পূজার ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে সাগরে নিখোঁজ হওয়া আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে হিমছড়ির সাগর নিবাস এলাকা থেকে হারুন নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাতের মধ্যে হিমছড়ি এলাকার সৈকত থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে এ ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন আল মাহিবুল ইবনে মোকারম ওরফে রোহান, সাইফুল হক জিসান ও মোহাম্মদ আকাশ। তারা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন বলে ফায়ার সার্ভিসের তথ্যের বরাতে জানা গেছে।
যেভাবে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত পাঁচ শ্রমিক ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। সেখানে গিয়ে তাদের তিনজন সাগরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে সাগরের তীব্র স্রোতে তারা ভেসে যেতে থাকেন।
বিপদে পড়ে তারা দূরে থাকা সাতজনের একটি দলের কাছে সাহায্য চান। তাদের উদ্ধারে ওই দলের তিনজন সাগরে নামেন। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও স্রোতের কবলে পড়ে তলিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও লাইফগার্ড সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে হিমছড়ি মারিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকত থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত থাকে।
সকালে উদ্ধার হারুনের মরদেহ
বুধবারের ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে হিমছড়ির সাগর নিবাস এলাকা থেকে হারুন নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগের দিন তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনাকে ঘিরে সৈকত এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয়, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
সাগরের স্রোতে বাড়ছে ঝুঁকি
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছুটির দিন ও উৎসবের সময়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে সাগরের স্রোত, ঢেউ এবং পানির গভীরতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকলে গোসলে নামা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে স্রোতের টানে কেউ ভেসে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে অন্যদেরও দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা, সতর্কসংকেত দেওয়া স্থানে পানিতে না নামা এবং উত্তাল সাগরে গোসল থেকে বিরত থাকা জরুরি। কেউ স্রোতে ভেসে গেলে প্রশিক্ষণ ছাড়া সরাসরি পানিতে নেমে উদ্ধার করার চেষ্টা না করে দ্রুত লাইফগার্ড বা জরুরি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নেওয়া উচিত।
পূজার ছুটিতে আনন্দ ভ্রমণে গিয়ে এমন প্রাণহানির ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সৈকতে পর্যাপ্ত নজরদারি, দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

