পাবনার আটঘরিয়ায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত একটি মিনি তেলপাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাম্পের দুটি তেলের ট্যাংকি, তিনটি দোকান ও সংলগ্ন একটি ভবনের অংশ পুড়ে গেছে। আগুনে আরও দুটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩১ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মাঝপাড়া ইউনিয়নের পারখিদিরপুর কুমারগাড়ী বাজার এলাকায় তোরাব আলীর মালিকানাধীন মিনি তেলপাম্পে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে আটঘরিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে দাশুড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অনুমোদন ছাড়াই চলছিল তেল বিক্রি
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে তোরাব আলী সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নিজের ভবনের নিচে মিনি তেলপাম্পটি স্থাপন করেন। সেখানে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছিল। পাম্পটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে পাম্পে তেল খালাসের সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন তেলের ট্যাংকি ও আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। তেলের উপস্থিতির কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনে ভস্মীভূত ট্যাংকি ও দোকান
অগ্নিকাণ্ডে মিনি তেলপাম্পের দুটি তেলের ট্যাংকি ও তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পাশাপাশি সংলগ্ন ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় পাশের আরও দুটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, তেলজাতীয় দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় আগুন আশপাশের আরও স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
আটঘরিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মী হাসান আলী বলেন, প্রথমে আটঘরিয়ার দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় দাশুড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের আরও একটি ইউনিট যোগ দেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুমোদনহীন পাম্প নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে প্রায় এক বছর ধরে ওই স্থানে পেট্রোল-ডিজেলের মতো দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা হচ্ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ বাজার এলাকায় তেল সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও একই ধরনের অনুমোদনহীন স্থাপনা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকায় অনুমোদনহীন মিনি তেলপাম্প ও দাহ্য পদার্থের অবৈধ মজুতের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এতে আনুমানিক ৩১ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও পাম্পটির অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

