ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

একই অভিযোগ, তবু বারবার সরকারি কাজ পায় সায়েন্স হাউস

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

একই অভিযোগ, তবু বারবার সরকারি কাজ পায় সায়েন্স হাউস

ছবিঃ সংগৃহীত

বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে জাল ম্যানুফ্যাকচারার অথরাইজেশন সার্টিফিকেট, নিম্নমানের ও স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত যন্ত্রপাতি সরবরাহ, দরপত্রের শর্তে কারসাজি, নকল ব্র্যান্ড ও কান্ট্রি অব অরিজিন স্টিকার ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কিছু বিষয়ে সরকারি তদন্তে প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পর প্রতিষ্ঠানটির যৌথ উদ্যোগকে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কেনাকাটায় অংশগ্রহণ থেকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ২০৩৪ সালের ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি কেনাকাটা বা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কেনাকাটায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ও অতীতের বিভিন্ন তদন্তে অনিয়মের তথ্য সামনে আসার পরও প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পাচ্ছে। সর্বশেষ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রায় ৮ কোটি টাকার অটো-ডিসেবল (এডি) সিরিঞ্জ সরবরাহের কার্যাদেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চ আদালতে রিট এবং আইনি নোটিশের পরদিনই কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো আপত্তি জানিয়েছে।

এদিকে প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের কেনাকাটায় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের সম্পৃক্ততা, দরপত্র মূল্যায়ন এবং সরবরাহ করা পণ্যের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও তদন্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

১ কোটি ৩৫ লাখ সিরিঞ্জের কার্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই ইউনিট ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার পিস অটো-ডিসেবল সিরিঞ্জ কেনার উদ্যোগ নেয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের ই-জিপি টেন্ডার আইডি ১২৭৩১৪৪ এবং প্যাকেজ নম্বর ২০২৫-২৬/জিডি-২২।

দরপত্রে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মূল্যায়নের পর বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস, মেডিলিঙ্ক টেকনো হাট ও আয়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এর মধ্যে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের প্রস্তাবিত দর ছিল প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার ২২০ মার্কিন ডলার।

তবে প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা এবং দরপত্রের কারিগরি শর্ত পূরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত।

১৭ সেপ্টেম্বর জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেড হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। রিটের নম্বর ডব্লিউপি ১৪০০৩/২০২৬।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, প্রকল্প পরিচালক, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি বা কার্যাদেশ না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

কিন্তু নথি অনুযায়ী, এর পরদিনই—২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে—বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের অনুকূলে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার ২২০ মার্কিন ডলারের কার্যাদেশ জারি করা হয়।

পুনঃদরপত্রের দাবি

দরপত্রে অংশ নেওয়া আয়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মুন্সী আলাউল হোসেন ৪ অক্টোবর কার্যাদেশ বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের আবেদন করেন।

তার অভিযোগ, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের প্রস্তাবিত এডি সিরিঞ্জ দরপত্রের নির্ধারিত টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি আদৌ দরপত্রে অংশগ্রহণ এবং কার্যাদেশ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যাদেশ বাতিল করে বিধি অনুযায়ী পুনঃদরপত্র আহ্বানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

একই দপ্তরের পুরোনো কেনাকাটাতেও রিট

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেনাকাটাকে ঘিরে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২২ সালে হাইড্রোকলয়েড সার্জিক্যাল ড্রেসিং মেটেরিয়ালস ও ড্রেসিং ড্রাম সরবরাহের একটি দরপত্রে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্র্যান্স ট্রেডার্স হাইকোর্টে রিট করে।

রিট নম্বর ডব্লিউপি ৫০০৮/২০২২।

অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, কয়েকটি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রাক-দরপত্র সভায় প্রয়োজনীয় দুটি পণ্যের নমুনা জমা দেয়নি। পাশাপাশি আইটিটি ধারা ২৩.১২(সি) অনুযায়ী সিআইএফ মূল্য ও স্থানীয় পরিবহন ব্যয় পৃথকভাবে প্রদর্শনের শর্তও লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগগুলো বিবেচনায় না নিয়ে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয় ট্র্যান্স ট্রেডার্স।

১৭ মে ২০২২ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে দেওয়া কার্যাদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

