ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

রূপসায় ইটভাটায় রক্তাক্ত রাত: গুলি করে হত্যা যুবদল কর্মী ফখরুলকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০১:১১ পিএম

রূপসায় ইটভাটায় রক্তাক্ত রাত: গুলি করে হত্যা যুবদল কর্মী ফখরুলকে

ছবিঃ সংগৃহীত

খুলনার রূপসা উপজেলায় একটি ইটভাটার ভেতরে ঢুকে ফখরুল শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কিসমত খুলনা গ্রামের মেসার্স রূপসা ব্রিকস ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফখরুল শেখ নৈহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে যুবদলের কর্মী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই কন্যাসন্তানের বাবা।

ইটভাটায় রাতের পাহারায় ছিলেন ফখরুল

স্বজনদের ভাষ্য, মেসার্স রূপসা ব্রিকস ইটভাটাটি ফখরুলদের মালিকানাধীন। ভাটায় বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার জন্য তিনি মাঝেমধ্যে রাতে সেখানে অবস্থান করে পাহারার দায়িত্ব পালন করতেন।

ঘটনার রাতেও তিনি ইটভাটার ভেতরে ছিলেন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ফখরুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কী কারণে হত্যা, মিলছে না উত্তর

ফখরুলকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পূর্ববিরোধ, রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। হামলাকারীরা আগে থেকেই ফখরুলের অবস্থান সম্পর্কে জানত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ইটভাটার মতো তুলনামূলক নির্জন স্থানে রাতের বেলায় ঢুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হামলাকারীরা কতজন ছিল, তারা কীভাবে ইটভাটায় প্রবেশ করল এবং হত্যার পর কোন পথে পালিয়ে গেল—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

পুলিশ বলছে, জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে

রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রাজ্জাক মীর বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার তথ্য-উপাত্তও যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, ফখরুল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণও প্রকাশ্যে এনে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!