ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে - অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:১০ এএম

উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে - অর্থমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশের তলানিতে থাকা বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরানোকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে শুধু প্রবৃদ্ধি অর্জনই যথেষ্ট নয়; এর সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। কাউকে পেছনে রেখে বা উন্নয়নের বাইরে রেখে সামগ্রিক ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। এ জন্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ চাপের মধ্যে রয়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে দেখা হচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়লে নতুন শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথও সুগম হবে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা কাটিয়ে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ানো গেলে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলেও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।

কর ব্যবস্থায় আস্থা ফেরানোর আশ্বাস

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা কমে গেলে রাজস্ব আহরণ যেমন বাধাগ্রস্ত হয়, তেমনি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। এ কারণে কর কাঠামোয় সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া কর কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। করদাতারা যেন একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্যে কর প্রদান করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে করদাতা ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থনীতির প্রয়োজন অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

কাউকে পেছনে রেখে টেকসই উন্নয়ন নয়

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সুফল যদি সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। কাউকে পেছনে ফেলে কিংবা কাউকে উন্নয়নের বাইরে রেখে সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগোতে হবে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক সুযোগের বিস্তারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

তরুণদের অর্থনীতি ভাবনায় ‘ইকোনথন ২০২৬’

ইউআইইউর জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ইকোনথন ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২২৪টি দল অংশ নিতে নিবন্ধন করে। অর্থনীতি ও জাতীয় অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হয় নির্বাচিত দলগুলো। গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।

পুরস্কার পেল বিজয়ী ও রানার্সআপরা

গ্র্যান্ড ফাইনাল শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তরুণদের মধ্যে অর্থনীতি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণী চিন্তার বিকাশ ঘটানোই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; তরুণ প্রজন্মের অর্থনৈতিক চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী ধারণাকেও নীতিনির্ধারণের আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের অর্থনীতির সামনে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি—বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকলে মানুষের আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাকে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে এখন মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!