ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

সোনা চোরাচালানে ৩০ সিন্ডিকেট: এক রুটে আসে, পাঁচ রুটে পাচার হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

সোনা চোরাচালানে ৩০ সিন্ডিকেট: এক রুটে আসে, পাঁচ রুটে পাচার হয়

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে আন্তদেশীয় সোনা চোরাচালানের একাধিক নেটওয়ার্ক। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাতটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অধীনে অন্তত ৩০টি সিন্ডিকেট মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ‘কাট-আউট’ পদ্ধতিতে সোনার চালান বাংলাদেশে আনছে। পরে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচটি প্রধান রুট ব্যবহার করে এসব চালান পাচার করা হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬৩টি সোনার চালান জব্দ হয়েছে। তবে চোরাচালানের পুরো নেটওয়ার্কের পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহক বা ক্যারিয়ার গ্রেপ্তার হওয়ায় মূলহোতাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চোরাচালানের নেপথ্যের ব্যক্তিরা সরাসরি চালান বহন করেন না। তারা বিদেশে অবস্থান করে কিংবা নিজেদের আড়ালে রেখে অর্থ বিনিয়োগ ও যোগাযোগের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ফলে বিমানবন্দরে সোনা বহনকারী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেও তার কাছ থেকে নেটওয়ার্কের মূলহোতার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

‘কাট-আউট’ পদ্ধতিতে আড়ালে মূলহোতারা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, জব্দ করা সোনা চোরাচালানের ঘটনায় অনেক সময় দেখা যায়, কারবারিরা ‘কাট-আউট’ পদ্ধতি অনুসরণ করে। ফলে মামলার তদন্ত বহনকারী পর্যন্ত গিয়ে থেমে যায়।

তবে মূলহোতাদের শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কিছু ঘটনায় তারা হোতা পর্যন্ত পৌঁছাতেও সফল হয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, ‘কাট-আউট’ পদ্ধতিতে পুরো চক্রকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করে দেওয়া হয়। একজন বাহক সাধারণত শুধু নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির কাছ থেকে চালান গ্রহণ করেন এবং নির্দিষ্ট আরেকজনের কাছে তা পৌঁছে দেন। ফলে বাহকের কাছে পুরো নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস বা চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য না থাকার সম্ভাবনা থাকে।

এ কারণে শুধু বাহককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক সময় চোরাচালানের মূল অর্থদাতা কিংবা সংগঠকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

‘হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল’ নেপথ্যের হোতারা

সিআইডি চট্টগ্রাম মেট্রো ও জেলা বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন বলেন, সোনা চোরাচালানের নেপথ্যে থাকা হোতারা অনেকটা ‘হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল’। তারা বিদেশে থেকে অথবা নিজেদের আড়ালে রেখে সোনা চোরাচালানে অর্থ বিনিয়োগ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নেপথ্যের হোতাদের তথ্য অনেক সময় ক্যারিয়ার বা বাহকের কাছেও থাকে না। ফলে মামলার তদন্তে চোরাচালান নেটওয়ার্কের অনেক হোতা আড়ালেই থেকে যায়।

তদন্তকারীদের জন্য এটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ—একজন বহনকারীকে গ্রেপ্তারের পর তার পেছনে থাকা অর্থদাতা, সংগঠক, সংগ্রাহক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের স্তরগুলো শনাক্ত করা।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে চালান

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের যোগাযোগ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সোনার চালান বাংলাদেশে আনার অভিযোগ রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের একটি অংশকে বিভিন্ন প্রলোভন বা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে চালান বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

সোনা লুকানোর অভিনব কৌশল

চোরাচালানকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সোনা বহনে নানা কৌশল ব্যবহার করছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

কখনো সোনা গলিয়ে পাত, রড বা পাউডারের মতো বিভিন্ন আকৃতি দেওয়া হচ্ছে। আবার এসব সোনা অন্তর্বাসের ভেতর, ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যের ভেতরে লুকিয়ে আনার অভিযোগ রয়েছে।

যেসব পণ্যের ভেতর সোনা লুকানোর তথ্য পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে রাইস কুকার, ইস্ত্রি, ব্লেন্ডার, ল্যাপটপের ব্যাটারি, খেলনা এবং ভয়েস স্পিকারের ম্যাগনেট। এমনকি হুইলচেয়ারের স্টিলের পাইপের ভেতরেও সোনা আনার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

চোরাচালানের কৌশল পরিবর্তনের কারণে শুধু যাত্রী বা লাগেজ তল্লাশি নয়, সন্দেহজনক পণ্যের কারিগরি ও ঝুঁকিভিত্তিক পরীক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

চট্টগ্রামে ঢোকার পর যায় রিয়াজউদ্দিন বাজারে

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সোনা দেশে প্রবেশের পর এর একটি অংশ নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেইন ও হাজারী গলির দিকে যায়।

এসব এলাকায় সোনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরবর্তী গন্তব্যে পাঠানোর জন্য গুদাম বা নির্দিষ্ট স্থাপনা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

সেখান থেকে বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা ও রুট ব্যবহার করে সোনার চালান দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নেওয়া হয়।

পাঁচ রুটে ভারতে পাচারের অভিযোগ

চট্টগ্রাম থেকে ভারতে সোনা পাচারের ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচটি রুট ব্যবহারের তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রুটগুলোর একটি হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এ পথে বিলাসবহুল বাস, প্রাইভেট কার কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের গোপন চেম্বার ব্যবহার করে সোনার চালান ফেনী ও কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর কুমিল্লার বিবির বাজার ও ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে চালান পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

