ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

menu

অটোরিকশার কারণে স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে ঢাকা: সড়কমন্ত্রী

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

অটোরিকশার কারণে স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে ঢাকা: সড়কমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার সড়কে অটোরিকশার সংখ্যা ও চলাচলের কারণে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, নগরীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোরিকশাকে নীতিমালার আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অটোরিকশার কারণে ঢাকার গতি কমছে

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে অটোরিকশা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক যান চলাচলের গতি কমে যাচ্ছে।

তাই অটোরিকশাকে পুরোপুরি অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলের সুযোগ না দিয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নীতিমালার মাধ্যমে অটোরিকশার চলাচল, সড়ক ব্যবহারের ধরন এবং নগরীর সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে এর সমন্বয় কীভাবে করা যায়, তা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

যানজট কমাতে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা

রাজধানীর যানজট ও ধীরগতির যান চলাচল দীর্ঘদিনের সমস্যা। নগরীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন কাজে চলাচল করেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি, গণপরিবহন, অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে সব ধরনের যানবাহনকে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে। অটোরিকশাকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগও সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

ধানমন্ডি লেকের আধুনিকায়ন

ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, সংস্কার শেষে লেকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে।

লেকটির পরিবেশ ও নান্দনিকতা উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য একটি আরও ব্যবহারবান্ধব পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পুনঃখননের ফলে লেকের জলধারণ ক্ষমতা ও পরিবেশগত গুরুত্ব আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

মন্ত্রী জানান, পরিবেশ উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

লেকে ময়লা না ফেলার আহ্বান

ধানমন্ডি লেকসহ রাজধানীর বিভিন্ন জলাশয় রক্ষায় নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, শুধু সরকারি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

লেকে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং নিজ শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জলাবদ্ধতা ঢাকার বড় সমস্যা

বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর জলাবদ্ধতাকে ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টি হলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও বাধাগ্রস্ত হয়।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৫০ কোটি টাকা

ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান শেখ রবিউল আলম।

এই অর্থের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্ষায় দ্রুত পানি সরানোর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে অনেকটা স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পরিবেশ ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন, নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অটোরিকশাকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ—সবগুলো বিষয়কে রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একদিকে নগরীর সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষা—দুই ক্ষেত্রেই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

অটোরিকশা নিয়ে নতুন নীতিমালা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বা ব্যবস্থাপনা চালু হবে, তা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নীতিমালার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকার যানজট, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সচেতনতার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!