নরসিংদীর মাধবদীতে একটি প্রিন্টিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টা ৪ মিনিটে দগ্ধ ছয়জনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন।
দগ্ধ ছয়জনের শারীরিক অবস্থা
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে।
চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে শিবলু মিয়ার শরীরের ১৩ শতাংশ, পিয়াসের ৩ শতাংশ, সুমনের ৪ শতাংশ, সোরাফের ২০ শতাংশ, ছাদেকুরের ১৫ শতাংশ এবং রাকিবের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন—শিবলু মিয়া (৪৫), পিয়াস (৩০), সুমন (৩০), সোরাফ (৩০), ছাদেকুর (২৫) ও রাকিব (২৫)।
চিকিৎসক জানান, সোরাফ ও ছাদেকুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিবলু মিয়া ও রাকিবকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, পিয়াস ও সুমনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে ঘটল বয়লার বিস্ফোরণ?
নরসিংদীর মাধবদীর ওই প্রিন্টিং কারখানায় কী কারণে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ, কারখানার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা, বয়লারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রটির কারিগরি অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া এ ঘটনায় বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
দগ্ধদের চিকিৎসা চলছে
বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের শরীরের কত শতাংশ পুড়েছে, তা নির্ধারণ করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দগ্ধের পরিমাণের পাশাপাশি শ্বাসনালিতে আঘাত, পোড়ার গভীরতা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ওপরও রোগীর চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি নির্ভর করে। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তি ও পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিদের পরবর্তী শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
নরসিংদীর মাধবদীতে প্রিন্টিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনের চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ ও কারখানার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।

