বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আস্থার সংকট। ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং বাড়তি বিলের আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনে বাধা দিচ্ছেন গ্রাহকদের একটি অংশ। কোথাও কোথাও এ নিয়ে স্মারকলিপি ও বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটছে। ফলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকায় সরকারের সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় আট লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপনের জন্য নেওয়া প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৮৭১ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া প্রকল্পটি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের বাধার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
ডিমান্ড চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের যত ভয়
প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের প্রধান উদ্বেগ ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারে প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জের সময় ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কেটে নেওয়া হয়। কোনো মাসে রিচার্জ না করলে ওই মাসের নির্ধারিত চার্জ পরবর্তী রিচার্জের সময় সমন্বয় করা হয়।
আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লোডের বিপরীতে প্রতি কিলোওয়াটে মাসে ৪২ টাকা হারে ডিমান্ড চার্জ প্রযোজ্য। এর সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ ভ্যাটও কাটা হয়।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো আবাসিক গ্রাহকের অনুমোদিত লোড যদি দুই কিলোওয়াট হয়, তাহলে মাসিক ডিমান্ড চার্জ দাঁড়ায় ৮৪ টাকা। এর সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট যুক্ত হবে।
ডিপিডিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড—উভয় ব্যবস্থাতেই গ্রাহকের ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণের ভিত্তিতে এনার্জি চার্জ নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ মিটার পরিবর্তনের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহারভিত্তিক মূল খরচ আলাদা হওয়ার কথা নয়।
প্রিপেইড মিটারে রয়েছে রিবেটও
শুধু চার্জ নয়, প্রিপেইড ব্যবস্থায় কিছু সুবিধার কথাও জানিয়েছে ডিপিডিসি। প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করা এনার্জির ওপর সরকার প্রণোদনা হিসেবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট বা ছাড় দেয়।
এ ছাড়া প্রিপেইড মিটার সংযোগের ক্ষেত্রে পোস্টপেইড সংযোগের মতো নিরাপত্তা জামানত প্রয়োজন হয় না।
ডিপিডিসির বক্তব্য, এসব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ডিমান্ড চার্জ ও বাড়তি বিল নিয়ে নানা ধরনের ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে স্মারকলিপির পর মিটার স্থাপন স্থগিত
গ্রাহকদের বাধার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে নারায়ণগঞ্জ এলাকায়। ‘নাগরিক অধিকার ফোরাম’, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’সহ বিভিন্ন ব্যানারে একটি দল গত ২২ জুলাই ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী (দক্ষিণ)-এর দপ্তরে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিরোধিতা করে স্মারকলিপি দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় আপাতত মিটার স্থাপনের কাজ স্থগিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ডিপিডিসি বলছে, শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, তাদের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সময় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও গ্রাহকদের আপত্তি, কোথাও বিক্ষোভ এবং কোথাও ভুল তথ্য প্রচারের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
মসজিদেও ছড়াচ্ছে ভুল তথ্যের অভিযোগ
ডিপিডিসির দাবি, প্রিপেইড মিটার নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি মসজিদেও প্রিপেইড মিটার সম্পর্কে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর ফলে মিটার স্থাপনের জন্য কর্মীরা মাঠে গেলে গ্রাহকদের একটি অংশ তাদের বাধা দিচ্ছেন। কোনো কোনো এলাকায় পুরো কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে ডিমান্ড চার্জ ও বাড়তি বিলের বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ডিমান্ড চার্জ প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা এবং বাড়তি বিল হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে একটি গ্রুপ প্রিপেইড মিটার স্থাপনে বাধা দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আট লাখ ৫০ হাজার মিটারের প্রকল্প
ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় আট লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭১ কোটি টাকা।
২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মিটার স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিপিডিসির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের আপত্তি কাটিয়ে অবশিষ্ট প্রায় সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার নির্ধারিত বা বর্ধিত সময়ের মধ্যে স্থাপন করা।
কেন বাড়ছে গ্রাহকদের অনাস্থা
প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের অনাস্থার পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের অভিযোগ, পোস্টপেইড মিটারে অস্বাভাবিক বিল এবং বিল সংশোধন নিয়ে ভোগান্তির ঘটনাও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ফলে প্রিপেইড মিটার নিয়ে নতুন করে কোনো ধরনের বাড়তি খরচ বা জটিলতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর) মোহাম্মদ তারিকুল হক বলেন, মাঠপর্যায়ে বিষয়গুলো ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। বিল নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল, সেগুলো সংশোধন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর দাবি, ২০১৩ সাল থেকেই প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং প্রযুক্তিটি পরীক্ষিত ও উন্নত। প্রিপেইড মিটারে ‘ভূতুড়ে বিল’ ওঠার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
