দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা দায়ের, অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে গত বছর উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি মামলা করেছে সংস্থাটি। একই সময়ে দুর্নীতির মামলায় জরিমানা আদায় ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের পরিমাণও আগের কয়েক বছরের তুলনায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে মামলার সংখ্যাগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আদালতে আসামিদের সাজা পাওয়ার হার বাড়েনি। বরং ২০২৩ সালে প্রায় ৬৯ শতাংশে ওঠার পর পরবর্তী দুই বছরে তা ৫০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা ও অনুসন্ধান বাড়লেও সেসব মামলার শেষ পরিণতি এবং বিচারিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
দুদকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সংস্থাটি ৬৭৪টি মামলা করেছে। আগের বছর ২০২৪ সালে মামলা হয়েছিল ৪৫১টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
এর আগে ২০২১ সালে ৩৪৭টি, ২০২২ সালে ৪০৬টি এবং ২০২৩ সালে ৪০৮টি মামলা করেছিল দুদক। ফলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা দায়ের হয়েছে ২০২৫ সালে।
মামলার সঙ্গে বেড়েছে অনুসন্ধানও
মামলার পাশাপাশি গত বছর দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রমেও কাজের পরিমাণ বেড়েছে।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আগের বছর থেকে অনিষ্পন্ন ৩ হাজার ১৮৫টি অনুসন্ধানের সঙ্গে নতুন করে নেওয়া ২ হাজার ৪৮১টি অনুসন্ধান যোগ হয়ে মোট অনুসন্ধানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৬৬টি।
এর মধ্যে বছরটিতে ১ হাজার ৪০৯টি অনুসন্ধান শেষ করা হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে ৬৭৪টি মামলা দায়ের এবং ৩৩৭টি অনুসন্ধান পরিসমাপ্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।
অর্থাৎ অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান, অনুসন্ধান শেষে মামলা এবং পরবর্তী ধাপে তদন্ত—দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরেই গত বছর কাজের পরিমাণ বেড়েছে।
অভিযোগ কমেছে, কিন্তু অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ বেড়েছে
মজার বিষয় হলো, গত বছর দুদকে জমা পড়া মোট অভিযোগের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
২০২৫ সালে দুদকে মোট ১০ হাজার ৮৭৯টি অভিযোগ জমা পড়ে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৮৪২। অর্থাৎ এক বছরে অভিযোগ কমেছে প্রায় ৫ হাজার।
তবে অভিযোগ কমলেও অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে।
২০২৪ সালে ১ হাজার ৮৯৪টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৩৬টি।
এ থেকে বোঝা যায়, অভিযোগের মোট সংখ্যা কমলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুসন্ধানের উপযোগী অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে দুদকের কার্যক্রম বেড়েছে।
গত পাঁচ বছরের তথ্যেও অভিযোগের সংখ্যায় ওঠানামা দেখা যায়। ২০২১ সালে প্রায় ১৪ হাজার ৭৮৯টি এবং ২০২২ সালে ১৯ হাজার ৫৭টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে অভিযোগের সংখ্যা কমেছে।
অভিযোগের বড় উৎস সাধারণ মানুষ
দুদক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগের সবচেয়ে বড় উৎস সাধারণ মানুষ। এরপর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম এবং দুদকের ১০৬ নম্বর হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ আসে।
সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্য দুর্নীতির প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন।
এ ছাড়া দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। গত বছর গোয়েন্দা ইউনিট ৬৫৩টি নথি খুলে কাজ শুরু করে এবং এর মধ্যে ৩৫৭টির কার্যক্রম শেষ করেছে।
মামলার সংখ্যা বাড়লেও সাজা পাওয়ার হার কম
দুদকের কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠছে আদালতে মামলার ফলাফল নিয়ে।
দুদকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সংস্থাটির করা মামলায় সাজার হার ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ।
এরপর ২০২২ সালে তা এক লাফে বেড়ে ৬৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৬৯ দশমিক ১০ শতাংশে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ সাজার হার।
কিন্তু এরপর ধারাবাহিকভাবে সাজার হার কমে যায়।
২০২৪ সালে সাজার হার নেমে দাঁড়ায় ৪৮ দশমিক ১৯ শতাংশে। ২০২৫ সালে সামান্য বেড়ে তা ৫২ শতাংশে পৌঁছালেও ২০২৩ সালের ৬৯ দশমিক ১০ শতাংশের তুলনায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
অর্থাৎ মামলা দায়েরের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়লেও আদালতে আসামিদের সাজা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একই ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়নি।
গত বছর ২৬৭ মামলা নিষ্পত্তি, সাজা ১৩৪টিতে
২০২৫ সালে দুদকের মোট ২৬৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
