দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, নির্ধারিত নতুন দাম একই দিন থেকে কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া এবং পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
১২ কেজির সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বৃদ্ধি
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। আগের মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সেই কমানো দামের পর অক্টোবর মাসে আবার বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি হলো।
কেন বাড়ল এলপিজির দাম?
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি এলপিজি পরিবহনের জাহাজ ভাড়া এবং দেশে পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর এই জ্বালানির দামে।
বাংলাদেশের এলপিজির বাজারের বড় একটি অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের বাজারের মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে আমদানি ও পরিবহন ব্যয় যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়লে দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
প্রতি মাসেই সমন্বয় করা হয় এলপিজির দাম
বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
এ কারণে কোনো মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারে এলপিজির দাম কমতে পারে। আবার কাঁচামাল, পরিবহন বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় বেড়ে গেলে দামও বাড়ানো হয়।
অক্টোবর মাসের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সংশ্লিষ্ট মূল্য ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এবার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে কমিশন।
অন্যান্য সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে
শুধু ১২ কেজির সিলিন্ডার নয়, নতুন ঘোষণায় বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলে আবাসিক রান্নার পাশাপাশি বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গ্রাহক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ভোক্তার ওপরও নতুন দামের প্রভাব পড়বে।
ভোক্তার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা
এলপিজির দাম বাড়ায় রান্নার জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার নিয়মিত এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে, তাদের জ্বালানি ব্যয়ে সরাসরি অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।
এ ছাড়া রেস্তোরাঁ, হোটেলসহ বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহৃত হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয়েও পড়তে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবার মূল্যেও পরোক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এক মাসের ব্যবধানে বড় পরিবর্তন
সেপ্টেম্বরে যেখানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, অক্টোবর মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।
অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গ্রাহকদের একই পরিমাণ এলপিজির জন্য অতিরিক্ত ২৫২ টাকা গুনতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে আগামী মাসগুলোতেও এলপিজির দামে পরিবর্তন আসতে পারে।
নতুন দাম কার্যকর রোববার থেকেই
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রোববার বিকেলে নতুন মূল্য ঘোষণা করা হলেও নির্ধারিত দাম ওই দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। তাই এখন থেকে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
এলপিজির নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ কমিশনের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হলে ভোক্তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হতে পারে।

