দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি টানতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার রাতে রিভার প্লেটের বিখ্যাত এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা। বিদায়ী ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ আয়োজনও করেছে তাঁর স্পন্সর প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। মেসির শেষ ম্যাচের জার্সিতে তাঁর নাম ও ১০ নম্বরটি সাজানো হয়েছে সোনালি রঙের বিশেষ নকশায়।
আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ ১২৫ গোলের মালিক মেসির বিদায় শুধু একটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়; এটি আলবিসেলেস্তেদের ফুটবল ইতিহাসের একটি যুগেরও অবসান। তাঁর নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২২ বিশ্বকাপ, টানা দুটি কোপা আমেরিকা এবং আরও একাধিক আন্তর্জাতিক শিরোপা।
এখন বড় প্রশ্ন—মেসির পর আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি কার গায়ে উঠবে? আর তাঁর মতো একজন ফুটবল জাদুকরের অনুপস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের বিশ্বসেরা শক্তিগুলোর একটি হিসেবে ধরে রাখবে আর্জেন্টিনা?
সোনালি অক্ষরে লেখা মেসির বিদায়
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি হয়ে উঠেছেন দলের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এসেছে সাফল্য ও ব্যর্থতা—দুটিই। একসময় কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের ফাইনালে বারবার হারের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই হতাশার অধ্যায় পেছনে ফেলে মেসিই আর্জেন্টিনাকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক সাফল্য।
২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে ফিনালিসিমা এবং এরপর কাতার বিশ্বকাপ জয়—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তাঁর জায়গা অনন্য হয়ে উঠেছে।
১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে মেসির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি শুধু একটি নম্বর নয়। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এটি দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরাধিকার বহন করে।
১৯৯৪ সালে ম্যারাডোনা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার পর পাবলো আইমার, আরিয়েল ওর্তেগা ও হুয়ান রোমান রিকুয়েলমের মতো তারকারা এই জার্সি পরেছেন। প্রত্যেকেই ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান। কিন্তু ম্যারাডোনার বিশাল উত্তরাধিকার ও প্রত্যাশার চাপ সামলানো সহজ হয়নি কারও জন্য।
২০০৯ সালে রিকুয়েলমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ১০ নম্বর জার্সি পুরোপুরি মেসির হাতে চলে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন এই জার্সির নতুন প্রতীক।
ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে শুরুতে যে মেসিকে নিয়ে সংশয় ছিল, সময়ের সঙ্গে তিনিই আর্জেন্টিনার নতুন ফুটবল দেবতায় পরিণত হন।
মেসির মতো আরেকজন কি আসবেন?
মেসির বিদায়ের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই। তাঁর জায়গা কি কোনো একজন খেলোয়াড় পূরণ করতে পারবেন?
বাস্তবতা হলো—সম্ভাবনা খুবই কম।
মেসি ছিলেন একই সঙ্গে গোলদাতা, প্লে-মেকার, আক্রমণের সংগঠক এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন খেলোয়াড়। ফলে তাঁর পরিবর্তে একজন খেলোয়াড়কে বসিয়ে আগের কাঠামো ধরে রাখার চেয়ে আর্জেন্টিনাকে সম্ভবত দলগতভাবে নতুন কৌশল তৈরি করতে হবে।
বর্তমান স্কোয়াডে কয়েকজন তরুণ প্রতিভা অবশ্য সেই পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে রেখেছেন।
সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ হুলিয়ান আলভারেস
মেসির ১০ নম্বর জার্সির সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় সবচেয়ে নিরাপদ নাম হুলিয়ান আলভারেস।
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মেসি সীমিতসংখ্যক ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকলেও আলভারেস নিয়মিত আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর গতি, প্রেসিং, বল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং গোলের সামনে দক্ষতা তাঁকে স্কালোনির দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত করেছে।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয়ে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার আক্রমণকে ধারালো করে তুলেছিলেন।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ট্রেবলজয়ী দলের সদস্য ছিলেন আলভারেস। পরবর্তীতে আতলেতিকো মাদ্রিদেও নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তবে তাঁর একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মেসির মতো গভীর থেকে খেলা তৈরি করা বা আক্রমণের প্রতিটি পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তাঁর নেই। ফলে ১০ নম্বর জার্সি পেলেও মেসির ভূমিকা হুবহু পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না।
