পুনর্গঠনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় সাতটি রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। এসব রায়ে মোট ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ড, ১১ জন যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জন বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড।
তবে রায় ঘোষণার সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত একটি মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়নি। দণ্ডপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ এখনও পলাতক। আবার কোনো কোনো মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হয়েছে, কোনোটি রয়েছে উচ্চ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়। ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের খাতা ভারী হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হিসাব এখনো শূন্য।
এ পরিস্থিতিতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দণ্ড কার্যকরের দায়িত্ব কার, আপিল নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণ কী এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি জটিলতা রয়েছে—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
দুই বছরে সাত রায়, দণ্ডিত ৬৮
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিচার শুরু হয়।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় হয়েছে। এসব রায়ে মোট ৬৮ জনকে বিভিন্ন ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে—
২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
৩৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড
একজনের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য
একজন রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পেয়েছেন
তবে দণ্ডিত ৬৮ জনের মধ্যে ৪৭ জনই এখনো পলাতক বলে প্রসিকিউশনের তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে মাত্র চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পেরেছে।
কেন এখনো কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি?
প্রসিকিউশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল দায়িত্ব হলো অভিযোগের বিচার করে রায় ঘোষণা করা। কোনো আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সেটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে আপিলের সুযোগ থাকে।
কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হয়। এরপর চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ে নির্বাহী বিভাগের ওপর।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের বক্তব্য, আপিল দায়েরের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও মামলার সংখ্যা ও বিচারিক চাপের কারণে সব ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা বাস্তবে বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ বিদেশে অবস্থান করায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনাও রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২৩ মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে মাত্র চারজন গ্রেপ্তার
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের রায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে আসামিদের অনুপস্থিতি।
দণ্ডিত ৬৮ জনের মধ্যে ৪৭ জন পলাতক। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে মাত্র চারজন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরও অধিকাংশ দণ্ডিত ব্যক্তি দেশের বাইরে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ফলে চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলেও বাস্তবে সাজা কার্যকরের প্রশ্নে আসামিদের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
শেখ হাসিনাসহ একাধিক শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর মধ্য দিয়ে পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের সাতটি রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ জনে।
তবে এসব রায়ের কোনোটি এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর্যায়ে পৌঁছেনি।
৭০টির বেশি মামলা বিচারাধীন
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সাতটি মামলার রায়েই বিচারিক কার্যক্রম থেমে নেই। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
২০০৯ সাল থেকে সংঘটিত গুম, খুনসহ বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগও বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রসিকিউশনে প্রায় ৬০০টি অভিযোগ জমা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
এর মধ্যে ৭০টির বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অনেক মামলায় ইতোমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। ফলে সামনে আরও একাধিক মামলার রায় আসতে পারে।
আগের ট্রাইব্যুনালে কী হয়েছিল?
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল।
সেই ট্রাইব্যুনালে প্রথম রায় আসে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি। ওই রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি পলাতক থাকায় সেই রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
এরপর একই বছরের ১২ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। পরে জামায়াতের শীর্ষ নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়।
২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে ওই পর্যায়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শেষ হয়।
তৎকালীন ট্রাইব্যুনালে মোট ৫৬টি মামলার রায় হয়েছিল। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছিলেন ১৯৫ জন এবং দুজন খালাস পেয়েছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছয়জনের সাজা কার্যকর হয়।
‘মামলা হলেই মৃত্যুদণ্ড’—আগের প্রবণতা থেকে বেরিয়েছে ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের মতে, আগের ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে বর্তমান ট্রাইব্যুনালের বিচারিক পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, আগের ট্রাইব্যুনালে ১৯৭ জনের বিচার হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ছয়জনের। তাঁর মতে, তখন অনেক আসামি গ্রেপ্তার অবস্থায় ছিলেন।
গাজী এমএইচ তামিমের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের রায় ঘোষণার পর আপিল নিষ্পত্তির বিষয়টি উচ্চ আদালতের এখতিয়ার এবং সাজা কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের।
তিনি আরও বলেন, আগের ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি ছিল। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৯৫ শতাংশ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এবং দণ্ডিত হওয়ার হার ৯৯ শতাংশের বেশি হওয়ার কারণে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে ট্রাইব্যুনালে মামলা হওয়া মানেই মৃত্যুদণ্ড।
তবে বর্তমান ট্রাইব্যুনাল সেই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমানে অপরাধের ধরন, ব্যক্তির ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা বিবেচনা করে সাত বছর, ১০ বছর, যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মতো ভিন্ন ভিন্ন সাজা দেওয়া হচ্ছে।
আসামির ভূমিকা বিবেচনায় সাজা
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম চানখাঁরপুলের একটি মামলার উদাহরণও তুলে ধরেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় কনস্টেবল সুজন হোসেন সরাসরি গুলি চালালেও ট্রাইব্যুনাল তাকে তুলনামূলক কম সাজা দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তবে ওই সাজা বাড়ানোর জন্য প্রসিকিউশন আপিল করেছে।
একইভাবে কুষ্টিয়ার হত্যাযজ্ঞের মামলায় ১০ বছরের সাজা পাওয়া জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাজা বৃদ্ধির জন্যও আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
বিচার দ্রুত করার দাবি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিচারকাজ এগোয়নি এবং শুরুতেই বিলম্ব হয়েছে। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জনবল সংকটের মধ্যেও কিছু অগ্রগতি হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিচারপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে।
তিনি দ্রুত বিচারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ঘোষিত রায়গুলো কার্যকর করা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের অনুভূতি পেত। তাঁর ভাষায়, রায় কার্যকর না হলে ‘জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য; বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান আলাদাভাবে বিবেচ্য।
পলাতকদের ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো দণ্ডপ্রাপ্তদের পলাতক থাকা।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ পলাতক আসামিদের ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের বাংলাদেশের পুলিশ সরাসরি গিয়ে গ্রেপ্তার করতে পারে না।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থার আওতায় যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ঘোষিত সাতটি রায়ের সংক্ষিপ্ত চিত্র
শেখ হাসিনার মামলা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক রয়েছেন।
চানখাঁরপুলের মামলা
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আট আসামির মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন।
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলা
ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে আটজন পলাতক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলা
তৎকালীন এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলার ৩০ আসামির মধ্যে সাতজন গ্রেপ্তার রয়েছেন।
রামপুরার মামলা
তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
কুষ্টিয়ার হত্যাযজ্ঞ
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা
সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার সব আসামিই পলাতক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামনে কী?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ঘোষিত রায়গুলোর বিরুদ্ধে যেসব আপিল রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি কত দ্রুত হয়; পলাতক আসামিদের কতজনকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়; এবং চূড়ান্ত রায় হলে সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—এসবের ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
একই সঙ্গে প্রায় ৬০০ অভিযোগের মধ্যে যেসব মামলা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফলে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে শুধু নতুন মামলার বিচার ও রায় ঘোষণাই নয়, ঘোষিত রায়ের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও এখন বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

