ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

রাবি শিবিরের ‘ভয়াবহ গুণ’, মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানায়: আম্মার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:২৭ এএম

রাবি শিবিরের ‘ভয়াবহ গুণ’, মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানায়: আম্মার

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ থেকে অব্যাহতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি শিবিরের অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হলেও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগকারীরা এমন কিছু বিষয়ে তাঁকে অভিযুক্ত করছেন, যেগুলো তিনি করেননি; ফলে তিনি কীভাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন—সেটিই তাঁর প্রশ্ন।

শিবিরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাবি শিবিরের একটা ভয়াবহ গুণ আছে, তারা মিথ্যাকে সত্য বানায় আর সত্যকে মিথ্যা।” তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য।

নারী, চাঁদাবাজি ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য

সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত আচরণ, চাঁদাবাজি এবং অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে তাঁকেই প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে যে তিনি কাজগুলো করেননি।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আচ্ছা, আমি যেটা করিনি সেটার প্রমাণ আমি কীভাবে দিব?”

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নারীসংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে তাঁর আচরণ নিয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যা অনৈতিক সম্পর্ক বা অসদাচরণের ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে নিজের চরিত্র নিয়ে আলোচনা না করার আহ্বানও জানান তিনি।

তবে তাঁর পোস্টে অন্য কয়েকজনের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে যেসব বক্তব্য এসেছে, সেগুলোর স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাঁর পোস্টে নেই। তাই সেসব দাবিকে স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে যা বললেন

চাঁদাবাজির অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তৎকালীন উপাচার্য তাঁকে জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব নয়। তবে চাইলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

আম্মারের ভাষ্য, এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে একটি প্রস্তাবপত্র নিয়ে যান। কিন্তু পরে ওই প্রস্তাবপত্রকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে ‘চাঁদাবাজ’ শব্দটি যুক্ত হয়ে যায়। তাঁর দাবি, এটি ছিল একটি প্রস্তাবপত্র এবং চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়া কোনো চিঠি নয়।

অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার

অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রাকসু জিএস।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন জায়গায় সাংগঠনিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। সে সময় রাজশাহীর স্থানীয় শিক্ষার্থীদের একটি কমিটি নিয়ে আসা হয়। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি ওই কমিটি গঠনে ভূমিকা রেখেছেন—এমন ধারণা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আম্মারের ভাষ্য, ওই কমিটির আগে বা পরে তিনি কোনো পর্যায়েই যুক্ত ছিলেন না। তাঁর দাবি, পরবর্তীকালে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে।

শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আম্মারের বক্তব্য

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে শিবিরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান অনেকের চেয়ে আলাদা ছিল। তাঁর ভাষ্য, শিবিরের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল এবং সংগঠনটির একটি অফিসিয়াল গানে তিনি অভিনয় করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিহিত করা হলে তিনি সবসময় বিষয়টি এড়িয়ে যাননি। বরং নিজেকে ডানপন্থী সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে প্রকাশ্য আলোচনা করেছেন বলে দাবি করেন।

‘শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে’ অব্যাহতির প্রসঙ্গ

সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর পোস্টে দাবি করেন, শিবিরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা রয়েছে। তবে সংগঠনটির ভেতরে কিছু ব্যক্তির আচরণ ও সাংগঠনিক নীতির সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর ভাষ্য, শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নীতির সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা সবসময় ইতিবাচক ছিল না। বরং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কিছু কর্মকাণ্ড তাঁকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

‘একাধিক অভিযোগ, একটি প্রমাণও নেই’

নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গে আম্মার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।

তিনি বলেন, “তারা একাধিক অভিযোগ এনেছে, একটা প্রমাণ আনেনি। শুধু এলিগেশন।”

তাঁর দাবি, যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটির সঙ্গেই তিনি সম্পৃক্ত নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন একটি কাজ করেননি—এমন বিষয় কীভাবে প্রমাণ করবেন, সেটিই মূল প্রশ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য

রাকসু জিএসের এই দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, শিবিরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং অব্যাহতির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে সালাহউদ্দিন আম্মারের পোস্টে উঠে আসা অভিযোগ ও দাবিগুলোর বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সরবরাহ করা তথ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা শিবিরের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সালাহউদ্দিন আম্মারের বক্তব্যের মূল দাবি হলো—তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো প্রমাণিত নয় এবং তিনি যেসব কাজ করেননি, সেগুলোর দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে। অন্যদিকে, তাঁকে ‘সাথী’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে শিবিরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও অভিযোগের প্রমাণ সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!