অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। একই সঙ্গে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করে সড়ক পরিবহন আইন ও সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সামনে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালকদের আকস্মিক মিছিল ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল নিয়ে চালকেরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হন।
প্রেসক্লাব এলাকায় দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশি হয়রানি ও অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে তারা প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ কর্মসূচির কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় অফিসগামী মানুষ, গণপরিবহন ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আন্দোলন ছেড়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা, মারধরের অভিযোগ
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন চালক কর্মসূচি ছেড়ে অটোরিকশা নিয়ে সড়ক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। এ সময় আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ তাদের মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত বা কতজন চালক হামলার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কী দাবি অটোরিকশা চালকদের?
সমাবেশে অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, তারা সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই অটোরিকশা চালাতে চান। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুসরণ করে তাদের যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ তাদের অযথা হয়রানি করছে। চেকিং ও অভিযানের নামে চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তারা।
তাদের বক্তব্য, অটোরিকশা চালকদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পাল্টা কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক নেতারা।
তারা বলেন, অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করা হবে। এ ক্ষেত্রে চালক ও শ্রমিকদের নিয়ে সংগঠিতভাবে কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
নেতারা আরও বলেন, অটোরিকশা চলাচল ও চার্জিং ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা তা মেনে নেবেন না। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনারও দাবি জানান তারা।
আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা
সমাবেশ থেকে অটোরিকশা চালকদের হয়রানি বন্ধ, চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং আইন মেনে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
মিছিল গিয়ে শেষ হয় রাজারবাগে
প্রায় তিন ঘণ্টার সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে অটোরিকশা চালকেরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় হয়ে রাজারবাগে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অটোরিকশা চলাচল নিয়ে সরকারের নীতিমালা, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ না হলে রাজধানীতে এ ধরনের আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

