ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

১০ দিনের নিখোঁজের পর ট্রাভেল ব্যাগে খণ্ডিত লাশ: কমলাপুর কাস্টমসের নিরাপত্তাকর্মী রাকিব হত্যায় চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম

১০ দিনের নিখোঁজের পর ট্রাভেল ব্যাগে খণ্ডিত লাশ: কমলাপুর কাস্টমসের নিরাপত্তাকর্মী রাকিব হত্যায় চাঞ্চল্য

ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কমলাপুর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার সিপাহি রাকিব রায়হান তালুকদার (৪০)-এর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তার ভেতরে টুকরো টুকরো করে ভরে স্থানীয় একটি পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল মরদেহটি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব রায়হান তালুকদার ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে এলাকায় কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাকরির কারণে রাকিব প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। তবে গত ২৪ জুলাই নিজ বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি।

নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর, ২৭ জুলাই, তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর থেকেই পুলিশ নিখোঁজের ঘটনা তদন্ত শুরু করে।

পুকুর থেকে উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহ

রোববার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পুকুরে একটি বস্তা ও ট্রাভেল ব্যাগ ভাসতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তার ভেতর থেকে খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের ধারণা, হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ট্রাভেল ব্যাগ ও বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে পরিচয় গোপন থাকে এবং দ্রুত লাশ শনাক্ত করা না যায়।

পলাতক কেয়ারটেকারকে ঘিরে রহস্য

তদন্তে উঠে এসেছে, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা রহস্যজনকভাবে পলাতক রয়েছেন। শুধু তাই নয়, তার সঙ্গে আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে তদন্ত চলাকালে উপজেলার অনন্তপুর বাজুয়া নদী এলাকা থেকে রাকিবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবির রিংও উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, পলাতক কেয়ারটেকার রাজু মির্জা টাঙ্গাইলের এক দালালের মাধ্যমে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার পাসপোর্ট জব্দ করে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

সাধারণ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ্র সাহা বলেন,

"ঘটনার পর থেকেই কেয়ারটেকার রাজু মির্জা পলাতক। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমি জেলার বাইরে অভিযান চালাচ্ছিলাম। পরে জানতে পারি, রাকিব রায়হানের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।"

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন,

"মরদেহ টুকরো টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ, পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিবারের আহাজারি, দ্রুত বিচার দাবি

নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন। তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার, পলাতকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!