ফেনীর উদ্দেশে সড়কপথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে এবং সফরের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলায় এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সভাস্থল ও কর্মসূচির স্থানগুলোকে কয়েকটি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দুই হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ফেনীতে গিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরশুরামের খেয়াঘাট-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় যাবেন। সেখানে তিনি ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দুর্ভোগে থাকা স্থানীয় মানুষের কাছে প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পের পুনর্বাসন ও সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়িত হলে বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
বৃক্ষরোপণ ও সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে পরিবেশ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি–সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিও রয়েছে। মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধনের পর তিনি ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ করবেন।
এ ছাড়া ফেনী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড–সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফেনীজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কর্মসূচির স্থানগুলোকে নিরাপত্তার দিক থেকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সভাস্থল, সড়কপথ, প্রকল্প এলাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সম্ভাব্য রুটে বিশেষ নজরদারি থাকবে। দুই হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে। কর্মসূচির স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।
বন্যার দুর্ভোগ কমার প্রত্যাশা স্থানীয়দের
ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা বন্যা ও জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে বিভিন্ন সময়ে নদ-নদীর পানি বেড়ে বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি প্রবেশ করে।
মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের মাধ্যমে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের আশা, প্রকল্পটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতি হবে। এতে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর একদিনের সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সামাজিক সুরক্ষা–সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মসূচি থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সফরটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