নিকো পাজ হতে পারেন মেসির সবচেয়ে কাছের প্রতিচ্ছবি
মেসির খেলার ধরন ও অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করলে নিকো পাজের নামটি আলাদা করে আসে।
বাঁ পায়ের এই তরুণ আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার মাঠের মাঝখান থেকে খেলা তৈরি করতে পারেন, ড্রিবলিংয়ে দক্ষ এবং সংকীর্ণ জায়গায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
ইতালির কোমোর হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ফুটবলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রক্ষণভাগের মধ্যে জায়গা তৈরি, নিখুঁত পাস এবং সৃষ্টিশীলতার কারণে তাঁকে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেসিও তাঁর ফুটবল বোধ ও সামর্থ্যের প্রশংসা করেছেন। তবে মেসির সঙ্গে তুলনা যতটা আকর্ষণীয়, বাস্তবতাও ততটাই কঠিন। নিকো পাজকে এখনও জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত প্রভাব বিস্তার এবং বড় ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে।
তিনি হয়তো মেসির মতো বিপুলসংখ্যক গোল করবেন না। বরং একটি দলীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল অংশ হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় ভূমিকা হতে পারে।
ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুওনো: সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সম্ভাবনা
আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুওনো।
রিভার প্লেটের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এই বাঁ পায়ের তরুণ ইউরোপে পাড়ি দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন। শুরুর সময়টা সহজ না হলেও তাঁর প্রতিভা নিয়ে সংশয় নেই।
মাস্তান্তুওনোর খেলায় মেসির সঙ্গে কিছু মিলও রয়েছে। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে খেলা, ছোট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত ড্রিবলিং এবং দূরপাল্লার শটে গোল করার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে চেনায়।
ভেনেসিয়ার বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিক বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই ম্যাচে তিনি দূরপাল্লার শট ও বক্সের ভেতরের নিখুঁত ফিনিশিং—দুই ধরনের গোলই করেছেন।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও তিনি ইতোমধ্যে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন। ফলে মেসির উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নামটি কেবল সম্ভাবনার তালিকায় নেই, বাস্তব আলোচনাতেও রয়েছে।
তবে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর ওপর মেসির মতো প্রত্যাশার পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত—সেটিও বড় প্রশ্ন।
থিয়াগো আলমাদা: হিসাবের বাইরে থাকা সম্ভাবনা
থিয়াগো আলমাদাও ১০ নম্বর জার্সির জন্য একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। মেসির অনুপস্থিতিতে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনা করে আসছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ভেলেজ সার্সফিল্ডের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা আলমাদা মাঝমাঠের পাশাপাশি দুই উইংয়েও খেলতে পারেন। ছোটখাটো শারীরিক গড়ন হলেও তাঁর গতি, স্ট্যামিনা এবং দ্রুত দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের সদস্যও ছিলেন তিনি।
তবে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি আলমাদা। আতলেতিকো মাদ্রিদে তাঁর সময়টা প্রত্যাশামতো সফল হয়নি। পরে রিভার প্লেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে স্কালোনির আস্থাভাজন হওয়াই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই ১০ নম্বর জার্সির দৌড়ে তিনি হয়তো প্রথম সারির প্রার্থী নন, কিন্তু তাঁকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুযোগও নেই।
মেসির পর শুধু ১০ নম্বর বদলালেই হবে না
মেসির উত্তরসূরি নির্ধারণের চেয়ে বড় কাজ হবে তাঁর অনুপস্থিতিতে পুরো দলকে নতুনভাবে সাজানো।
