ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

menu

পোরশায় পূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে দস্যুতা, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

পোরশায় পূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে দস্যুতা, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২ জন গ্রেপ্তার

ছবিঃ সংগৃহীত

নওগাঁর পোরশায় পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দস্যুতার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নওগাঁর সাপাহার থানার দিঘীরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাড়ি ফেরার পথে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পোরশা থানার পূর্বগ্রাম এলাকার বাসিন্দা বনিতা (৩০) তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বিআরটিসি বাসে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বনিতার স্বামী স্বপন মিনজ, ১৩ বছর বয়সী শিবরাজ, তিন বছর বয়সী যুবরাজ, ১৯ বছর বয়সী সুস্মিতা মিনজ এবং তাঁর ভাগ্নি ২৪ বছর বয়সী শ্যামলী।

গত ১৭ অক্টোবর রাত পেরিয়ে আনুমানিক ভোর ৩টা ২০ মিনিটে তাঁরা পোরশা থানার নিতপুরগামী ফুলতলা ব্র্যাক অফিসের সামনে বাস থেকে নামেন। এরপর পায়ে হেঁটে নিজ বাড়ির দিকে রওনা দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে ফুলতলা ব্র্যাক অফিস থেকে প্রায় ১৫০ গজ পশ্চিমে সরাইগাছি-নিতপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে ওবাইদুল্লাহ শাহর ব্রয়লার মুরগির খামারের পূর্ব পাশের গ্রামীণ রাস্তায় পৌঁছালে পেছন থেকে তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করে।

অভিযোগ রয়েছে, দস্যুরা গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে একটি শাড়ির ব্যাগ, তিন আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল, একটি রুপার পায়ের নূপুর এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে দ্রুত তদন্ত শুরু

ঘটনার খবর পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত মামলা গ্রহণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অরূপ রতন সরকার এবং পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তির সহায়তা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে দাবি পুলিশের।

সাপাহারে অভিযান, গ্রেপ্তার দুই পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাপাহার থানার দিঘীরহাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় দস্যুতার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর (দিঘীপাড়া) এলাকার মৃত আলাউদ্দীন ওরফে ইটকেলের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি নওগাঁ (মৃধাপাড়া) এলাকার মো. মহব্বতের ছেলে মো. সুমন ওরফে শাহিন (৩০)।

অভিযানকালে দস্যুতায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, পরবর্তী সময়ে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীরা গ্রেপ্তার দুজনকে দেখে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ সাতটি মামলা এবং সুমন ওরফে শাহিনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তবে এসব মামলার বিচারাধীন থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমে হবে।

অন্যদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত

পোরশায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এমন দস্যুতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বাস থেকে নেমে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ছিনিয়ে নেওয়া শাড়ির ব্যাগ, স্বর্ণের কানের দুল, রুপার নূপুর ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

দ্রুত তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা গেলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মামলার তদন্তে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!