ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

ডেঙ্গু ঠেকাতে ৪৮ হাজার কমিটি কাগজে, মাঠে নেই কার্যক্রম

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম

ডেঙ্গু ঠেকাতে ৪৮ হাজার কমিটি কাগজে, মাঠে নেই কার্যক্রম

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও মশা নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি কমিটিগুলোর বড় অংশই কার্যত নিষ্ক্রিয়। ইউনিয়নের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৫৯টি কমিটি থাকার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এসব কমিটির নিয়মিত কার্যক্রমের দৃশ্যমানতা খুবই কম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার এক দিনে দেশে ডেঙ্গুতে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন মারা গেছেন ৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৩৫৬।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশা এখন শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নির্ধারিত কমিটিগুলোকে কার্যকর করা জরুরি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসন সমন্বিতভাবে উদ্যোগী না হলে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়বে।

৪৮ হাজারের বেশি কমিটি থাকার কথা

২০১৯ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকাশিত ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ জাতীয় নির্দেশিকা’-তে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন কমিটি গঠনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

নির্দেশিকায় শুধু কমিটি গঠনের কথা বলা হয়নি; প্রতিটি কমিটির সদস্যসংখ্যা, সভাপতি, দায়িত্ব, সভার সময়সূচি এবং মশা নিয়ন্ত্রণে করণীয়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে নিচের স্তরে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ কমিটি’ থাকার কথা। প্রতিটি কমিটিতে ১১ জন সদস্য থাকার কথা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার এর সভাপতি।

দেশে ইউনিয়ন রয়েছে ৪ হাজার ৫৯৯টি। প্রতিটি ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ড হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়েই ওয়ার্ডের সংখ্যা ৪১ হাজার ৩৯১টি।

এরপর ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে আলাদা কমিটি। এর সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

উপজেলা, জেলা ও পৌরসভাতেও কমিটি

ইউনিয়নের ওপরের স্তরে রয়েছে উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি। দেশে উপজেলা রয়েছে ৫০৩টি এবং পৌরসভা ৩৩০টি।

উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা কমিটির সভাপতি পৌর মেয়র।

এরপর রয়েছে জেলা পর্যায়ের কমিটি। দেশের ৬৪টি জেলায় একটি করে জেলা কমিটি থাকার কথা।

এ ছাড়া দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে একটি করে কমিটি থাকার কথা। শুধু সিটি করপোরেশন পর্যায়েই নয়, প্রতিটি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড এবং প্রতিটি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডেও পৃথক কমিটি থাকার বিধান রয়েছে।

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে মোট ৬৬৮টি ওয়ার্ড এবং পৌরসভাগুলোতে অন্তত ৯৯০টি ওয়ার্ড রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইউনিয়নের ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৫৯টি কমিটি থাকার কথা।

কাগজে কাঠামো, মাঠে কার্যক্রম কোথায়?

নির্দেশিকায় এত বিস্তৃত কাঠামো থাকার পরও বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, অনেক এলাকায় এসব কমিটির অস্তিত্ব বা কার্যক্রম সম্পর্কেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা স্পষ্টভাবে অবগত নন।

বিভিন্ন এলাকার তথ্য অনুযায়ী, কোথাও কমিটি গঠিত হলেও নিয়মিত সভা হচ্ছে না। কোথাও আবার কমিটি গঠনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনাই পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেড়া পৌরসভার প্রশাসক রুনাল্ট চাকমা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁরা কোনো নির্দেশনা পাননি। ফলে উপজেলায় এ-সংক্রান্ত কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অন্যান্য কার্যক্রম চলছে।

অন্যদিকে যশোরের কেশবপুরে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে কোনো কমিটির সভা হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। তবে প্রতিদিন একটি এলাকা বেছে নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

আবার একই উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুর কবির জানিয়েছেন, ইউনিয়ন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটির সভা হয়েছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

অর্থাৎ একই উপজেলার বিভিন্ন স্তরে কমিটির কার্যক্রম নিয়ে বাস্তব চিত্রও এক নয়।

নির্দেশিকায় মাসে একবার সভার কথা

২০১৯ সালের জাতীয় নির্দেশিকায় প্রতিটি স্তরের কমিটিকে নিয়মিত সভা করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিকেও মাসে অন্তত একবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা, জেলা, পৌরসভা এবং অন্যান্য কমিটিরও নিয়মিত সভা করার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় কমিটি থাকলেও নিয়মিত সভা, মশার উৎসস্থল চিহ্নিতকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে কমিটির কার্যক্রমের সুস্পষ্ট সমন্বয় নেই।

