ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

মা ইলিশ রক্ষায় শরীয়তপুরে ২৮ হাজার ৯২৯ জেলের জন্য ৭২৩ টন চাল বিতরণ শুরু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:৪০ এএম

মা ইলিশ রক্ষায় শরীয়তপুরে ২৮ হাজার ৯২৯ জেলের জন্য ৭২৩ টন চাল বিতরণ শুরু

ছবিঃ সংগৃহীত

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ আহরণ থেকে জেলেদের বিরত রাখতে শরীয়তপুরে নিবন্ধিত ২৮ হাজার ৯২৯ জন জেলের মধ্যে সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলায় একযোগে এ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে মৎস্য বিভাগ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও নির্ধারিত বিতরণকেন্দ্রে তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় শরীয়তপুরের নিবন্ধিত জেলেরা মোট ৭২৩ টন চাল পাবেন।

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীতে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নদীতে না নামার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা-মেঘনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত শরীয়তপুর ইলিশ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে সারা বছরই ইলিশ আহরণ করা হয়। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ করা ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৭ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ২২ দিন নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

এ সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে। নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া এবং ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা।

চার উপজেলায় পাবেন জেলেরা

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা, নড়িয়া, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জ—এই চার উপজেলায় সরকারি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নির্ধারিত তালিকায় থাকা নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চাল বিতরণ করা হবে। সরকারি সহায়তা পাওয়ার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়তা হবে বলে আশা করছে মৎস্য বিভাগ।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সহায়তা প্রকৃত ও তালিকাভুক্ত জেলেদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কেন দেওয়া হচ্ছে চাল?

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে জেলেদের একটি বড় অংশ সাময়িকভাবে তাদের প্রধান আয়ের উৎস থেকে বঞ্চিত হন। নদীতে যেতে না পারায় তাদের পরিবারে খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে সরকার নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে একদিকে জেলেদের সাময়িক জীবিকা সহায়তা দেওয়া হয়, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের নদীতে মাছ ধরতে না যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জেলেদের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মা ইলিশ রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মাছ। নদী ও সাগরে ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মা ইলিশ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে নদীতে ইলিশের নতুন প্রজন্ম তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে এসব ইলিশ বড় হয়ে নদী ও সাগরে মাছের মজুত বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

তাই নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ব্যবস্থা

চাল বিতরণের সময় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জেলেদের নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় নদীতে না যাওয়ার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি ও মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

মৎস্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করবে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

৭২৩ টন চাল বরাদ্দ

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে নদীতে মাছ ধরতে না নামেন, সে জন্য সরকার তাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, শরীয়তপুরে নিবন্ধিত ২৮ হাজার ৯২৯ জন জেলের জন্য ৭২৩ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকৃত ও তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ নদীতে মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলেদের সহযোগিতা চায় মৎস্য বিভাগ

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করে ইলিশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলেদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে না গিয়ে সরকারি সহায়তা গ্রহণ এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করার মাধ্যমে জেলেরা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশাসনের নজরদারি ও জেলেদের সহযোগিতায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। এতে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!