মেসি এমন একজন খেলোয়াড় ছিলেন, যিনি একই সঙ্গে আক্রমণ শুরু করতে পারতেন, মাঝমাঠে নেমে বল নিতে পারতেন, শেষ পাস দিতে পারতেন এবং নিজেই গোল করতে পারতেন। ফলে তাঁর শূন্যতা একটি নির্দিষ্ট পজিশন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
সম্ভবত আর্জেন্টিনাকে মেসির দায়িত্ব একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।
হুলিয়ান আলভারেস সামনে থেকে আক্রমণ সামলাতে পারেন। নিকো পাজ হতে পারেন সৃষ্টিশীলতার কেন্দ্র। মাস্তান্তুওনো ডান দিক থেকে আক্রমণ তৈরি করতে পারেন। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দিতে পারেন নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতার সমন্বয়।
আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেসের উপস্থিতিও আর্জেন্টিনাকে বাড়তি শক্তি দেবে।
শুধু মেসি নন, আরও কয়েকজনের বিদায় সামনে
আর্জেন্টিনার পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ কেবল মেসিকে ঘিরেই নয়।
বিশ্বকাপের পর নিকোলাস ওটামেন্ডি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। এমিলিয়ানো মার্তিনেস, লিয়ান্দ্রো পারদেস ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রাও ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
রদ্রিগো ডি পল ও জিওভানি লো সেলসোর বয়সও ত্রিশের কোঠায়।
অর্থাৎ স্কালোনির সামনে একদিকে মেসির মতো মহাতারকার বিদায়, অন্যদিকে অভিজ্ঞ প্রজন্মের ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার বাস্তবতা। এর বিপরীতে নতুন প্রজন্মকে দ্রুত দায়িত্ব নিতে হবে।
স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন
আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ঘিরে।
স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তিনি চুক্তি বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা যে সাফল্য পেয়েছে, তা বিবেচনায় তাঁকে ধরে রাখা দলের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে। কারণ তিনি শুধু মেসিকে কেন্দ্র করে দল গড়ে তোলেননি; বরং একটি কার্যকর দলীয় কাঠামো তৈরি করেছেন।
তবে মেসি-পরবর্তী যুগে সেই কাঠামো কতটা সফলভাবে বদলানো যায়, সেটিই হবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ম্যারাডোনার পর যা হয়েছিল, সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়
আর্জেন্টিনা এর আগেও এমন পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছে।
১৯৯৪ সালে ম্যারাডোনার বিদায়ের পর দলটি দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকতা হারিয়েছিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও ২০০২ সালে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকাতেও একাধিকবার হতাশ হতে হয়েছিল তাদের।
ম্যারাডোনার ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন আইমার, ওর্তেগা ও রিকুয়েলমের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা। কিন্তু কেউই তাঁর উত্তরাধিকার পুরোপুরি বহন করতে পারেননি।
মেসির ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা হতে পারে। তবে এবার আর্জেন্টিনার হাতে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী তরুণ প্রজন্ম রয়েছে।
নতুন যুগে আর্জেন্টিনার সামনে বড় পরীক্ষা
মেসির বিদায় মানেই আর্জেন্টিনার সাফল্যের সমাপ্তি নয়। বরং এটি একটি নতুন যুগের শুরু।
আলভারেস, নিকো পাজ, মাস্তান্তুওনো, আলমাদা, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্তিনেসকে ঘিরে আর্জেন্টিনার সামনে শক্তিশালী একটি দল গড়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে আগের মতো নির্ভরতা রাখা সম্ভব হবে না। দলকে আরও বেশি সমন্বিত, বহুমুখী এবং কৌশলগতভাবে নমনীয় হতে হবে।
মেসি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এখন তাঁর বিদায়ের পর নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব হবে সেই সাফল্যের ধারাকে এগিয়ে নেওয়া।
এস্তাদিও মনুমেন্তালে মঙ্গলবার রাতে যখন মেসি শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠ ছাড়বেন, তখন সেটি কেবল একজন কিংবদন্তির বিদায় হবে না—একটি ফুটবল যুগের পর্দা নামবে। একই সঙ্গে শুরু হবে নতুন এক অধ্যায়, যেখানে ১০ নম্বর জার্সির গুরুত্ব থাকবে, কিন্তু মেসির মতো তারকা তৈরির দায় কোনো এক খেলোয়াড়ের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
আর্জেন্টিনার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—মেসিকে প্রতিস্থাপন করা নয়, মেসি-পরবর্তী একটি নতুন আর্জেন্টিনা তৈরি করা।
তথ্যসূত্র: গোল ডটকম