এর মধ্যে ১৩৪টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। অন্যদিকে ১১৮টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন।
অর্থাৎ মামলা দায়ের ও তদন্তে অগ্রগতি থাকলেও আদালতে মামলার ফলাফল এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, অতীতে সাজার হার কম হওয়ার কারণ তিনি বলতে পারবেন না। তবে আগামীতে দুদকের ভালো ফলাফল আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পুরোনো দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মামলায় সাজার হার আরও কম
দুদকের বর্তমান মামলার পাশাপাশি পুরোনো দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আমলে করা মামলাগুলোর বিচারিক ফলাফলও তুলনামূলক দুর্বল।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এসব মামলায় সাজার হার ছিল ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা আরও কমে মাত্র ১৭ শতাংশে নেমেছে।
অন্যদিকে মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় তুলনামূলক ভালো ফলাফল দেখা গেছে। গত বছর এসব মামলায় সাজার হার ছিল প্রায় ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তির হার ছিল ৫৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান দেখায়, মামলার ধরন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর ফলাফলের পার্থক্য রয়েছে।
জরিমানা আদায়ে রেকর্ড
সাজার হার নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও অর্থদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে বড় অগ্রগতি হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি জরিমানা আদায় হয়েছে।
২০২১ সালে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা, ২০২২ সালে ২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ১ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে ১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা জরিমানা আদায় হয়েছিল।
২০২৫ সালে তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৬০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জরিমানা আদায়ের পরিমাণ প্রায় চার গুণের বেশি বেড়েছে।
সম্পদ বাজেয়াপ্তেও বড় উল্লম্ফন
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রেও গত বছর বড় অগ্রগতি হয়েছে।
২০২১ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা, ২০২২ সালে ১৪ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ১৮ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে ১২ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
২০২৫ সালে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২১ কোটি টাকা।
অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় বাজেয়াপ্ত সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ গুণ বেড়েছে।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশীয় সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও দুদকের কার্যক্রম বেড়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভেতরে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও যানবাহনসহ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের মূল্য ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
তবে ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা সম্পদ এবং চূড়ান্তভাবে বাজেয়াপ্ত সম্পদ এক বিষয় নয়। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই কোনো সম্পদের ওপর স্থায়ী নিষ্পত্তি কার্যকর হয়।
তদন্তে আছে আড়াই হাজারের বেশি মামলা
মামলা দায়েরের পর তদন্ত কার্যক্রমও দুদকের কাজের বড় অংশ।
২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ৭০২টি মামলা তদন্তাধীন ছিল। এর মধ্যে আগের বছর থেকে অনিষ্পন্ন তদন্ত ছিল ১ হাজার ৬৮২টি এবং নতুন তদন্ত ছিল ১ হাজার ২০টি।
বছরটিতে মোট ৫২৩টি তদন্ত শেষ হয়েছে।
তদন্ত শেষে ৩৮৬টি মামলায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়। আরও ১১৩টি মামলায় অব্যাহতিমূলক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২৪টি তদন্ত আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে অন্য সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
এই হিসাবে দেখা যায়, মামলার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তদন্তের চাপও বাড়ছে। তবে তদন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এক হাজারের বেশি মামলা স্থগিত
দুদকের মামলার বিচারিক অগ্রগতিতে আরেকটি বড় বাধা হলো মামলা স্থগিত থাকা।
দুদক সূত্র অনুযায়ী, গত বছর বিচারিক বা নিম্ন আদালতে ৪০৪টি মামলা, হাই কোর্ট বিভাগে ১৪৬টি মামলা এবং আপিল বিভাগে ৪৮১টি মামলা স্থগিত ছিল।
তিন স্তর মিলিয়ে স্থগিত মামলার সংখ্যা এক হাজারের বেশি।
মামলা দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলে বিচারিক নিষ্পত্তি বিলম্বিত হয়। এতে মামলার সংখ্যা কমার বদলে পুরোনো মামলার জট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
একই সঙ্গে সাক্ষী, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ এবং উপস্থাপনের বিষয়টিও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
কোথায় বেশি দুর্নীতির অভিযোগ?
দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট গত বছর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের অভিযোগ শনাক্ত করেছে।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। দলিল ও সম্পত্তি নিবন্ধনে ঘুষ দাবি এবং হয়রানির অভিযোগে সেখানে ৫০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা এবং সরকারি ওষুধ পাচারসংক্রান্ত অভিযোগে ৪১টি অভিযান চালানো হয়েছে।
বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম নিয়েও ৪১টি অভিযোগে অভিযান হয়েছে।
এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে ৩৯টি এবং এলজিইডিসহ প্রকৌশল দপ্তরে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগে ৩১টি অভিযান চালিয়েছে দুদক।
পাসপোর্ট, ভূমি, কৃষি, রেলওয়ে, গণপূর্ত, নির্বাচন অফিস ও রাজউকেও অভিযোগের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়েছে।
মামলা বাড়ানোই কি দুর্নীতি দমনের সাফল্যের মাপকাঠি?
দুদকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—মামলা দায়েরের সংখ্যা বেড়েছে। অনুসন্ধানের পরিমাণ বেড়েছে। জরিমানা আদায় ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কিন্তু একই সময়ে আদালতে সাজার হার ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ ৬৯ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৪৮ দশমিক ১৯ শতাংশে নেমে ২০২৫ সালে ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ফলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়নে শুধু কতটি মামলা হয়েছে বা কত টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে—এ দুটি সূচক যথেষ্ট নয়। মামলার তদন্তের মান, চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা, আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন, সাক্ষীদের উপস্থিতি, মামলা নিষ্পত্তির সময় এবং চূড়ান্ত সাজা—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয়।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বিচারিক ফলাফল
দুদকের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন মামলা করা নয়; বরং করা মামলাগুলোকে শক্তিশালী তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে টেকসই করা।
একদিকে নতুন অভিযোগ ও মামলা বাড়ছে, অন্যদিকে পুরোনো মামলার তদন্ত ও বিচার শেষ করার দায়িত্বও রয়েছে। তার ওপর এক হাজারের বেশি মামলা বিভিন্ন আদালতে স্থগিত রয়েছে।
অন্যদিকে গত বছর জরিমানা আদায় ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের পরিমাণে যে বড় অগ্রগতি হয়েছে, সেটি দুর্নীতির আর্থিক সুবিধা উদ্ধারের ক্ষেত্রে সংস্থাটির কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
তবে শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সাফল্য শুধু মামলার সংখ্যা বা উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণে নয়। অভিযোগ থেকে অনুসন্ধান, অনুসন্ধান থেকে তদন্ত, তদন্ত থেকে চার্জশিট এবং চার্জশিট থেকে আদালতের চূড়ান্ত রায়—পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, সেটিই হবে বড় মাপকাঠি।
২০২৫ সালের তথ্য বলছে, দুদকের কার্যক্রমের পরিমাণ বেড়েছে। এখন সেই পরিমাণগত অগ্রগতি কতটা টেকসই বিচারিক ফলাফলে রূপ নেয়, সেটিই আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।

