ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

menu

ডেঙ্গুতে আরও ১০ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

ডেঙ্গুতে আরও ১০ মৃত্যু

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই, দুই সিটি করপোরেশনসহ, ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও ডেঙ্গুতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

এক দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ঢাকা বিভাগে

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে। এ অঞ্চলে এক দিনে ৪৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ ছাড়া একই সময়ে—

খুলনা বিভাগে ৩০২ জন
চট্টগ্রাম বিভাগে ২২২ জন
বরিশাল বিভাগে ২০৩ জন
রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৪ জন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭ জন
ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ জন
রংপুর বিভাগে ৭৫ জন
সিলেট বিভাগে ১৮ জন

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অর্থাৎ রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে।

এক দিনে মৃত্যু ১০ জনের, কোন এলাকায় কত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে—

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২ জন
খুলনা বিভাগে ৩ জন
বরিশাল বিভাগে ২ জন
ঢাকা বিভাগে, সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ১ জন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১ জন
রাজশাহী বিভাগে ১ জন

মারা গেছেন।

এক দিনে দেশের একাধিক বিভাগ ও দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মৃত্যুর ঘটনা ডেঙ্গুর বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চলতি বছরে ঢাকায় মৃত্যু ১২৭ জনের

চলতি বছরের শুরু থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৭ জন। এরপর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা হলো—

এলাকা    মৃত্যু
ঢাকা বিভাগসহ দুই সিটি করপোরেশন    ১২৭
খুলনা বিভাগ    ৫৫
বরিশাল বিভাগ    ২৪
চট্টগ্রাম বিভাগ    ২৫
ময়মনসিংহ বিভাগ    ২৩
রাজশাহী বিভাগ    ১৯
রংপুর বিভাগ    ৬
সিলেট বিভাগ    ২

এই হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার পাশাপাশি খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশালেও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

হাসপাতালমুখী রোগীর চাপ বাড়ছে

ডেঙ্গুর মৌসুমে নতুন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা নয়—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ৪৮০ জন রোগী ভর্তি হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩০২ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২২২ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্যও পরিস্থিতির বিস্তৃতি তুলে ধরছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন কিংবা যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে—এসব জায়গায় নিয়মিত নজর দেওয়া প্রয়োজন। জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এবং ত্বকে র‍্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে রোগীর অবস্থা ব্যক্তি ও রোগের পর্যায়ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অবনতি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটব্যথা, বমি, রক্তপাত বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২৮১ জনের মৃত্যু এবং এক দিনে প্রায় দুই হাজার নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য ডেঙ্গু পরিস্থিতির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় রোগ নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!