দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা যখন অনেকটাই কমে এসেছিল, তখন চলতি বছর নতুন করে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২১২ জন। এর বাইরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৯৫ জনের মৃত্যুর এবং ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪১ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার ক্যাম্পেইন না হওয়া, শিশুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি না হওয়া, টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে অসঙ্গতি, মাঠপর্যায়ের মাইক্রোপ্ল্যানিংয়ের ঘাটতি এবং হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও আইসোলেশনের দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত রুটিন টিকাদানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সী শিশুদের একযোগে টিকা দেওয়ার ক্যাম্পেইন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালে এমআর টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, টিকার ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে তা হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যাম্পেইন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও এমআর টিকার পরিবর্তে নভেম্বরে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হয়।
ফলে প্রায় পাঁচ বছর দেশব্যাপী এমআর টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়ায় শিশুদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দেশে নতুন করে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। অত্যন্ত সংক্রামক এ ভাইরাস দ্রুত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিতে হয়।
ক্যাম্পেইন না হওয়ায় তৈরি হয়েছে প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকা দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে অতিরিক্ত প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির জন্য ক্যাচআপ বা বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন এ ধরনের ক্যাম্পেইন না হলে টিকার আওতায় না আসা বা কোনো কারণে বাদ পড়া শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ২০২০ সালের পর এমআর টিকার দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন না হওয়ায় শিশুদের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে ভাইরাসটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
মার্চের শেষ দিকে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করলে সরকার প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, ক্যাম্পেইন শুরুর আগে মাঠপর্যায়ে যথাযথ মাইক্রোপ্ল্যান তৈরি না হওয়ায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। পরবর্তীতে ২৮ জুন অনুষ্ঠিত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে তুলনা করেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দুই কর্মসূচিতে ৪৩ লাখ শিশুর হিসাবের ফারাক
হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। অথচ মাত্র দুই মাস পর একই বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ২৩ লাখ।
অর্থাৎ একই বয়সসীমার শিশুদের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে লক্ষ্যমাত্রার ফারাক দাঁড়ায় প্রায় ৪৩ লাখ।
বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, একই জনগোষ্ঠীর তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত দুটি জাতীয় কর্মসূচিতে এত বড় ব্যবধান কীভাবে তৈরি হলো। তাদের মতে, এই পরিসংখ্যানগত অসঙ্গতি টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা, তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইপিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের বাইরে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চালানো হয় এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০ লাখ বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায় থেকে ভুল তথ্য এলে কেন্দ্রীয়ভাবে ইপিআইয়ের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভুলের কথা স্বীকার ইপিআইয়ের
ইপিআইয়ের উপপরিচালক ডা. হাসানুল মাহমুদ লক্ষ্যমাত্রার ব্যবধানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বাদ পড়া শিশুদের পাশাপাশি নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ হওয়া প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে দ্বিতীয় দফায় টিকাদানের আওতায় আনা হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হলে টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, একই স্থান থেকে তথ্য আসার পরও দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার এত বড় ব্যবধান থাকায় টিকা দেওয়ার হার তুলনামূলক বেশি হলেও প্রয়োজনীয় ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়নি।
হাসপাতালেই নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছে বহু শিশু
হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখা বা আইসোলেশনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত একজন শিশু থেকে একই পরিবেশে থাকা বহু মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কিন্তু সংক্রমণের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালগুলোতেও হাম রোগীদের জন্য পৃথক চিকিৎসা ও আইসোলেশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এক রোগী থেকে অন্য রোগীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২০০ শিশু ও তাদের ১০০ মায়ের ওপর একটি গবেষণা চালায় ‘এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ (এআরএফ)।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে। এই তথ্য হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
‘শুধু টিকা দিলেই হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়’
ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি ফর মিজেলস অ্যান্ড রুবেলার সভাপতি ও আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই ব্যাপক জনসচেতনতা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
তার মতে, শুধু টিকাদানের ওপর নির্ভর করলে হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ছয় মাসের কম বয়সী এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। ফলে তাদের বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, কোনো শিশুর জ্বর হলে বাড়ি থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা বাস্তবে কঠিন হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আইসোলেশনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের নির্দিষ্ট ও পৃথক স্থানে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
টিকার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন
টিকা-বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বারীর মতে, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ভুলের কারণে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল দেয়নি।
তিনি জানান, ২০১০ সালের ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ। ২০২৬ সালে বয়সসীমা আরও তিন মাস কমানো হলেও একই পরিমাণ শিশুকে লক্ষ্যমাত্রায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তার মতে, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের তুলনায় ৪৩ লাখ কম শিশুকে টিকা দেওয়ায় বাস্তব কভারেজ অনেক কমে যায়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা
হামের প্রাদুর্ভাবের আরেকটি বড় সমস্যা হলো আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান নির্ধারণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু এবং ২১ হাজার ২১২ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৯৫ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪১ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করার জন্য রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ল্যাবই প্রধান ভরসা। কিন্তু দেশজুড়ে ব্যাপক সংক্রমণের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
ফলে সব রোগীর ল্যাব পরীক্ষা না হওয়ায় লক্ষণভিত্তিক রোগী এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করতে হচ্ছে।
একই রোগীর তথ্য একাধিকবার যুক্ত হওয়ার অভিযোগ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, রোগীদের কেসভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের ঘাটতির কারণে একই রোগীর তথ্য একাধিকবার সার্ভারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কোনো রোগী উপজেলা হাসপাতাল থেকে জেলা হাসপাতাল কিংবা টারশিয়ারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত হলে উভয় হাসপাতাল থেকেই আলাদাভাবে তথ্য এন্ট্রি হওয়ার কারণে একই রোগীর একাধিক রেকর্ড তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, রোগী স্থানান্তরের সময় অভিভাবকের মোবাইল নম্বরসহ একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
এ কারণে একই রোগীর তথ্য একাধিকবার এন্ট্রি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ভিপিডি সার্ভিলেন্স’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে কেসভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ আরও নির্ভুল হবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ল্যাব পরীক্ষার সীমাবদ্ধতায় আলাদা হচ্ছে ‘নিশ্চিত’ ও ‘উপসর্গের’ হিসাব
দেশে হামে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কত—এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সব রোগীর ল্যাব পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ফলে যেসব রোগীকে চিকিৎসকরা লক্ষণ দেখে হামের চিকিৎসা দিয়েছেন, জাতীয় টিকা সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (নাইট্যাগ) পরামর্শ অনুযায়ী তাদের ‘হামের উপসর্গ’ হিসেবে হিসাব করা হচ্ছে। আর ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীদের ‘নিশ্চিত হাম’ হিসেবে আলাদা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে নাইট্যাগের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সামনে মূল চ্যালেঞ্জ টিকার কভারেজ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ
হামের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হতে শুধু একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা, বয়সভেদে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা, সঠিক মাইক্রোপ্ল্যান তৈরি, টিকাদান কর্মসূচির তথ্যের মধ্যে সমন্বয় এবং হাসপাতালগুলোতে কার্যকর আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহে কেসভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা এবং রোগী এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় একটি সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের টিকাদান ঘাটতি, পরিকল্পনা ও তথ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে মোকাবিলা না করলে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টেকসই ফল পাওয়া কঠিন হবে।

