ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

menu

লক্ষ্মীপুরে ৫ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, বদলিতেই কি দায় শেষ?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

লক্ষ্মীপুরে ৫ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, বদলিতেই কি দায় শেষ?

ছবিঃ সংগৃহীত

মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধানদের ঘিরে গত এক মাসে ঘটেছে একের পর এক প্রশাসনিক রদবদল। ঘুষ দাবি, টেন্ডারসংক্রান্ত অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অবহেলার মতো বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত, কাউকে স্ট্যান্ড রিলিজ এবং কাউকে বদলি করা হয়েছে। কয়েকটি দপ্তরে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায়ও পরিবর্তন এসেছে।

একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিদায়ে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকদের কেউ কেউ। তাঁদের প্রশ্ন, শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করেই কি দায়িত্ব শেষ, নাকি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

আইন ও প্রশাসনিক বিধান অনুযায়ী, বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ সাধারণত প্রশাসনিক পদক্ষেপ; এটি নিজে থেকে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বা শাস্তি নয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে লক্ষ্মীপুরের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগের তদন্ত, প্রকল্পের নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগে ‘২ কোটি টাকার নিচে নেব না’ বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

লক্ষ্মীপুরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে ঘিরে ওঠা ঘুষ দাবির অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, বকেয়া বিল ও মালামালসংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তাঁকে ‘২ কোটি টাকার নিচে নেবো না’ বলতে শোনা যায় বলে প্রচার করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে পিডিবি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

তবে ভিডিওতে প্রচারিত বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট, অভিযোগের বিস্তারিত এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ্যে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগটিকে প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঘটনার সত্যতা ও দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

পৌরসভার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় প্রায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেনকে তলব করে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে খাগড়াছড়িতে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

তবে কোনো প্রকৌশলীকে তলব বা অন্যত্র বদলি করা হলেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। প্রকল্পের কাজের মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী, দরপত্রের শর্ত, পরিমাপ বই, বিল পরিশোধ এবং কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়ম নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক ও ড্রেনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রকল্পের কারিগরি মান যাচাই এবং ত্রুটি পাওয়া গেলে দায় নির্ধারণ জরুরি। অন্যথায় নিম্নমানের কাজের কারণে জনভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের কার্যকারিতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারকে ঘিরেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ৯ হাজার ৩৮৯টি বিনামূল্যের টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ কার্যক্রম এবং প্রায় ৫৬ কোটি টাকার ওয়াশ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের বিষয়।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং তদারকিতে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। এর আগে গাজীপুরে দায়িত্ব পালনের সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে তাঁকেও লক্ষ্মীপুর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলোতে প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, হলে তার আর্থিক পরিমাণ কত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব কতটুকু—তা নির্ধারণে প্রকল্পভিত্তিক তদন্ত ও নিরীক্ষা প্রয়োজন।

বিশেষ করে বিনামূল্যের স্যানিটেশন সুবিধা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যসম্মত পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা নির্ধারিত সেবা পেয়েছেন কি না, কাজের মান কেমন এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিন হাজার ১০০ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্পে নেতৃত্বের পরিবর্তন

মেঘনা উপকূলীয় কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় নদীভাঙন রোধ, তীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজের গতি ও মান নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খানকে বদলি করা হয়। এরপর নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে দপ্তরটিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. নুরুল ইসলাম।

বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে কাজের তদারকি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতিতে বিলম্বের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে কাজের চুক্তি, বাস্তবায়ন সূচি, অর্থ ছাড়, ভূমি ও নির্মাণসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

কমলনগর ও রামগতি এলাকার মানুষের জন্য নদীভাঙন প্রতিরোধ ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পটির কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি নির্মাণের মান, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন

লক্ষ্মীপুরে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রাবণী চক্রবর্ত্তীকে ঘিরেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরকারি দরপত্রের নিয়ম উপেক্ষা করে সিলড কোটেশনের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিবাদ এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্যত্র বদলি করা হয়।

তবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমোদন, দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়নের নথি, কার্যাদেশ, ব্যয়ের হিসাব এবং প্রযোজ্য ক্রয়বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়ম হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এসব প্রকল্পে দরপত্রের স্বচ্ছতা ও নির্মাণের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বদলি কি দুর্নীতির একমাত্র শাস্তি?

লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন দপ্তরে সাম্প্রতিক রদবদলের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—অভিযোগের মুখে কর্মকর্তাদের অন্যত্র সরিয়ে দিলেই কি জবাবদিহি নিশ্চিত হয়?

সচেতন নাগরিকদের মতে, বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এতে অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সরকারি অর্থের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকে যায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করাই যথেষ্ট নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তদন্তের ফলাফল ও দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়াও দৃশ্যমান হওয়া দরকার। এতে সরকারি দপ্তরের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা যাবে।

আইন অনুযায়ী তদন্ত ও জবাবদিহি জরুরি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা অনুসন্ধান করতে পারে। ফৌজদারি অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

তবে অভিযোগ ওঠা, তদন্ত শুরু হওয়া, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া—এগুলো পৃথক ধাপ। তাই কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। একই সঙ্গে তদন্তের নামে অভিযোগ অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখাও জনস্বার্থের পরিপন্থী।

লক্ষ্মীপুরের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগ, পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আলোচিত প্রকল্পগুলোতে অভিযোগের বর্তমান অবস্থা, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, নিরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

উন্নয়নকাজ সচল রাখা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি

এক মাসের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধানদের ঘিরে এমন প্রশাসনিক পরিবর্তন জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে কর্মকর্তাদের বদলি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের কারণে যেন প্রকল্পের কাজ থেমে না যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

একদিকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অন্যদিকে চলমান প্রকল্পের কাজের গতি ও মান বজায় রাখা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ, স্বাধীন কারিগরি নিরীক্ষা, দরপত্র ও ব্যয়ের তথ্য যাচাই এবং অভিযোগের নিষ্পত্তি সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার মাধ্যমে জবাবদিহি জোরদার করা সম্ভব।

সব মিলিয়ে, লক্ষ্মীপুরে একের পর এক প্রশাসনিক রদবদল সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টিকে সামনে এনেছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু কে বদলি হলেন, তা নয়; বরং অভিযোগগুলোর কী পরিণতি হলো, সরকারি অর্থের ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ ছিল এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো—তারও স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!