ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

menu

জন্মসনদে কারও নাম ‘লক্জ্ক্’, কারও ‘ক্‌জ্‌ক্‌ল্‌জ্ এমন সর উদ্ভট নাম ভুলের খেসারত দিচ্ছেন নাগরিক

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০১:২০ পিএম

জন্মসনদে কারও নাম ‘লক্জ্ক্’, কারও ‘ক্‌জ্‌ক্‌ল্‌জ্ এমন সর উদ্ভট নাম ভুলের খেসারত দিচ্ছেন নাগরিক

ছবিঃ সংগৃহীত

জন্মনিবন্ধন সনদে নামের জায়গায় অদ্ভুত শব্দ, কোথাও আবার ইংরেজি অক্ষরের জটলা কিংবা শুধু শূন্য ও ড্যাশ। এমন ভুলের কারণে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেক নাগরিক। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভুলের অনেকগুলোই নাগরিকের করা নয়; বরং পুরোনো নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন কার্যালয় থেকেই তথ্যের ঘরে অস্বাভাবিক শব্দ বা ভুল নাম বসানো হয়েছিল।

ফলে এখন প্রয়োজনীয় কাজে জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করতে গিয়ে সেই ভুলের দায়ও নিতে হচ্ছে নাগরিকদের। সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন, স্থানীয় কার্যালয়ে যাওয়া, অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা এবং আবার সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ফিরে আসাসহ একাধিক ধাপ পেরোতে হচ্ছে তাদের।

আজ ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। এমন সময়ে জন্মনিবন্ধনের ভুল, সংশোধন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও নাগরিক ভোগান্তির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

বৃত্তি পরীক্ষার আগে ছেলের জন্মসনদে অদ্ভুত নাম

রাজধানীর একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমার ১১ বছর বয়সী ছেলে এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় জন্মনিবন্ধন সনদ চায়।

কানিজ ফাতেমা জানান, ২০১৫ সালে তাঁর ছেলের জন্মসনদ শুধু ইংরেজি ভাষায় নেওয়া হয়েছিল। পরে দুই ভাষায় সনদ নিতে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ওয়েবসাইটে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বাংলায় ছেলের নামের জায়গায় লেখা রয়েছে—‘ক্‌জ্‌ক্‌ল্‌জ্‌’। তাঁর স্বামীর নামের জায়গাতেও রয়েছে ‘লক্‌জ্‌ক্‌’ ধরনের অস্বাভাবিক শব্দ।

এ ধরনের ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়ে তিনি বিস্মিত। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য সনদটি সংশোধন করা ছাড়া এখন আর কোনো পথও নেই।

 

মায়ের নাম ‘শাহানা’ থেকে ‘দতককা’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪ কার্যালয়ে গিয়েও একই ধরনের সমস্যায় পড়া কয়েকজনের দেখা মেলে।

মিজানুর রহমান সেখানে অন্য একজনের জন্মসনদ সংশোধনের জন্য গিয়েছিলেন। ওই সনদে আবেদনকারীর মায়ের নাম ‘শাহানা’র পরিবর্তে লেখা হয়েছে ‘দতককা’।

আরেক ভুক্তভোগী নাছির আহম্মেদ বেলাল জানান, তাঁর বড় মেয়ের জন্মসনদে ইংরেজি নামের জায়গায় ভুল তথ্য এসেছে। তাঁর নিজের এবং স্ত্রীর নামের জায়গায় লেখা হয়েছে ‘LJKLJF’।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব অদ্ভুত নাম বা শব্দ তাঁরা নিজেরা দেননি। নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকেই এসব তথ্য সনদে যুক্ত হয়েছে।

‘যে ভুল আমি করিনি, তার দায় কেন নেব?’

নাছির আহম্মেদ বেলালের দুই মেয়ের জন্মসনদ সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে। সংশোধনের আবেদন করতে কম্পিউটারের দোকানের কর্মীকে তিনি ৩০০ টাকা দিয়েছেন বলে জানান।

তার প্রশ্ন, যে ভুল তিনি করেননি, সেই ভুল সংশোধনের জন্য কেন তাকে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হবে?

তিনি বলেন, ‘যে ভুল আমি করিনি, সে ভুলের দায় কেন আমাকে নিতে হচ্ছে, কেন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে?’

