হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বহনের ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি যেন দীর্ঘদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে লাগেজ বেল্টে পৌঁছানোর পর ট্রলি সংগ্রহ করাই অনেক যাত্রীর জন্য নতুন বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসঙ্গে দুই-তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করলেই ট্রলির জন্য শুরু হয় এক ধরনের প্রতিযোগিতা। কেউ ট্রলি না পেয়ে অপেক্ষা করেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে লাগেজ হাতে বা টেনে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, লাগেজ সংগ্রহের পর বিমানবন্দর থেকে বের হতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। কোনো কোনো সময় ট্রলি সংগ্রহ, লাগেজ তোলা এবং বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—বছরের পর বছর যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রলি ব্যবস্থাপনা কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না?
এক বছরের বেশি সময় ধরে সংকট
বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট নতুন নয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে এ সংকট দেখা দিচ্ছে।
বিশেষ করে হজ মৌসুমের আগে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকলে হজ শেষে বিপুলসংখ্যক যাত্রী দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) পর্যাপ্ত ট্রলি রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এমনকি ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতাহাতি এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ, তবু কেনা হয়নি ট্রলি
গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কতার পর বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সমস্যাটি সমাধানে বেবিচককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
এরপর বেবিচকের কেনাকাটা দপ্তর (সেমসু) থেকে ৫০০টি নতুন ট্রলি কেনার প্রস্তাব তৈরি করে সদর দপ্তরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।
কিন্তু সেই প্রস্তাব অনুমোদন পায়নি।
ফলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন ট্রলি যুক্ত না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।
হজ মৌসুমে চরম ভোগান্তি
হজ শেষে বিপুলসংখ্যক হাজি দেশে ফেরার সময় ট্রলি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়।
একপর্যায়ে ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে বিমানবন্দরের ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। উত্তেজিত যাত্রীরা গ্লাস ভাঙচুর করেছেন বলেও জানা গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি এনে শাহজালালে ব্যবহার করা হয়।
তাতে সাময়িকভাবে সংকট কিছুটা কমলেও মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
আবারও আলোচনায় ট্রলি সংকট
সম্প্রতি ওমরা শেষে জামায়াতের কয়েকজন সংসদ সদস্য দেশে ফেরার সময়ও শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর পর আবারও বিমানবন্দরের ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একসঙ্গে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করলেই ট্রলির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ে ট্রলি নিয়ে বড় সমস্যা না হলেও একই সময়ে একাধিক বড় উড়োজাহাজ অবতরণ করলে বিপুলসংখ্যক যাত্রী একসঙ্গে লাগেজ সংগ্রহ করতে আসেন। তখনই সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।
কেন কেনা হয়নি ৫০০ ট্রলি?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫০০টি নতুন ট্রলি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন না পাওয়ার পেছনে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।
বেবিচকের কিছু কর্মকর্তা মনে করেছিলেন, খুব শিগগিরই শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হবে। টার্মিনালটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট জাপানি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় ট্রলি নিয়ে আসবে। তখন বর্তমান ট্রলির সঙ্গেও নতুন ট্রলি যুক্ত করে প্রয়োজন মেটানো যাবে।
এই যুক্তিতে আলাদাভাবে বিপুলসংখ্যক ট্রলি কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
কিন্তু সময় গড়িয়েছে, থার্ড টার্মিনালও প্রত্যাশিত সময়ে পুরোপুরি চালু হয়নি। অন্যদিকে পুরোনো ট্রলির সংখ্যা ও কার্যক্ষমতার ওপর চাপ বাড়তে থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
ফলে যে ব্যয় এড়ানোর চিন্তা থেকে নতুন ট্রলি কেনার প্রস্তাব আটকে ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তের কারণে যাত্রীসেবায় ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুদানে ট্রলি পাওয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ
বেবিচক সূত্রে আরও জানা যায়, নতুন ট্রলি কেনার পাশাপাশি অনুদান বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল।
একটি কোম্পানির সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগও করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ট্রলি দিতে সম্মত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
তবে এখন পর্যন্ত সেই ট্রলিও শাহজালাল বিমানবন্দরে যুক্ত হয়নি।
ফলে নতুন ট্রলি কেনা হয়নি, আবার বিকল্প উৎস থেকেও পর্যাপ্ত ট্রলি পাওয়া যায়নি। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি যাত্রীসেবায়।
গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কতাও আমলে নেওয়া হয়নি?
বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, গত এক বছর ধরে তারা ট্রলি সংকট এবং এর কারণে যাত্রীদের ক্ষোভ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছেন।
তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যাত্রীদের মৌলিক সেবার অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত লাগেজ ট্রলি থাকা উচিত।
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট থাকা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। নতুন ট্রলি কিনলে সেটি অপচয় হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভবিষ্যতে থার্ড টার্মিনালে প্রয়োজন অনুযায়ী বর্তমান ট্রলিগুলো অন্য বিমানবন্দরে স্থানান্তর করা যেত।
অর্থাৎ সাময়িক প্রয়োজন মেটাতে নতুন ট্রলি কেনাকে দীর্ঘমেয়াদি অপচয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তারা মনে করেন।
‘শত কোটি টাকার প্রকল্প, ৫০০ ট্রলি কেনায় সমস্যা কোথায়?’
বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেখানে যাত্রীদের মৌলিক সুবিধার জন্য ৫০০টি ট্রলি কিনতে বড় ধরনের আর্থিক সংকট হওয়ার কথা নয়।
তাদের দাবি, মন্ত্রণালয় থেকেও ট্রলি সংকট সমাধানের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ
ট্রলি সংকটের প্রভাব এখন বিমানবন্দরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছেন। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
এক নারী যাত্রীকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে দেখা গেছে—
“যদি ট্রলিই দিতে না পারেন, তবে বিমানবন্দর কেন বানাইছেন, বন্ধ করে দেন।”
অন্য এক যাত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, বেবিচকের কি ট্রলি কেনার মতো অর্থ নেই, নাকি কোনো কারণে সমস্যাটি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে?
যাত্রীদের এমন মন্তব্য দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে ৪ হাজার ১৯০টি ট্রলি
বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে ৪ হাজার ১৯০টি ট্রলি রয়েছে। আরও ৫০০টি ট্রলি যোগ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ৫০০টি ট্রলি যুক্ত হলে ট্রলি নিয়ে আর সমস্যা থাকবে না।
তার ভাষ্য, একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করলে যাত্রীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। ঠিক সেই সময় ট্রলির ঘাটতি তৈরি হয় এবং তখনই সমস্যা দেখা দেয়।
একসঙ্গে কয়েক ফ্লাইট নামলেই কেন সংকট?
বিমানবন্দরের বর্তমান ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ট্রলির মোট সংখ্যা থাকলেও সেগুলোর অবস্থান ও দ্রুত পুনর্বণ্টনের সক্ষমতা সংকটের অন্যতম কারণ হতে পারে।
একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহ করে ট্রলি নিয়ে বেরিয়ে গেলে ট্রলিগুলো আবার নির্দিষ্ট স্থানে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে। একই সময়ে দুই-তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করলে কয়েক হাজার যাত্রী অল্প সময়ের মধ্যে লাগেজ বেল্ট এলাকায় চলে আসেন।
ফলে মোট ট্রলির সংখ্যা পর্যাপ্ত মনে হলেও পিক আওয়ারে একসঙ্গে ট্রলির চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে বড় উড়োজাহাজের একাধিক ফ্লাইট কাছাকাছি সময়ে অবতরণ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
শুধু নতুন ট্রলি নয়, ব্যবস্থাপনাও জরুরি
সংশ্লিষ্টদের মতে, ৫০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত হলে তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু ট্রলির সংখ্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না।
প্রয়োজন হতে পারে—
পিক আওয়ার বিবেচনায় ট্রলির পর্যাপ্ত মজুত রাখা;
প্রতিটি লাগেজ বেল্টে প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রলি পুনর্বণ্টন;
ব্যবহার শেষে দ্রুত ট্রলি সংগ্রহের ব্যবস্থা;
নষ্ট ও অচল ট্রলির নিয়মিত মেরামত;
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচি বিশ্লেষণ করে ট্রলি ব্যবস্থাপনা;
একাধিক ফ্লাইট একসঙ্গে অবতরণের সময় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন;
যাত্রীদের জন্য ট্রলি ব্যবহারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা;
থার্ড টার্মিনাল চালু হলেও পুরোনো ট্রলির ব্যবহার পরিকল্পনা করা।
যাত্রীসেবায় ছোট সমস্যা, বড় ভাবমূর্তির সংকট
বিমানবন্দর একটি দেশের প্রবেশদ্বার। বিদেশ থেকে দেশে ফিরে একজন যাত্রী ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহ ও কাস্টমস শেষ করার পর যদি কয়েক ঘণ্টা ট্রলির জন্য অপেক্ষা করেন, তাহলে পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তার নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী, বয়স্ক যাত্রী, নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য ট্রলি সংকটের ভোগান্তি আরও বেশি।
একটি ট্রলি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা, ভারী লাগেজ হাতে বা টেনে নিয়ে বের হওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে থাকা—এসব পরিস্থিতি যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
সমাধানের অপেক্ষায় যাত্রীরা
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়ে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সতর্কতা, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, নতুন ট্রলি কেনার প্রস্তাব, বিকল্পভাবে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা—সবকিছুর পরও সমস্যাটি পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
বর্তমানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, আরও ৫০০টি ট্রলি যুক্ত হলেই সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।
তবে যাত্রীদের প্রশ্ন—এই ৫০০টি ট্রলি কবে যুক্ত হবে এবং তার আগ পর্যন্ত পিক আওয়ারে যাত্রীদের ভোগান্তি কীভাবে কমানো হবে?
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যাত্রীসেবার এমন মৌলিক সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা শুধু ভোগান্তিই বাড়ায় না, দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত নতুন ট্রলি সংযোজনের পাশাপাশি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

