বগুড়া সদর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আতিকুর রহমান সাগর মন্ডল (২৬) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত আতিকুর রহমান সাগর মন্ডল সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মন্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাগর মন্ডলের পারিবারিক ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। কয়েক বছর ধরে তিনি স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বুধবার গভীর রাতে পরিবারের সবাই ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সাগর বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তার স্ত্রী ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন সাগরের জেঠাতো ভাই জুলহাসের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল টিনের গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাগরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হলে সাগর প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু দূর গিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিনি স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় অন্য একটি গলি দিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের মা সাজেদা বেগম বলেন, "আমার ছেলেকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় সে পানির জন্য ছটফট করছিল, কিন্তু হামলাকারীরা তাকে এক ফোঁটা পানিও খেতে দেয়নি। আমি আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত সাগর মন্ডলের বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক ও অস্ত্র আইনে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