নাছিরের মতো অনেক নাগরিকের অভিযোগ, নিবন্ধনের সময় ভুলের উৎস যেখানে, সংশোধনের পুরো দায়িত্বও সেখানে না নিয়ে নাগরিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এক পরিবারের তিনজনের নাম ‘ইউওইউও’

কানিজ ফাতেমার ছেলের স্কুলের আরও কয়েকজন অভিভাবক একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

ফারজানা রহমান জানান, তাঁর সন্তানের জন্মসনদে নামের জায়গায় লেখা হয়েছে ‘ইউওইউও’। শুধু সন্তানের নয়, তাঁর নিজের ও স্বামীর নামের জায়গাতেও একই ধরনের অস্বাভাবিক শব্দ এসেছে।

অন্যদিকে তুহিনা আক্তার জানান, তাঁর মেয়ের নাম বাংলায় ঠিক থাকলেও তাঁর ও তাঁর স্বামীর নামের জায়গায় শুধু ‘০’ এবং ‘–’ চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

বৃত্তি পরীক্ষার জন্য এসব শিক্ষার্থীর জন্মসনদ প্রয়োজন হলেও সংশোধনের জটিলতা এড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আপাতত আগের ইংরেজি জন্মসনদ গ্রহণ করেছে বলে অভিভাবকেরা জানান। বাংলা সনদ পরে জমা দিতে বলা হয়েছে।

কেন এমন ভুল হয়েছিল?

নিবন্ধন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরোনো নিবন্ধন ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি সনদ আলাদাভাবে নেওয়ার সুযোগ থাকায় এ ধরনের ভুলের সূত্রপাত হয়েছে।

তিন বছর আগেও একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। কেউ শুধু ইংরেজি ভাষায় সনদ চাইলে আবেদনপত্রে ইংরেজি অংশটি পূরণ করা হতো। কিন্তু বাংলা অংশে কখনো কখনো সঠিক তথ্য না দিয়ে যেকোনো কিছু টাইপ করে দেওয়া হয়েছে।

ফলে ইংরেজি সনদে নাম ও অন্যান্য তথ্য ঠিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাংলা সনদ বের করতে গিয়ে দেখা গেছে অস্বাভাবিক শব্দ বা ভুল তথ্য।

একইভাবে যারা শুধু বাংলা সনদ নিয়েছিলেন, তাদের ইংরেজি অংশেও ভুল তথ্য থাকার ঘটনা ঘটেছে।

২০২৩ সাল থেকে বাংলা-ইংরেজি একসঙ্গে

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের (জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন) কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সাল থেকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় একই সঙ্গে জন্মসনদ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আগের সময়ের এসব ভুল কয়েক বছর ধরে সংশোধন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জন্মসনদ একটি আন্তর্জাতিক নথি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং ভিসাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে জালিয়াতি প্রতিরোধের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলা ও ইংরেজি সনদ একসঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভুল সংশোধনে চার ধাপ

রাজধানীর সিটি করপোরেশন এলাকার নাগরিকদের জন্য জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া একাধিক ধাপের।

প্রথমে অনলাইনে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর আবেদনটি স্থানীয় কাউন্সিলর কার্যালয় অথবা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট অঞ্চল কার্যালয়ে নিয়ে যেতে হয়।

সেখান থেকে আবেদন গ্রহণের পর তা জেলা প্রশাসকের পক্ষে কর্মরত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকের নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টে যায়। অনুমোদনের পর আবার আবেদনটি স্থানীয় কাউন্সিলর বা অঞ্চল কার্যালয়ে ফিরে আসে।

অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আবেদনকারীকে বিভিন্ন ধাপে একাধিক সরকারি কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়ও সংশোধনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং পরে আবার ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার প্রয়োজন হয়।

অঞ্চল পরিবর্তনের ভুলেও ভোগান্তি

শুধু নামের ভুল নয়, জন্মনিবন্ধনের অঞ্চল পরিবর্তন নিয়েও ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে।

মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, তাঁর বোনের জন্মনিবন্ধন ২০০৮ সালে করা হয়েছিল। ইব্রাহিমপুরের ঠিকানাটি আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭-এর আওতায় ছিল। পরে এলাকাটি অঞ্চল-৪-এর আওতায় নেওয়া হয়।

তার অভিযোগ, অঞ্চল পরিবর্তনের পর জন্মনিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন অঞ্চলে যাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বরং দুটি অঞ্চলে দুটি রেকর্ড দেখা যাচ্ছে এবং সেগুলোতেও ভুল রয়েছে।

ভুল সংশোধনের পাশাপাশি অঞ্চল পরিবর্তনের জন্যও তাকে সাত দিন ধরে ঘুরতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আট মাসে জন্মনিবন্ধন ৫৩ লাখের বেশি

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে সারা দেশে ৫৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি জন্মনিবন্ধন হয়েছে।