কমিটির ১৬ ধরনের দায়িত্ব

জাতীয় নির্দেশিকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার বিভাগের ওপর গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়মূলক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর-সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম ও এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং তাদের কার্যক্রমের সমন্বয় করা।

এ ছাড়া বছরব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে পাওয়া মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্বও রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের।

দেশব্যাপী মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিগত নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টিও এই কাঠামোর মধ্যে রয়েছে।

জাতীয় কমিটিরও নির্দিষ্ট দায়িত্ব

সব কমিটির ওপরে রয়েছে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি। এই কমিটির সদস্যসংখ্যা ২৪ জন।

কমিটিতে দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি, ১৪টি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি থাকার কথা।

জাতীয় কমিটির কাজ হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেওয়া ও বাস্তবায়িত কার্যক্রম পর্যালোচনা, মূল্যায়ন, তদারকি ও সমন্বয় করা। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা, নীতি ও কর্মকৌশল প্রণয়ন এবং সময়ের সঙ্গে তা হালনাগাদ করার দায়িত্বও রয়েছে।

নির্দেশিকায় জাতীয় কমিটির বছরে কমপক্ষে চারটি সভা করার কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের দাবি, কমিটিগুলো সক্রিয়

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, জাতীয় কমিটি ও ১৩টি সিটি করপোরেশনের কমিটিগুলো মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ৩৩০টি পৌরসভার কমিটিগুলোও কাজ করছে।

ইউনিয়ন, উপজেলা ও অন্যান্য পর্যায়ের কমিটির কার্যক্রম নিয়েও তিনি বলেন, কমিটিগুলো সক্রিয় আছে এবং কাজ করছে।

তবে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন এলাকার তথ্যের সঙ্গে এই দাবির পুরোপুরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কমিটি না থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তা, আবার কোথাও কমিটি থাকলেও নিয়মিত সভা না হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে গুরুত্ব দিয়েছেন

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এ বছর ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর ১২ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রতি শনিবার এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে এবং তা ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা।

প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগের পর কিছু এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডেও কমিটি গঠনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কোথাও কমিটি নেই, কোথাও আবার কার্যক্রম সীমিত

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন টাস্কফোর্স কমিটি রয়েছে। তবে কাউন্সিলরদের নিয়ে আগে যে ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি ছিল, সেটি বর্তমানে কার্যকর নেই।

নেত্রকোনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল আমিন জানিয়েছেন, পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের কোনোটিতেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কমিটি নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম চলছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো ওয়ার্ড কমিটি নেই।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো ধরনের কমিটি নেই বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

গ্রামেও ছড়িয়েছে ডেঙ্গু, কিন্তু মশকনিধন কম

একসময় ডেঙ্গুকে প্রধানত শহরকেন্দ্রিক রোগ হিসেবে দেখা হতো। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বড় শহরেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি থাকত। কিন্তু এখন দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩৫৬ জনে। মঙ্গলবার সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ৭৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে শুধু শহরের সিটি করপোরেশন এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

৪৮ হাজার কমিটিকে কাজে লাগানোর দাবি

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, এত বিপুলসংখ্যক কমিটি থাকার কথা অনেকেরই জানা নেই। এসব কমিটি সচল করা এবং যেখানে কমিটি নেই সেখানে দ্রুত গঠন করা জরুরি।

তাঁর মতে, মাঠপর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সব কমিটিকে কার্যকর করা গেলে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। এতে দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ধরনের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যেতে পারে।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর—ইউনিয়নের ওয়ার্ড—থেকেই মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং যথেষ্ট নয়

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণত মশা নিধনে ফগিং বা ওষুধ ছিটানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করা গেলে শুধু উড়ন্ত মশা নিধন করে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

এ কারণে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ড্রেন, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব জায়গায় পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।

জাতীয় নির্দেশিকাতেও লার্ভার উৎসস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পৌরসভা পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

মূল চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি

দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নীতিমালা, নির্দেশিকা এবং বিপুলসংখ্যক কমিটির কাঠামো থাকলেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন।

কাগজে থাকা কমিটিকে মাঠে সক্রিয় করা, নিয়মিত সভা করা, মশার উৎসস্থল চিহ্নিত করা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানী বা সিটি করপোরেশনের সমস্যা নয়। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এডিস মশার বিস্তার ঘটায় ইউনিয়নের ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে একযোগে সক্রিয় করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান যখন প্রতিদিন নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার চিত্র দেখাচ্ছে, তখন ৪৮ হাজারের বেশি নির্ধারিত কমিটিকে কাগজের কাঠামো থেকে বাস্তব কার্যক্রমে নিয়ে আসাই হতে পারে ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!