ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

জয়পুরহাটে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা, ভেজাল প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

জয়পুরহাটে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা, ভেজাল প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ছবিঃ সংগৃহীত

জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা, খাদ্যে ভেজাল ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জয়পুরহাটে জেলা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জয়পুরহাট জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ভেজাল প্রতিরোধে করণীয় এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সভা

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাইমেনা শারমীন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমাইয়া আফরিন জিনিয়া এবং জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

খাদ্যে ভেজাল রোধে জোর

সভায় বক্তারা বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, পরিবহন, প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও খাদ্য প্রস্তুতকারীদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ

সভায় বক্তারা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তারা বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা বা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। খাদ্য ব্যবসায়ী, উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তা—সব পক্ষকে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

বিশেষ করে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, খাদ্য সংরক্ষণে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং অনুমোদিত ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

সভায় নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়লে অনিরাপদ বা ভেজাল খাদ্যের চাহিদা কমানো সম্ভব হবে।

খাদ্য কেনার সময় উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখা, প্যাকেটজাত খাদ্যের লেবেল ও মানসংক্রান্ত তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক খাদ্যপণ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব

সভায় জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরাপদ খাদ্যের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা খাদ্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিদর্শন, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় জয়পুরহাট জেলার মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!