২০২৪ সালেও কোটি কোটি টাকার কাজ

অভিযোগ ও মামলা চলার মধ্যেই ২০২৪ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একাধিক বড় কেনাকাটায় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস ও মেডিলিঙ্ক টেকনো হাট কাজ পায়।

নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস প্রায়—

১ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের সার্জিক্যাল ড্রেসিং মেটেরিয়াল,
২ কোটি ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ টাকা মূল্যের ১৫০ সেট ওটি টেবিল

সরবরাহের কাজ পায়।

অন্যদিকে মেডিলিঙ্ক টেকনো হাট পায়—

প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের সার্জিক্যাল রাবার গ্লাভস,
প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ ৫ হাজার ১২১ টাকা মূল্যের ওটি লাইট ও স্পট লাইট

সরবরাহের কাজ।

প্রতিযোগী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, তাদের অন্ধকারে রেখে নির্দিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের যোগ্যতা ও অনুপালনসংক্রান্ত নথি কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ

বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায়।

প্রকল্পের জিডি-১২ (ই) লটের আওতায় অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট-অপারেটিভ রিকভারি এবং ডেলিভারি ও লেবার রুমের জন্য বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়।

দরপত্রে আরপি এন্টারপ্রাইজ, জেনেসিস ট্রেডিং করপোরেশন, আনিফকো হেলথকেয়ার এবং বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস অংশ নেয়।

নথি অনুযায়ী, আরপি এন্টারপ্রাইজ ছিল সর্বনিম্ন দরদাতা। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ কোটি ৩২ লাখ ৭ হাজার টাকায় যন্ত্রপাতি সরবরাহের প্রস্তাব দেয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস একই সরঞ্জামের জন্য ২০ কোটি ৩৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯২৫ টাকা দর প্রস্তাব করে—যা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

অভিযোগ রয়েছে, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দরদাতা বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

বাক্সবন্দি সরঞ্জাম নিয়েও প্রশ্ন

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস যেসব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তার কিছু এখনো বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। প্রকল্পের সার্ভে কমিটি ও হাসপাতালের ব্যবহারকারী প্রতিনিধিরা সেগুলো এখনো গ্রহণ করেননি বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দরপত্রে প্রস্তুতকারকের অনুমোদন বা ম্যানুফ্যাকচারার অথরাইজেশন সার্টিফিকেট চাওয়া হলে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস ব্রাজিলের টিম্পল মেডিকেল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে সার্টিফিকেট জমা দেয়।

পরে ওই যন্ত্রপাতি সংগ্রহের জন্য চীনের কয়েকটি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো টিম্পল মেডিকেলের নামে যন্ত্র সরবরাহে সম্মত হয়নি—এমন কথোপকথনের তথ্য-প্রমাণও পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শেষ পর্যন্ত চীনা উৎসের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে কালো তালিকাভুক্ত

বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে সরকারি তদন্তের সবচেয়ে গুরুতর তথ্যগুলোর একটি পাওয়া যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে।

মাধ্যমিক শিক্ষা খাতের সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ)-এর আওতায় আইসিটি ট্রেডের বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের কাজ পেয়েও প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত যন্ত্রপাতি এবং অপ্রচলিত ও লাইসেন্সবিহীন অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার সরবরাহ করেছে—এমন অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে।

একই ঘটনায় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে ৯ নভেম্বর ২০২১ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আ ন ম তরিকুল ইসলাম সিপিটিইউর মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড ও বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের যৌথ উদ্যোগকে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেন।

নথিতে বলা হয়, স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত পণ্য এবং লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যার সরবরাহের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এরপর সিপিটিইউর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ২০৩৪ সালের ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি কেনাকাটা কিংবা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কেনাকাটায় প্রতিষ্ঠানটির অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা।

তবে সংশ্লিষ্ট নথি ও পরবর্তী সরকারি ক্রয় কার্যক্রম ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে সরকারি কাজ পেয়েছে।