রেলপথেও পাচারের অভিযোগ

সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথকেও সোনা পাচারের কাজে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে করে চালান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেওয়া হয়। পরে আখাউড়া স্থলবন্দরসংলগ্ন সীমান্তের বিভিন্ন অরক্ষিত পথ ব্যবহার করে তা ভারতে পাঠানো হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

রেলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাত্রীবাহী ব্যাগ, প্যাকেট কিংবা অন্যান্য মালামালের সঙ্গে সোনা বহনের সুযোগ নেওয়া হয় কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বড় চালানের গন্তব্য যশোর-সাতক্ষীরা

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক বড় চালানের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে সড়ক বা রেলপথে ঢাকা হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে যশোরের বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সীমান্তকে গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত পার হয়ে এসব চালান ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত কলকাতার বড় বড় জুয়েলারি বাজারে পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এসব রুটে বর্তমানে কত পরিমাণ সোনা পাচার হচ্ছে বা কোন কোন চক্র সরাসরি জড়িত—তা নির্ধারণে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

২৬৩ চালান জব্দ, মূলহোতা কতটা ধরাছোঁয়ার বাইরে?

বিভিন্ন সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬৩টি সোনার চালান জব্দ করা হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক চালান শনাক্ত হওয়ার পরও চোরাচালানের মূল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি চালানে বাহক বা ক্যারিয়ার ধরা পড়লেও নেপথ্যের অর্থদাতা ও সংগঠকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

তদন্তকারীদের মতে, একটি চালানের বাহককে গ্রেপ্তার করার পর তার কাছ থেকে চক্রের অন্য সদস্যদের তথ্য বের করা গেলেও মূলহোতা পর্যন্ত পৌঁছাতে আর্থিক লেনদেন, ফোন যোগাযোগ, বিদেশি যোগাযোগ এবং পূর্ববর্তী চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করতে হয়।

৩০ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অনুসন্ধানে সোনা চোরাচালানের নেতৃত্ব বা নেপথ্যে থাকার অভিযোগে হাকিম, সাত্তার, আলমগীর, মামুন, শাহজাহান, জসিম ওরফে সিএনজি জসিম, আজম ওরফে হুন্ডি আজম, বিধান ও জাহিদসহ ৩০টি সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে।

এ ছাড়া ফটিকছড়ি উপজেলার দুই ব্যক্তিকে আন্তদেশীয় সোনা চোরাচালানের অন্যতম হোতা হিসেবে চিহ্নিত করার তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা শ্রমিক ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে পরবর্তী সময়ে সোনা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার অভিযোগ

সোনা চোরাচালানের সঙ্গে বিমানবন্দরের কিছু ফ্লাইট ক্রু, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের কেউ কেউ জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কেন তদন্ত থেমে যায় বাহকের কাছে?

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের আইসিডির সহকারী কমিশনার আবদুল ছাত্তার বলেন, তারা ক্যারিয়ারকে আটক করে মামলা করেন। পরবর্তী প্রক্রিয়া তদন্তকারী সংস্থা সম্পন্ন করে। তাই নেপথ্যে কেউ রয়েছে কি না, তা জানার সুযোগ তাদের থাকে না।

অর্থাৎ বিমানবন্দরে সোনা উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে যে ব্যক্তি চালান বহন করেন, তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও সেই চালানের অর্থের উৎস, সংগ্রাহক, সরবরাহকারী ও চূড়ান্ত গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, সোনা চোরাচালানের মামলা দায়েরের পর তদন্ত করে থানা পুলিশ। এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের করার সুযোগ সীমিত।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট, বিমানবন্দরে চালান শনাক্ত ও জব্দ করার পর মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে যাবে এবং মূলহোতা পর্যন্ত তদন্ত পৌঁছাবে কি না, সেটি তদন্তকারী সংস্থার কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।

‘কাট-আউট’ পদ্ধতিই বড় চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রামের সোনা চোরাচালান দমনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে আসছে ‘কাট-আউট’ পদ্ধতি। এই কৌশলে চক্রের একটি স্তরের সঙ্গে অন্য স্তরের সরাসরি যোগাযোগ থাকে না। ফলে একজন বাহক ধরা পড়লেও তার পেছনের পুরো নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া কঠিন হয়।

অন্যদিকে বিদেশে অবস্থানরত অর্থদাতা বা সংগঠকরা স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি কোনো যোগাযোগ না রেখে মধ্যস্থতাকারী ব্যবহার করলে তাদের শনাক্ত করাও জটিল হয়ে পড়ে।

এ কারণে তদন্তে শুধু জব্দ করা সোনা ও গ্রেপ্তার ব্যক্তির জবানবন্দির ওপর নির্ভর না করে আর্থিক লেনদেন, মোবাইল ফোনের তথ্য, ভ্রমণ রেকর্ড, আগের চালান, সংশ্লিষ্ট আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু বাহক নয়, নেটওয়ার্কের মূলহোতাদের ধরার চ্যালেঞ্জ

সোনা চোরাচালান বন্ধে বাহক গ্রেপ্তার ও সোনা জব্দ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর মাধ্যমে পুরো চক্র ধ্বংস করা সম্ভব নয়—এমন মত তদন্তসংশ্লিষ্টদের।

একটি চালানের পেছনে অর্থদাতা, সংগ্রাহক, মধ্যস্থতাকারী, পরিবহনকারী এবং সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক স্তরের ব্যক্তি থাকতে পারে। ফলে একটি চালান জব্দের পর তদন্ত যদি শুধু বাহকের বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিটে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে নেটওয়ার্কের বড় অংশ আড়ালেই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের প্রকৃত চিত্র বের করতে আন্তঃসংস্থার সমন্বিত তদন্ত, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং আর্থিক লেনদেন অনুসরণকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!