ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

menu

শেখ হাসিনার ‘ডিসেম্বর বার্তা’: রাজনৈতিক কৌশল, নাকি দেশে ফেরার বাস্তব প্রস্তুতি?

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:১০ এএম

শেখ হাসিনার ‘ডিসেম্বর বার্তা’: রাজনৈতিক কৌশল, নাকি দেশে ফেরার বাস্তব প্রস্তুতি?

ছবিঃ সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণাকে ঘিরে দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। মাঠপর্যায়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সাংগঠনিক যোগাযোগ, দায়িত্ব বণ্টন, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করা এবং নিয়মিত সভা-সেমিনারের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার চেষ্টা চলছে।

তবে শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে ফিরবেন, তার কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট আছে কি না, দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কী হবে এবং ভারত থেকে তাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের ভূমিকা কী হতে পারে—এসব প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেই বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে যুক্ত হবে ভ্রমণ নথি, আদালতের আদেশ, গ্রেপ্তার, সাজা কার্যকর এবং দুই দেশের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। ফলে ডিসেম্বরের ঘোষিত প্রত্যাবর্তন বাস্তবে কীভাবে সম্ভব হবে, সেটি নির্ভর করবে একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর।

দেশে ফেরার ঘোষণায় আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা সামনে রেখে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সেখানে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে।

এর আগেও তিনি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ ও সমন্বয় বৈঠক করে আসছেন বলে জানা গেছে।

দলটির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, যেসব জেলা ও ইউনিটে কমিটি নেই সেখানে কমিটি গঠন, অসম্পূর্ণ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং নিষ্ক্রিয় নেতাদের পরিবর্তে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, হামলা-মামলার শিকার হওয়া এবং কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

তবে ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ বা চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়নি বলেও জানা গেছে। দলের একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, নেত্রীর কাছ থেকে চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে আইনি প্রশ্ন

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি বর্তমানে কী ধরনের ভ্রমণ নথি ব্যবহার করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা থাকলে দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এটি আলাদা আইনি বিষয়। কিন্তু বিদেশ থেকে বাংলাদেশে বিমানে আসার ক্ষেত্রে বৈধ ট্রাভেল ডকুমেন্ট প্রয়োজন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শেখ হাসিনার কাছে বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি না থাকলে বাংলাদেশি মিশনের মাধ্যমে ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যুর বিষয়টি সামনে আসবে। আর এ ধরনের নথি ইস্যুর ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সরকার যদি তাকে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাধা না দেয় এবং প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে, তাহলে বিমানবন্দরে আসার ক্ষেত্রে আলাদা বাধা থাকার কথা নয়। তবে দেশে প্রবেশের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আদালতের আদেশ অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।

দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার ও সাজা কার্যকরের প্রশ্ন

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—তিনি দেশে ফিরলে কী হবে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের দেওয়া রায় আইন অনুযায়ী কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, সরকার তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরাতে চায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত সরকারের কাছে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য চিঠি ও তাগিদপত্র পাঠানো হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নয়, বরং বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেখতে চায়।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য হলো—শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে রাজপথে থাকবেন।

ফলে একই ঘটনাকে ঘিরে সরকারের অবস্থান ও আওয়ামী লীগের প্রত্যাশার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া কতটা জটিল?

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ফলে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন নয়, ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ বা বিনিময়সংক্রান্ত চুক্তি থাকলেও সেটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তব ও আইনি প্রশ্ন রয়েছে।

তার যুক্তি, শেখ হাসিনা ভারতে বন্দি অবস্থায় নেই। ফলে তাকে ‘বন্দি বিনিময়’ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি সরাসরি প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ভারত সরকার চাইলে নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাকে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করে বাংলাদেশে পাঠাতে পারে। কিন্তু ভারত সে সিদ্ধান্ত না নিলে এবং শেখ হাসিনা সেখানে বন্দি না থাকলে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে তাকে ফেরানোর বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।

অর্থাৎ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগের ‘রোডম্যাপ’ কতটা বাস্তব?

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে সামনে রেখে দলীয়ভাবে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। অনলাইন সভা-সেমিনারের পাশাপাশি আটক নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রমও চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে বলা এসব প্রস্তুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

কারণ, আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে সীমিত বা অনুপস্থিত। ফলে ভার্চুয়াল সাংগঠনিক তৎপরতা কতটা দ্রুত মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ নিতে পারবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

রাজনৈতিক কৌশল নাকি বাস্তব প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন।

তার মতে, দলীয় প্রধান হিসেবে নেতাকর্মীদের ধরে রাখা, তাদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি করা এবং সংগঠনের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এমন ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনার ঘোষণার ফলে মাঠে বড় ধরনের কর্মসূচি না থাকলেও রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও সরকারের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ একটি ঘোষণার মাধ্যমেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পেরেছেন।

তবে অধ্যাপক স্নিগ্ধার মতে, ঘোষণাকে বাস্তবে রূপ দিতে না পারলে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের কাছে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হওয়ার পর তা বাস্তবায়িত না হলে সাংগঠনিক মনোবল দুর্বল হতে পারে।

মাঠে সংঘাতের আশঙ্কাও দেখছেন আইনজীবীরা

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছেন মনজিল মোরসেদ।

তার মতে, একদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি বিমানবন্দর ঘেরাও বা প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—একদিকে আদালতের আদেশ ও আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর করা, অন্যদিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাত ও জননিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালতের নির্দেশ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও জড়িয়ে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভিন্ন মূল্যায়ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ উল আজম সওদাগরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন হওয়া সহজ নয়।

তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। তার মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নের আগে তার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াই প্রধান হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন তিনি।

ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য কোথায়?

শেখ হাসিনা বাস্তবে ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়। কিন্তু তার ঘোষণার রাজনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান।

একদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার ও আদালতের রায় কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। আইনজীবীরা ট্রাভেল ডকুমেন্ট, প্রত্যর্পণ এবং আদালতের আদেশের বিষয়টি সামনে আনছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা দেখছেন দলীয় সংগঠন টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে।

ফলে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের ঘোষণা এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনটি প্রশ্নকে সামনে এনেছে—তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন, দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হবে এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা উত্তপ্ত হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে একাধিক বিষয়ের ওপর। প্রথমত, তার বৈধ ভ্রমণ নথির ব্যবস্থা কীভাবে হবে। দ্বিতীয়ত, ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী হবে। তৃতীয়ত, দেশে প্রবেশের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আদালতের আদেশ কীভাবে কার্যকর হবে।

এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক প্রস্তুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় সরকার কী ধরনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে প্রস্তুতির কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, ভ্রমণপথ বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।

সুতরাং ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেটি বাস্তবে রূপ নেবে কি না এবং নিলে কোন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়—এই দুটি প্রশ্নের উত্তরই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!