ডিপিডিসির সচেতনতামূলক প্রচারণা
গ্রাহকদের ভুল ধারণা দূর করতে ডিপিডিসি বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে—
প্রিপেইড মিটারের সুবিধা সম্পর্কে প্রচার চালানো;
গ্রাহকদের অবহিত করে প্রেস রিলিজ প্রকাশ;
ডিপিডিসির ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ;
ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও প্রচার;
মিটার ব্যবহারের নিয়মসংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ;
মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের বোঝানোর উদ্যোগ
নেওয়া হচ্ছে।
তবে এসব উদ্যোগের পরও বিভিন্ন এলাকায় আপত্তি ও বাধা পুরোপুরি দূর হয়নি।
প্রকল্পে অর্থ ও আমদানি জটিলতাও আছে
শুধু গ্রাহকদের বাধাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ ও সরঞ্জামসংক্রান্ত কিছু জটিলতাও রয়েছে।
প্রকল্পের প্যাকেজ-১ চুক্তির আওতায় দুই লাখ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড এবং ৬৫টি ডাটা কালেক্টর ইউনিট ছাড়া সাড়ে ছয় লাখ মিটারসহ আনুষঙ্গিক অধিকাংশ মালামাল আমদানি করা হয়েছে।
কিছু মালামাল ঠিকাদারের কারখানায় প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে।
সবশেষ অনুমোদিত বিশেষ সংশোধিত ডিপিপিতে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান না থাকায় দুই লাখ মিটারের মালামাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ফলে ওই মিটারগুলোকে নির্ধারিত সময়ে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ কেন বাড়ানো হচ্ছে
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের বাধা, অসমাপ্ত মিটার স্থাপন, সরঞ্জাম আমদানির জটিলতা এবং প্রকল্প-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নির্ধারণ।
প্যাকেজ-১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর দুই বছরের অপারেশনাল সাপোর্ট সার্ভিস বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা রয়েছে। প্রকল্প চলাকালে এই ব্যয় হবে না বলে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ডিপিপির বরাদ্দ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ডিপিডিসির নিজস্ব তহবিল থেকে এ ব্যয় বহন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রিপেইড মিটারের মূল উদ্দেশ্য কী?
ডিপিডিসির স্মার্ট প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধু মিটার পরিবর্তন নয়। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়টিও যুক্ত।
প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো অনলাইন ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ ও পরিশোধের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে গ্রাহকসেবার মান বাড়ানো এবং যথাসময়ে শতভাগ বিদ্যুৎ বিল বা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা ব্যবস্থাপনা বা ডিমান্ড সাইড লোড ম্যানেজমেন্ট, সিস্টেম লস কমানো এবং গ্রাহক পর্যায়ে স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করাও প্রকল্পের লক্ষ্য।
থাকবে ডাটা ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক নেটওয়ার্ক
প্রকল্পের আওতায় শুধু স্মার্ট প্রিপেইড মিটার নয়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
১৭টি ইউটিলিটি কাস্টমাইজেশন সেন্টার স্থাপন;
স্মার্ট মিটারিংয়ের জন্য আধুনিক নেটওয়ার্ক;
মিটার ডাটা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার;
ডাটা সেন্টার;
ডাটা রিকভারি সেন্টার;
অনলাইন ও মোবাইলভিত্তিক বিল পরিশোধ ব্যবস্থা।
অর্থাৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিপিডিসির বিদ্যুৎ বিতরণ ও গ্রাহকসেবা ব্যবস্থায় আরও বেশি ডিজিটাল নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা।
প্রযুক্তি নিয়ে আস্থা, কিন্তু গ্রাহকের আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ
স্মার্ট প্রিপেইড মিটারকে আধুনিক ও পরীক্ষিত প্রযুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে ডিপিডিসি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, প্রিপেইড ব্যবস্থায় ব্যবহারের আগে রিচার্জ করতে হয় বলে বিদ্যুৎ খরচ সম্পর্কে গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ ও ধারণা বাড়ে। অন্যদিকে ডিপিডিসির জন্যও রাজস্ব আদায় ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ার কথা।
কিন্তু প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, ভ্যাট ও রিচার্জ ব্যবস্থার বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য না থাকলে ভুল বোঝাবুঝি আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে মিটার স্থাপনের আগে প্রতিটি গ্রাহককে তাঁর অনুমোদিত লোড অনুযায়ী কত ডিমান্ড চার্জ, কীভাবে মিটার ভাড়া ও অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ কাটা হবে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় বোঝানো প্রয়োজন।
সাড়ে তিন লাখ মিটার স্থাপনে সময় কম
প্রকল্পের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে অবশিষ্ট সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা ডিপিডিসির জন্য বড় কর্মযজ্ঞ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রাহকদের বাধা ও প্রকল্পের কিছু সরঞ্জাম আমদানির জটিলতা।
ফলে শুধু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে এনে মাঠপর্যায়ে মিটার স্থাপনের কাজ নির্বিঘ্ন করাও জরুরি।
ডিপিডিসি যদি স্বচ্ছভাবে চার্জ কাঠামো, রিচার্জ পদ্ধতি, রিবেট এবং মিটার ব্যবস্থাপনার তথ্য গ্রাহকদের সামনে তুলে ধরতে পারে, তাহলে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ৮৭১ কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার পরীক্ষার মুখে। সরকারের স্মার্ট বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য পূরণে মিটার স্থাপন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকের আস্থা অর্জন। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে শুধু সাড়ে তিন লাখ মিটার স্থাপন নয়, পুরো স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থার সুফল পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

