ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

প্রতি বর্ষায় পাহাড়ধসের একই মৃত্যু ফাঁদ ট্র্যাজেডি: কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

প্রতি বর্ষায়  পাহাড়ধসের একই মৃত্যু ফাঁদ ট্র্যাজেডি: কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান?

ছবিঃ সংগৃহীত

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস, বন্যা ও প্রাণহানি—বাংলাদেশে বর্ষা এলেই যেন এগুলো পরিচিত বাস্তবতায় পরিণত হয়। প্রতিবছরই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে পাহাড়ধসের মর্মান্তিক খবর, সরকারের শোকবার্তা, ত্রাণ কার্যক্রম ও নানা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়, থেকে যায় শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ধসকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন এবং পরিবেশ ধ্বংসের মতো মানবসৃষ্ট কারণও।

ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের পাহাড়গুলো অনেক পুরোনো এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি পাহাড়ের মাটিকে দুর্বল করে দেয়। ফলে সামান্য চাপেই মাটি ধসে পড়ে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয় বা সেখানে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ পরিচালিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ের পাদদেশ সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় স্থানে গাইড ওয়াল বা কংক্রিটের প্রতিরোধব্যবস্থা নির্মাণ এবং পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভূমিধসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

একই সঙ্গে পাহাড়ের ঢাল, চূড়া ও পাদদেশে বসতি স্থাপনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে পাহাড় দখল বা ইজারা দিয়ে বসতি গড়ে তোলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শুধু সরকারের একার উদ্যোগ নয়, পরিবেশ রক্ষা ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এদিকে ভারী বর্ষণের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। অববাহিকা অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকিও।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৯৫টিরও বেশি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। এতে আরও বহু মানুষ গৃহহীন হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর একই ধরনের ট্র্যাজেডি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!