দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের উপসর্গ নিয়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এক দিনে ৯ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন, সিলেট বিভাগে দুজন, চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছেন।
ফলে চলতি বছরে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬ জনে।
এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৯৫ জন মারা গেছেন।
২৪ ঘণ্টায় ১১৩ জনের হাম শনাক্ত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই সময়ে নতুন করে ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২১২ জনে।
অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হলেও ওই সময়ে নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর চাপ
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২২৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর ফলে চলতি বছর এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪১ জনে।
হামের উপসর্গ হিসেবে সাধারণত জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মোট চিত্রে বাড়ছে উদ্বেগ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, চলতি বছরে দেশে হামের সংক্রমণ ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। একদিকে নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে, অন্যদিকে সন্দেহভাজন বা উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ছাড়িয়েছে।
বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু এবং নতুন করে ১ হাজার ২২৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ার তথ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।
তবে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ—এই দুই শ্রেণির তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হামজনিত কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ও পরীক্ষার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিভাগভিত্তিক নজরদারি জোরদারের প্রয়োজন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে এসব এলাকায় আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীদের শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার বিষয়েও পরিবারগুলোকে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী দৈনিক হিসাবেই জানা যাবে, দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে।