কালো তালিকার তথ্য ওয়েবসাইট থেকে সরানোর অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কালো তালিকাভুক্তির তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা আর দৃশ্যমান ছিল না। কেন তথ্যটি ওয়েবসাইটে স্থায়ীভাবে দৃশ্যমান থাকেনি, সে বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও কালো তালিকাভুক্তির সুপারিশের তথ্য বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাণিসম্পদ প্রকল্পে জাল অথরাইজেশন সার্টিফিকেটের অভিযোগ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পেও বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) আওতায় উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের জন্য প্রায় ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের প্লাস্টিক, গ্লাসওয়্যার, কেমিক্যাল, রি-এজেন্ট ও মিডিয়া ক্রয়ের জি-৩৮ প্যাকেজে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা সায়েন্টিফিক সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ম্যানুফ্যাকচারার অথরাইজেশন সার্টিফিকেট যাচাই করতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গ্লাসকো ল্যাবকে ই-মেইল করে।

জবাবে গ্লাসকো ল্যাব বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস বা আল-আরাফা সায়েন্টিফিককে তারা কোনো অথরাইজেশন দেয়নি বলে জানায়—সংশ্লিষ্ট নথিতে এমন তথ্য রয়েছে।

একই প্রকল্পে মিল্ক ক্রিম সেপারেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিম্নমানের ও ব্যবহার অনুপযোগী সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

৭৩ কোটি টাকার প্রকল্পে ৯ অভিযোগের প্রমাণ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পের মূল্য ছিল প্রায় ৭৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর যুগ্ম সচিব শাহিনা ফেরদৌসীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।

কমিটি ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে মোট ১১টি অভিযোগের মধ্যে ৯টির প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে।

তদন্তে যেসব বিষয় উঠে আসে তার মধ্যে রয়েছে—

দরপত্রে বিশেষ টার্নওভার শর্ত আরোপ করে প্রতিযোগিতা সীমিত করার অভিযোগ;
বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে বারবার কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়;
ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি বা জাপানের পণ্য সরবরাহের শর্ত থাকা সত্ত্বেও চীন থেকে যন্ত্রপাতি আনার অভিযোগ;
চীনা যন্ত্রপাতিতে ইউরোপীয় দেশের নকল কান্ট্রি অব অরিজিন স্টিকার ব্যবহারের অভিযোগ;
কিছু ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ না করেই বিল পরিশোধের অভিযোগ;
যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই মালামাল গ্রহণের অভিযোগ।

তদন্ত কমিটি পরিদর্শনের সময় কয়েকটি যন্ত্রে নকল স্টিকার দেখতে পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা বেশি ব্যয়

প্রাণিসম্পদ খাতের আরেকটি কেনাকাটায় বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রকাশিত নিরীক্ষা তথ্যেও গুরুতর প্রশ্নের বিষয় উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট কাজে সর্বনিম্ন দরদাতা ২ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দর প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা দরে কাজ দেওয়া হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ সর্বনিম্ন দরদাতার তুলনায় প্রায় ৯০ লাখ ৩০ হাজার টাকা বেশি ব্যয়ে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দরপত্রে বিশেষ শর্ত আরোপ ও সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজেও অভিযোগ

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায়ও বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

প্রায় ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটার নয়টি প্যাকেজের কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের ও বেনামি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে এবং পরে সেগুলোতে ইউরোপ ও আমেরিকার নামিদামি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়েছে—এমন অভিযোগ প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের।

তাদের আরও অভিযোগ, সরবরাহ করা সব যন্ত্রপাতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই অনেক ক্ষেত্রে বিল পরিশোধ করা হয়।

পরবর্তীতে একই হাসপাতাল প্রায় ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য আরেকটি দরপত্র আহ্বান করে।

ওই দরপত্রে অস্ত্রোপচার, অ্যানেসথেশিয়া, এক্স-রে ইউনিটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি ঘড়ি, টেলিভিশন ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মতো বিভিন্ন পণ্য একসঙ্গে প্রায় ৭০৩টি আইটেম একই লটে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

দরপত্রের কিছু কারিগরি শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়—এমন অভিযোগও ওঠে।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও মডেলের নাম উল্লেখ এবং পাঁচ বছরের পরিবর্তে দুই বছরের ওয়ারেন্টি রাখার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের পরিবর্তে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণযোগ্য করার মতো শর্তও রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত এবং গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই দরপত্র শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সমাজসেবা অধিদপ্তরেও জামানত বাজেয়াপ্ত

সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একাধিক প্রকল্পে তদন্ত কমিটি অনিয়ম, জালিয়াতি ও দরপত্রে কারসাজির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পিপিএ-পিপিআরে কালো তালিকার বিধান

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮-এ জালিয়াতি, প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

পিপিআরের বিধি ১২৭ অনুযায়ী, কোনো দরদাতা ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ, জাল লাইসেন্স, ভুয়া আর্থিক সক্ষমতার তথ্য, জাল ব্যাংক গ্যারান্টি বা অন্য কোনো প্রতারণামূলক দলিল ব্যবহার করে সরকারি কাজ নেওয়ার চেষ্টা করলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে ডিবারমেন্ট বা কালো তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

অর্থাৎ একটি সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম বা প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু ওই প্রকল্প নয়, বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অন্য সরকারি ক্রয়কারী সংস্থার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।

এ কারণে অতীতে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কীভাবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আদালতে মামলা, তবুও কার্যাদেশ—প্রশ্ন প্রতিযোগীদের

সরকারি ক্রয় বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দরপত্র নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পৌঁছানোর পর কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের ক্ষেত্রে রিট ও লিগ্যাল নোটিশের পরদিনই কার্যাদেশ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর আপত্তির কারণও এখানেই।

তাদের প্রশ্ন—মামলা বিচারাধীন থাকা এবং কার্যাদেশ না দেওয়ার জন্য আইনি নোটিশ পাওয়ার পর এত দ্রুত কেন কার্যাদেশ জারি করা হলো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আদালতের বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে?

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বক্তব্য

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানার সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এ এফ এম আরাফাত হোসেন বলেন, ১ কোটি ৩৫ লাখ এডি সিরিঞ্জের দরপত্রে সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস কালো তালিকাভুক্ত কি না, কার্যাদেশ দেওয়ার আগে অনলাইনেও যাচাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে অনলাইনে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তার দাবি।

২০২২ ও ২০২৪ সালের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ওই সময় তিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন না। ফলে সেসব বিষয়ে তার জানা নেই।

প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি

বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি।

ফলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সরকারি ক্রয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার তাগিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ সরকারি ক্রয়ে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “যদি যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে সরকারি কাজ দেওয়া হয়, তাহলে পুরো সিস্টেম ব্যর্থ হবে। আর রাষ্ট্রের কোনো ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হলে এর ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ। তাই সরকারি কেনাকাটায় যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া জরুরি। এতে দেশের নাগরিকরাই উপকৃত হবেন। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।”

প্রশ্ন এখন জবাবদিহি ও নজরদারি নিয়ে

বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো একই ধরনের নয়; কোথাও জাল অথরাইজেশন সার্টিফিকেটের অভিযোগ, কোথাও নিম্নমানের বা স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত পণ্য সরবরাহ, কোথাও দরপত্রের শর্ত নিয়ে প্রশ্ন, আবার কোথাও সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে কিছু অভিযোগ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার কথা নথিতে উল্লেখ আছে, আবার কিছু অভিযোগ বর্তমানে আদালত, তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন।

তবে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ও তদন্তের তথ্য থাকার পরও কীভাবে পরবর্তী সময়ে সরকারি ক্রয়ে বারবার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলো—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী সংস্থা, বিপিপিএ এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা জরুরি।

বিশেষ করে কালো তালিকাভুক্তির সময়সীমা ২০৩৪ সাল পর্যন্ত উল্লেখ থাকার পরও ২০২৬ সালে নতুন সরকারি কার্যাদেশ পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে সম্ভব হলো, সেটিও পৃথকভাবে যাচাইয়ের দাবি রাখে।

সরকারি অর্থে কেনাকাটায় কোনো প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, পূর্ববর্তী কর্মদক্ষতা, কালো তালিকাভুক্তির তথ্য, আদালতের মামলা, সরবরাহ করা পণ্যের মান এবং প্রস্তুতকারকের অনুমোদন—এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই করা গেলে একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শেষ পর্যন্ত সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সর্বোচ্চ মানের পণ্য, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, স্বচ্ছ দরপত্র এবং জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা। অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান স্পষ্ট করা—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!