশ কক্ষে প্রবেশ করার পর সেখানে থাকা ব্যক্তিরা মাদকদ্রব্য নষ্ট করার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকটি ইয়াবা বড়ি বাথরুমের টয়লেটে ফ্লাশ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।

পরে বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে চার থেকে পাঁচটি ইয়াবা বড়ি এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা এসব সামগ্রী আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

তবে উদ্ধার করা মাদকের সঠিক পরিমাণ ও ধরন পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কক্ষে উৎকট গন্ধ, আচরণে সন্দেহ

কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের অফিসার ইন-চার্জ ড. অনিরুদ্ধ সরকার জানান, কক্ষটির ভেতর থেকে তীব্র উৎকট গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। একই সঙ্গে কক্ষে অবস্থানকারীদের আচরণও গেস্ট হাউসের কর্মীদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কক্ষে তল্লাশি চালায় এবং বাথরুম থেকে আলামত উদ্ধার করে।

রাতেই ঘটনাস্থলে যায় প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে গেস্ট হাউসে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তাঁরা খবর পান। খবর পাওয়ার পর প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তাঁর ভাষ্য, কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মাদক ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়ার পর পুলিশ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও অতিথি ভবনগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং কক্ষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চারজন থানা হেফাজতে

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চারজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার করা আলামতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং আটকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা জানা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেস্ট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মাদক উদ্ধারের এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক ও অতিথি স্থাপনায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, বুকিং ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নজরদারি আরও কার্যকর করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!