ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

দেড় বছরেও ব্যবস্থা নেয়নি দুদক

বন বিভাগে পদায়নে ৫০ লাখ টাকা ঘুসের অভিযোগ, পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:২২ এএম

বন বিভাগে পদায়নে ৫০ লাখ টাকা ঘুসের অভিযোগ, পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার

ছবিঃ সংগৃহীত

বন অধিদপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পেয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই বছরের জন্য প্রথম শ্রেণির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পদায়নে ৫০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। একইভাবে রেঞ্জ কর্মকর্তা ও চেকপোস্টের স্টেশন কর্মকর্তা পদায়নের ক্ষেত্রেও শ্রেণিভেদে নির্ধারিত ঘুষের হার ছিল বলে দুদকের এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নেওয়া হতো। বদলি-পদায়নের এই প্রক্রিয়ায় বন অধিদপ্তরের একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকার তথ্যও পেয়েছিল দুদক। তবে প্রায় দেড় বছর আগে বন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বন ভবনে অভিযান চালিয়ে নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। প্রধান বন সংরক্ষকের কার্যালয় থেকে শুরু করে বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে।

দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জানান, বন অধিদপ্তর-সংশ্লিষ্ট এসব অভিযোগের বিষয়ে কমিশনে অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

বদলি-পদায়নে শ্রেণিভেদে ঘুষের অভিযোগ

দুদকের এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে ২০০৪ সালের বদলি-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসরণ করার কথা। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে বনাঞ্চলের বিভিন্ন রেঞ্জ, স্টেশন ও বিভাগীয় বন বিভাগকে শ্রেণিভেদে ভাগ করে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের জন্য রেঞ্জ কর্মকর্তা পদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিতে ১৫ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, এক বছরের জন্য প্রথম শ্রেণির চেকপোস্টে স্টেশন কর্মকর্তা পদায়নে ২০ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পেয়েছিল দুদক।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পদায়নের ক্ষেত্রেও অভিযোগের অঙ্ক আরও বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের জন্য প্রথম শ্রেণির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পদায়নে ৫০ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ লেনদেনের সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে অর্থ আদায় করা হতো এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

মেয়াদ শেষে নতুন পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত মাসোহারা

দুদকের এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে শুধু বদলি ও পদায়নের সময় অর্থ লেনদেনের অভিযোগই নয়, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মাসিক মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেঞ্জ কর্মকর্তা, চেকপোস্টের স্টেশন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত মাসিক অর্থ দিতে হতো বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অর্থের বিনিময়ে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করা হতো বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগের মাধ্যমে বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ বদলি-পদায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ যদি অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত হয়, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি, বনসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন ভবনে দুদকের অভিযান

বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ এবং বদলি-পদায়নসহ সার্বিক কার্যক্রমে দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বন ভবনে অভিযান চালায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।

অভিযানকালে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, উপপ্রধান বন সংরক্ষক ও টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের পরিচালক গোবিন্দ রায়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল।

তবে অভিযান চালানো, নথিপত্র সংগ্রহ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা মানেই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণের পরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দেড় বছর আগে অভিযান চালানোর পর অনুসন্ধানের অগ্রগতি কী, কারও বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে আর কত সময় লাগবে—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ

বন অধিদপ্তরের বদলি-পদায়ন-সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে দুদকে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার, বনায়ন, নার্সারি স্থাপন এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকার উন্নয়নের মতো কার্যক্রম পরিচালনার কথা।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের জোয়ারিয়ানালা বিটে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৮৭২ হেক্টর এলাকায় নার্সারি ও বনায়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫১০ হেক্টর এলাকায় বাগান সৃজনের বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে আনুমানিক ১৬০ হেক্টর এলাকায় চারা লাগানো হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বাকি এলাকায় পূর্ণাঙ্গ বনায়ন না করে শুধু সীমানা নির্ধারণের জন্য দুই সারি চারা লাগানোর অভিযোগও রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে চারা রোপণ না করেই বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ সত্য হলে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তবায়ন এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।

পরিচর্যার অভাবে মারা গেছে চারা, কোথাও বাগানের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন

দুদকের প্রতিবেদনে বনায়ন কার্যক্রমের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। যেসব এলাকায় বাগান করা হয়েছিল, সেখানেও নিয়মিত পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং গাছের রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে অনেক চারা প্রথম বছরেই মারা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় বাগানের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকলেও সাইনবোর্ডে চারার সংখ্যা ও গাছের প্রজাতির বিবরণ দেওয়া ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও ৩৬২ হেক্টর এলাকায় বনায়ন ও নার্সারি স্থাপনের উদ্যোগেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। এসব অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায় খতিয়ে দেখার বিষয়টি প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সুফল প্রকল্পের পরিচালক গোবিন্দ রায় ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম প্রতিবেদন দাখিল করে।

তবে প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবে রোপণ করা চারার সংখ্যা, বনায়নের পরিমাণ এবং ব্যয়ের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রকল্পের অডিট প্রতিবেদনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

বন অধিদপ্তর-সংশ্লিষ্ট আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ অভিযোগের অনুসন্ধানে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আমদানি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে দুদক।

দুদকের নথি অনুযায়ী, এ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এবং পরিচালক (মানিলন্ডারিং)-কে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, দুদক বিধিমালা, ২০০৭, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী অনুসন্ধান শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আমদানি কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা হতে পারে। বিশেষ করে আমদানি-সংক্রান্ত নথিপত্র, ব্যাংক লেনদেন, অর্থের উৎস ও গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

দুদকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অনুসন্ধানকালে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা কোনো সম্পদ-সম্পত্তি ক্রোক করা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে আর্থিক লেনদেন শনাক্ত ও সম্ভাব্য সম্পদের উৎস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পাখি আমদানির আড়ালে অর্থপাচারের অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ, অর্থের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং অর্থের গন্তব্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসন্ধান শেষে জানা যাবে।

জবাবদিহি ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন

বন অধিদপ্তরে বদলি-পদায়নে ঘুষ, প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং পাখি আমদানির আড়ালে অর্থপাচারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে সংস্থাটির প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বন অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু বনভূমি সংরক্ষণ ও বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা নয়; সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, বনসম্পদের সুরক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাও এর কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ বা প্রশাসনিক পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত জনস্বার্থেই জরুরি।

বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযান চালিয়ে নথিপত্র সংগ্রহের পরও অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া অর্থপাচারের অনুসন্ধানে আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরলে জবাবদিহি বাড়বে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহ চলছে। এখন দেখার বিষয়, অনুসন্ধানে কী তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় এবং সেগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!