প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে পাবনার ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার ৭২ নম্বর আথাইল শিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাসহ শিক্ষকরা উপস্থিত
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মজলুম জননেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আথাইল শিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সাগর হোসাইন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হামিদুল ইসলাম।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে না, এটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত। গাছ বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে পরিবেশকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি গাছ মাটির ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে শুধু বড়দের নয়, শিশু ও শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানো এবং গাছের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা তৈরি হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ
বক্তারা বলেন, বিদ্যালয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে পরিবেশ সংরক্ষণের শিক্ষা দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। একটি চারা রোপণের পর সেটির নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের দিলে গাছের প্রতি তাদের মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতা তৈরি হবে।
এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু বৃক্ষরোপণেই উৎসাহিত হবে না, বরং পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও সচেতন হয়ে উঠবে।
শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চারা
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা এসব চারা নিজ নিজ বাড়ি, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কিংবা উপযুক্ত স্থানে রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে সবুজায়নে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়
বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষার কাজ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণ সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ লাগানোর অভ্যাস তৈরি করে তা নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, নির্মল ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