একই সময়ে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ জন্মনিবন্ধন সংশোধন করা হয়েছে।

এ সময়ে মৃত্যুনিবন্ধন হয়েছে ৫ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি। মৃত্যুনিবন্ধন সংশোধন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার।

এর আগে ২০২৫ সালে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন মিলিয়ে প্রায় ৭৯ লাখ ১৭ হাজার সংশোধনের তথ্য পাওয়া যায়।

সংশোধন ফি বাবদ কোটি কোটি টাকা

নাম ও ঠিকানার ভুল সংশোধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৫০ টাকা।

এই হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে জন্মনিবন্ধন সংশোধন বাবদ নাগরিকদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ফি আদায় হয়েছে।

২০২৫ সালে নাম-ঠিকানার ভুল সংশোধনের জন্য নাগরিকেরা ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি ফি দিয়েছেন।

তবে অনলাইনে আবেদন করতে না পেরে কম্পিউটারের দোকান বা সেবা প্রদানকারীর সহায়তা নিলে নাগরিকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ভুল সংশোধনের পেছনে ‘অসাধু চক্রের’ অভিযোগ

গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের নিজেও জন্মনিবন্ধন সংশোধনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

তার অভিযোগ, নিবন্ধন কার্যালয়ের ভুলকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও একটি অসাধু চক্র নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি মনে করেন, যত বেশি ভুল হবে, তত বেশি নাগরিককে সংশোধনের জন্য আসতে হবে এবং এতে সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিবন্ধন কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোনো ভুল সংশোধনের কাজ তারা কয়েক বছর ধরে করে আসছেন। পাশাপাশি বর্তমানে আবেদন করার সময় নাগরিকদের অসচেতনতার কারণেও কিছু ভুল হচ্ছে।

জন্মের পরপরই নিবন্ধনের পরামর্শ

এ বি এম জুবায়েরের মতে, দেশে প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জন্ম নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুর জন্মের পরপরই নিবন্ধন নিশ্চিত করা গেলে তথ্যের ভুল ও নাগরিক ভোগান্তি কমানো সম্ভব।

এ জন্য জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

তার মতে, শিশুর জন্মের সময়ই হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য নিবন্ধনের আওতায় আনা গেলে পরে নাগরিককে আলাদা করে বিভিন্ন কার্যালয়ে ছুটতে হবে না।

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’

রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, সরকারের ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের সঙ্গে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থাও সম্পৃক্ত।

তার মতে, জন্মনিবন্ধন নির্ভুল না হলে ডিজিটাল সুশাসনের বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই নাগরিকদের নিজেদের তথ্যের ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

তিনি পরামর্শ দেন, নিজের বা সন্তানের জন্মনিবন্ধনের আবেদন অন্য কাউকে দিয়ে করানোর পরিবর্তে সম্ভব হলে নিজে আবেদন করা উচিত। এতে তথ্য প্রবেশের সময় ভুলের সম্ভাবনা কমবে।

নির্ভুল জন্মনিবন্ধন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জন্মনিবন্ধন এখন শুধু একটি সাধারণ সনদ নয়। শিক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভিসা, সরকারি সেবা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

ফলে একটি অক্ষর বা নামের ভুলও পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ অন্যান্য নথির মধ্যে তথ্যের মিল না থাকলে নাগরিককে একাধিক জায়গায় সংশোধনের আবেদন করতে হতে পারে।

এ কারণে জন্মের সময় থেকেই সঠিক তথ্য সংগ্রহ, নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই এবং ভুল হলে সহজ ও নাগরিকবান্ধব সংশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

নাগরিকের দায় কতটুকু, কর্তৃপক্ষেরই বা কতটা?

জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। কিন্তু নাগরিকের করা নয় এমন ভুল সংশোধনের দায়িত্বও যখন নাগরিকের ওপর পড়ে, তখন এই প্রতিপাদ্যের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নাগরিকদের সচেতনতার প্রয়োজন যেমন রয়েছে, তেমনি নিবন্ধন কার্যালয়ের তথ্য এন্ট্রি, যাচাই ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পুরোনো ভুলগুলো দ্রুত ও সহজ পদ্ধতিতে সংশোধন, অযথা কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ কমানো, অনলাইন প্রক্রিয়া কার্যকর করা এবং নিবন্ধনের শুরুতেই তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা গেলে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবসে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—নাগরিকের পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি জন্মসনদ যখন ভুলে ভরা থাকে, তখন নির্ভুল নিবন্ধনের মাধ্যমে কীভাবে সত্যিকার অর্থে নিশ্চিত হবে সুশাসন?

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!